কী ঘটনা ঘটেছে?
ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ৮ বছর পর পারিবারিক পেনশন পেলেন ৭০ শতাংশ প্রতিবন্ধী দেবাশিস মজুমদার। বকেয়া প্রায় ১২ লাখ টাকা ফেরত পেলেন তিনি। ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবা এলাকার হরতকিতোলার বাসিন্দা ৬৩ বছরের দেবাশিস মজুমদার। জন্ম থেকেই তিনি প্রতিবন্ধী। বাবা-মায়ের উপর ভরসা করেই তিনি বড় হয়ে উঠেন। তারপর সংসার জীবনও শুরু করেন তিনি। নিজের অর্থ উপার্জনের ক্ষমতা না থাকলেও বাবা-মায়ের উপর ভরসা করে চলতো তার সংসার।
বকেয়া ছিল পেনশন
বাবা রামদুলাল মজুমদার ঝাড়গ্রাম মহকুমা ভূমি ও সংস্কার দফতরের আধিকারিকের পদে কর্তব্যরত ছিলেন। চাকরি জীবন থেকে তিনি অবসর নেন ১৯৯৮ সালে। তারপর থেকে রামদুলাল বাবুর পেনশনের টাকার উপরেই চলতো সংসার। ২০১২ সালে গত হয় রামদুলাল মজুমদার। রামদুলাল বাবুর স্ত্রী শোভনা দেবী রামদুলাল বাবুর পেনশন পেতে শুরু করেন। শোভনা দেবী ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গত হন।
ভাগ্য ফিরল আইনি সচেতন শিবিরে
ঝাড়গ্রাম শহরের ফেডারেশন হলে একটি আইনি সচেতনতা শিবিরে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। আইন সম্পর্কে বক্তব্য রাখছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক সুনীল কুমার শর্মা। বিচারকের বক্তব্য শেষে ওঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেবাশিস তাঁর জীবনের সমস্যার কথা জানান । তারপরেই নানা আইনি জটিলতা কাটিয়ে প্রায় এক বছরের মাথায় দেবাশিসের পারিবারিক পেনশন চালু করে দেন বিচারক সুনীল কুমার শর্মা।
ফেরত পেলেন বকেয়া টাকা
কেবল পেনশন চালু নয় বিগত আট বছরের বকেয়া পেনশনের টাকা ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬ টাকা দেবাশিস বাবুকে পাইয়ে দেওয়া হয়। সোমবার ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের অফিসে দাঁড়িয়ে দেবাশিস চোখে আনন্দের অশ্রু নিয়ে বলেন,’আমি কখনোই ভাবিনি যে আমি আমার পেনশন চালু করতে পারব। সামনে মেয়ের বিয়ে। রাত্রে চিন্তায় ঘুমোতে পারতাম না। কিন্তু মেয়ের বিয়ের আগে আমার জীবনের এটাই সবচেয়ে বড় পাওনা। উনি ( বিচারক ) আমার কাছে ভগবান।”
বিচারক সুনীলকুমার শর্মা কী বললেন?
ঝাড়গ্রাম জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব তথা বিচারক সুনীলকুমার শর্মা বলেন ‘২০২২ সালের ১৮ অগাস্ট বিশেষ ভাবে সক্ষম বৃদ্ধ আমাদের অফিসে এসে লিখিত ভাবে আবেদন করে জানিয়ে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পারিবারিক পেনশন চালু করতে পাচ্ছেন না। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা একটি প্রি-লিটিগেশন মামলা রুজু করি। তারপর বিভিন্ন সরকারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওঁর পারিবারিক পেনশন চালু করা সম্ভব হয়েছে। মাসিক পেনশন ১৫ হাজার ২৭৭ টাকাও চালু হয়েছে। বিশেষ ভাবে সক্ষম বৃদ্ধকে আমরা বিনামূল্যে এই পরিষেবা দিতে পেরে আমরাও খুশি।
