Bharatiya Janata Party : পাখির চোখে ধূপগুড়ি, জেতা আসন দখলে মরিয়া গেরুয়া শিবির – bjp is desperate to win seats in the dhupguri assembly constituency by election


এই সময়: যত কাণ্ড ধূপগুড়িতে! অন্তত রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার উত্তরবঙ্গের ওই মফস্বল শহরের বাইরে আর কোনও বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। বিজেপি সভাপতির সামনে এখন কঠিন লড়াই। তাঁর নেতৃত্বেও বিজেপি জিততে পারে, লোকসভা ভোটের আগে সেটা দিল্লির কাছে প্রমাণ করতে মরিয়া সুকান্ত।

২০২১-এর সেপ্টেম্বরে সুকান্ত রাজ্য সভাপতির চেয়ারে বসার পর এখন পর্যন্ত রাজ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন হয়েছে। ভবানীপুর, দিনহাটা, শান্তিপুর, খড়দা, গোসাবা, বালিগঞ্জ এবং সাগরদিঘি। একটিতেও বিজেপি জিততে পারেনি। বরং এর মধ্যে অনেকগুলিতে ভোট-শতাংশের নিরিখে বামেদেরও পিছনে চলে গিয়েছেন পদ্ম-প্রার্থীরা। বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন ছাড়াও সুকান্তর জমানায় পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটও হয়েছে রাজ্যে।

Dhupguri By Election 2023 : উপনির্বাচনের আগেই ধূপগুড়িতে তৃণমূলে ধাক্কা, বিজেপিতে যোগ মিতালী রায়ের
সেখানেও দাগ কাটতে পারেনি বিজেপি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ না করলেও রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতির যোগ্যতা নিয়ে বিজেপির অন্দরে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ধূপগুড়ির উপ-নির্বাচন সুকান্তকে ফের পরীক্ষায় বসতে হবে। চলতি মাসের ৫ তারিখ সেখানে ভোট। ফল প্রকাশ হবে ৮ তারিখ। প্রচার শেষ হবে সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

সূত্রের খবর, ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে রাজ্য বিজেপির ক্ষমতাসীন শিবিরের উপর। এমনিতে ধূপগুড়ি কেন্দ্রটি বিজেপির জেতা আসন। কিন্তু সেই আসনটি হাতছাড়া হলে সুকান্তর নেতৃত্ব ফের একবার প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়বে। এবং দলের অন্দরে তাঁর বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র আসবে নিঃসন্দেহে। সেক্ষেত্রে, তাঁর বিরোধী শিবিরই প্রশ্ন তুলবে, যিনি সভাপতি হওয়ার পর আটটি উপ-নির্বাচনের একটিতেও দল জিততে পারেনি, বাংলায় তাঁর নেতৃত্বে লোকসভা ভোট লড়া কতটা যুক্তিযুক্ত হবে?

Abhishek Banerjee : বাম-কংগ্রেস নয়, অভিষেক-তিরে বিজেপি
অগস্টের ২৯ তারিখ থেকে সুকান্ত সপারিষদ ধূপগুড়িতে ঘাঁটি গেড়েছেন। প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সেখানেই থাকবেন বলে আপাতত ঠিক আছে। দু’বেলা স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে নিজে ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। তবে সুকান্ত একা নন, ধূপগুড়িতে তাঁর সঙ্গে তাল ঠুকতে আস্তানা গেড়েছেন বঙ্গ-বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীও।

কারণ, সুকান্ত-অমিতাভ দু’জনেই উত্তরবঙ্গের নেতা। এবং এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের শক্তি বেশি। লোকসভা ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতেই যদি বিজেপিকে জেতা আসন হারাতে হয় তবে তার অভিঘাত গোটা রাজ্যেই পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও তাই নজর ধূপগুড়ি উপ-নির্বাচনে কী ফলাফল হয় সেদিকে।

Bengal BJP : সংগঠনে কী পারফরম্যান্স, বিজেপির স্ক্যানারে চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ভূমিকা!
সুকান্ত-অভিতাভর এই লড়াইয়ে ‘পাশে আছি’ বার্তা দিতে বঙ্গ-বিজেপির তাবড় নেতাদের ধূপগুড়িতে ভোট প্রচারে যেতে দেখা গিয়েছে। দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শান্তনু ঠাকুর ছাড়াও অন্তত জনা কুড়ি বিধায়ক সেখানে জনসভা করে এসেছেন। শনি-রবি শেষ দু’দিনের প্রচারে দিলীপ ঘোষও মাঠে নেমেছেন। সম্প্রতি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও ধূপগুড়িতে দু’দিন প্রচার করেছেন।

তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওই সময় সুকান্তও ধূপগুড়িতে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের একটিও যৌথ সভা করতে দেখা যায়নি। যেমন, শনিবার এক মঞ্চে দেখা যায়নি সুকান্ত-দিলীপকেও। রাজ্য বিজেপির এক প্রবীণ নেতার কথায়, ‘আসলে গোড়ায় গলদ। রাজ্য সভাপতির কাজ উপ-নির্বাচনের ভোট প্রচারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করা নয়। গোটা দলকে একসুতোয় বেঁধে রাখা। সেটা যতদিন না হচ্ছে, ততদিন বিজেপিও এ রাজ্যে সাফল্যের মুখ দেখবে না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *