অনেকে ধরছেন অন্য রুট। ভরসা বলতে বাস, মিনিবাস। তারাও অবরোধ-বিক্ষোভ-জ্যাম কাটিয়ে কতক্ষণে যাদবপুর চত্বর পেরোয়, তার ঠিক থাকছে না।পরিস্থিতি এমনই যে যাদবপুরের নাম শুনলে ট্যাক্সি-চালকরা মুখ ফেরাচ্ছেন। যাদবপুর দিয়ে একাধিক রুটের অটো চলাচল করে। ঝামেলা এড়াতে অটো-চালকরা পুরো রুটে চলাচল করছেন না।
গড়িয়া-গোলপার্ক রুটে গড়িয়া থেকে কেপিসি, যাদবপুর ৮বি বা বড়জোর বেঙ্গল ল্যাম্প পর্যন্ত গিয়ে ইউ টার্ন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আর গোলপার্ক থেকে অটো কার্যত মিলছেই না। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে যাদবপুর, ঢাকুরিয়া, গোলপার্ক ও গড়িয়াহাট মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উপর। ক্রেতারা পৌঁছতে না পারায় কেনাকাটা গিয়েছে কমে। সব মিলিয়ে যাদবপুর এখন অনেকের কাছেই ‘আতঙ্কপুর’।
শনিবার দুপুরে স্কুল ছুটির পর গড়িয়াহাট থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন যাদবপুর সেন্ট্রাল পার্কের বাসিন্দা অনিমেষ বসু। তাঁর কথায়, ‘এক ট্যাক্সি চালককে যাদবপুর সেন্ট্রাল পার্ক যাব বলতেই সঙ্গে সঙ্গে মানা করে দিলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করায় জানালেন, ওখানে ঢুকলে নাকি ফেঁসে যাবেন।’
নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা, পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি স্কুলের কর্মী সুরজিৎ মণ্ডল বাইকে চেপে যাদবপুরের উপর দিয়ে যাওয়া আসা করতেন। এখন তিনি বাইপাস দিয়ে আনাগোনা শুরু করেছেন। সুরজিতের কথায়, ‘যাদবপুর যতদিন না শান্ত হচ্ছে, ততদিন আর ওদিক দিয়ে যাব না।’
যাদবপুর ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক চন্দন সরকার বলেন, ‘করোনার পর থেকে এমনিতেই ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ। তার মধ্যে যাদবপুরে ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোজ রাস্তা বন্ধ করে মিটিং-মিছিল। সারাক্ষণ পুলিশের বড় বড় ভ্যান দাঁড়িয়ে। সে সব দেখে লোকজন বাজারে আসতে ভয় পাচ্ছেন। বেশ ক’দিন হলো দোকানে খদ্দের প্রায় পাচ্ছিই না।’
গোলপার্ক-গড়িয়া ড্রাইভার অ্যান্ড অপারেটর্স ইউনিয়নের সম্পাদক দেবরাজ ঘোষ বলেন, ‘বিকেলে যখন প্যাসেঞ্জার বেশি হয়, তখনই যত মিটিং-মিছিল। ফলে যাত্রীদের যেমন হয়রানি হচ্ছে, তেমনই অটো চালকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’ তাঁর দাবি, ঘুরপথে অটো চালানোর অনেক সমস্যা। রাস্তা বেড়ে গেলে তেল-গ্যাস বেশি খরচ হবে। আবার পাড়ার ভিতর দিয়ে গেলে সেখানকার বাসিন্দারা আপত্তি জানান।
কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি? টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু এত বড় সামাজিক অপরাধ দেখে চুপ করে বসেও থাকতে পারি না। একজন সচেতন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটা আমাদের নৈতিক কর্তব্য।’
এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘যাঁরা অসুবিধায় পড়ছেন, তাঁদের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে প্রথাগত মিটিং-মিছিলের বাইরে মানুষের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প রাস্তা আছে বলে আমাদের অন্তত জানা নেই। থাকলে নিশ্চয়ই সেটা অনুসরণ করতাম।’ আর বিজেপি যুবনেতা শঙ্কুদেব পান্ডার কথায়, ‘মানুষের যাতে অসুবিধা না হয়, সেটা পুলিশের দেখা উচিত।’
