শনিবার এক চিত্রকলা প্রদর্শনীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘নক্কারজনক। জাস্ট ভাবতে পারা যায় না। র্যাগিং হয় জানতাম, তা বলে এরকম! এটা ভাবা যায় না। একটা ছেলে ১০৪ থেকে ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বর রুম থেকে বাঁচার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে… আর প্রত্যেক অ্যাঙ্গেলেই ছেলেদের দল তাঁকে আটকাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একেবারে অসহায়…। যেভাবে বাঘ, হায়েনা বা বুনো কুকুররা নিরীহ হরিণ ছানাকে মারতে ঘিরে ধরে, সেরকম আচরণ করা হয়েছে ছেলেটির সঙ্গে। লজ্জাজনক।’
বিধায়ক তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, না আমার ছাত্রজীবনে এরকম কোনও খারাপ ঘটনা ঘটেনি। দু-একটা হয়ত হয়েছে তবে এমন না। বরং তখন দুর্গাপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে খুব হত। আমি গেলেই শুনতাম। পরিচিতরা ভয়াবহ অভিজ্ঞতা শোনাত। তখন শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও দু-একটা ঘটনা ঘটেছে শুনেছি, তবে এমন নয়। ভীষণই খারাপ। বোধহয় এটাই হওয়ার ছিল। বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছল যে এক ছাত্রের প্রাণ গেল। তাঁর প্রাণের বিনিময়ে এবার বন্ধ হওয়ার সময় এসেছে।’
এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকেও নিশানা করেন চিরঞ্জিৎ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে রাজ্যপাল সেখানে একজনকে মাঝে হঠাৎ করে ভাইস চ্যান্সেলার হিসেবে বসিয়ে দিল। আবার ১০ দিন পরে সরিয়ে দিল। আবার একজনকে শুনছি নিজের লোক ওখানে বসিয়ে দিয়েছে। তাঁর মাঝেই এইসব হয়েছে।’ এখানেই শেষ নয়, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের উদ্দেশে ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে তিনি বলেন, রাজ্যপাল পুরো ক্ষ্যাপা। রেলওয়ে ব্রিজ ভাঙল। শ্রমিকরা মারা গেল আর টাকা দিতে উনি পৌঁছে গেলেন। টাকা দিতে তো ওঁর যাওয়ার কথাই না! রেলওয়ের টাকা ওঁর হাতে এল কী করে? প্রথম দিকে বাংলায় হাতে খড়ি করে বাংলা শিখছিলেন ছাত্রের মতো। তারপর এমন পালটি খেলেন যে আর ধরা যাচ্ছে না। মোদী, অমিত শাহও যা করবেন না, উনি বিজেপির জন্য তাই করছেন। এত পার্টি প্রেম বোধহয় আর কারও নেই।’
