Jadavpur University Ragging : স্বপ্নভঙ্গের ক্ষত নিয়েই ক্লাস শুরু যাদবপুরের বাংলা বিভাগে – after the death of the student in jadavpur classes start in bengali department on monday


এই সময়: সবে একটামাত্র ক্লাস করেছিলেন যাদবপুরের সেই মৃত পড়ুয়া। গত বুধবার ক্লাস সেরে মাকে ফোন করে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ক্লাস খুব ভালো লেগেছে। তারপর সেই রাতেই তিনি হারিয়ে যান এক রহস্যময় আবহে। তারপর থেকে আর তেমন ক্লাস হয়নি যাদবপুরে। সোমবার সেই বাংলার ক্লাসরুমেই ফের ক্লাস হলো। সেখানে প্রায় সবাই ছিলেন, কিন্তু একমাত্র ছিলেন না সেই ছাত্র, যাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য।

Jadavpur University Ragging: যাদবপুরে কীভাবে চলত ‘ব়্যাগিং’? মুখ খুললেন স্বপ্নদীপের সহপাঠী
সোমবার দুপুরে বাংলা প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা প্রাথমিক আতঙ্ক কাটিয়ে ক্লাসে যোগ দেন। তবে এ দিন কিছু পড়ুয়া অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দা। কেউ কেউ ভয়ে-আতঙ্কে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ৪৫ জন পড়ুয়া এ দিন ক্লাস করেন। প্রত্যেকেরই মুখে কমবেশি আতঙ্ক আর ভয়ের ছাপ। কেউ কেউ এখনও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না গত বুধবারও যে সহপাঠীর সঙ্গে বসে ক্লাস করেছেন, তাঁকে ভালো করে চেনার আগেই সে আর নেই।

Jadavpur University Student: ‘সারারাত জাগিয়ে রেখে চলত ইন্ট্রো…’, যাদবপুর হস্টেলের ‘বিভীষিকা’ নিয়ে বিস্ফোরক প্রথম বর্ষের পড়ুয়া
বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সপ্তক মিস্ত্রি বলেন, ‘গত সপ্তাহে প্রথম ক্লাসে ও আমার ঠিক পিছনেই বসেছিল। কাফি দা’র (অধ্যাপক আব্দুল কাফি) ক্লাস শেষ হওয়ার পর ওকে নাম জিজ্ঞাসা করেছিলাম। নামটুকুই শুধুই বলেছিল। আর কিছু বলেনি।’ সপ্তকের আফশোস, ‘আমরা সে দিন বসেই প্ল্যান করেছিলাম নিজেদের মধ্যে আরও কথাবার্তা বাড়াতে হবে। বন্ধুত্ব করতে হবে। কিন্তু সেই সুযোগ ও দিল না।’

Jadavpur University News : অতীতে র‍্যাগড কি দুই ধৃতও? দাবি ঘিরে ধন্দ
সপ্তকের মতো অনেকেরই বাড়ির লোকজন আতঙ্কিত। কিছু অভিভাবক আবার তাঁদের সন্তানকে বলেছেন যাদবপুর ছেড়ে দিতে। কিন্তু সপ্তকরা সিনিয়রদের হাতে হাত ধরে বার্তা দিতে যান, যাদবপুর মানেই র‍্যাগিং নয়। তাই সপ্তক মা-বাবাকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি যাদবপুরেই পড়বেন। পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের অনেকেই বলছেন, একটি মৃত্যু নিয়ে শোকের আবহে কিছু মানুষ এমন রয়েছেন, যাঁরা কেবল একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকেই টার্গেট করে চলেছেন। অথচ যাদবপুরে ছাত্রের মৃত্যুর পরপরই বিচার চেয়ে সবার আগে রাস্তায় নামেন যাদবপুরের শিক্ষক, পড়ুয়া, কর্মীরাই। তাই মুড়ি আর মিছরিকে এক করে যেন দেখা না হয়, সার্বিক ভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকেই যাতে টার্গেট করা না হয়, সেই আবেদন করেছেন তাঁরা।

Jadavpur University News : হস্টেল থেকে ঝাঁপ! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ার মৃত্যুতে রহস্য
এ দিন যাদবপুরের বাংলা বিভাগে দুটি ক্লাস হয়। প্রথম ক্লাসটি নেন অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহা, দ্বিতীয় ক্লাসটি নেন অধ্যাপক অনন্যা বড়ুয়া। রাজ্যেশ্বরের কথায়, ‘ব্যাচমেটকে হারিয়ে ওঁরা অনেকেই এখনও আতঙ্কিত, ভীত। সেই কারণে আমরা ওদের বেশি পড়াশোনার উপর চাপ দিচ্ছি না। ওদের সঙ্গে গল্পই করছি বলা চলে।’ পাশাপাশি এই পড়ুয়াদের হাতে কাউন্সেলিং সেন্টারের হেল্পলাইন নম্বরও এ দিন দেওয়া হয়েছে। এই ক্লাসে পথের পাঁচালির অপুকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *