Saktigarh Langcha : ফের চালু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের মিষ্টি হাব? তৎপর প্রশাসন, তবু সমস্যা সেই… – bardhaman misti hub on nh 2 may be reopen again


এক সময় রাজ্যের অন্যতম প্রধান তথা বড় জেলা ছিল বর্ধমান। পরবর্তীতে জেলা ভেঙে পূর্ব ও পশ্চিম, দুই ভাগে বর্ধমানকে বিভক্ত করে রাজ্য প্রশাসন। আর পূর্ব বর্ধমান বলতে প্রথমেই যে বিষয়গুলি মনে পড়ে তার মধ্যে অন্যতম সেখানকার মিষ্টি। একদিকে যেমন শক্তিগড়ের ল্যাংচা, অন্যদিকে বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানা। বর্ধমানে মানে গেলে ল্যাংচা, সীতাভোগ বা মিহিদানা চেখে দেখেন না, এমন মানুষ খুবই কম। জেলার বহু মানুষের রুজি-রোজগার জড়িয়ে এই মিষ্টান্ন ব্যবসার সঙ্গে।

উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী
২০১৭ সালে আসানসোলে জেলা ভাগের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বামচাঁদাইপুরে তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প মিষ্টি হাবের উদ্বোধন করেন। সেই সময় ১০টি স্টল ছিল। এরপর ২০১৮ সালে হাবটিকে দোতলা করা হয়। স্টলের সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে হয় ২৫। তার মধ্যে নীচের তলায় ১০টি এবং ওপরের তলায় ১৫ টি। শুরুতে ভালো সাড়া পাওয়া গেলেও, পরে ধীরে ধীরে ভিড় কমতে শুরু হল। ফলে মিষ্টি হাবের দোকানগুলি কার্যত ধুঁকতে থাকে। একটা সময় মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের মিষ্টি হাব কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

Kolkata Street Food : হংকংয়ের ধাঁচে গড়ে উঠবে মহানগর! কলকাতায় প্লাস্টিক ফ্রি স্ট্রিট ফুড হাব
পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্পকে নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও আসে বাধা! বৈঠকের পরেও কয়েকজন দোকান খুলতে রাজি হলেও বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ছিল, জাতীয় সড়কের ধারে ল্যাংচার দোকানগুলিতে যেমন ভিড় হয়, তার ছিটেফোঁটাও হয় না মিষ্টি হাবে। সুতরাং লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না তাঁরা। এই বিষয়ে তাঁরা জেলাশাসক ও মহকুমাশাসকের (উত্তর) দ্বারস্থও হন। স্মারকলিপি দিয়ে নিজেদের অসুবিধার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।

Street Foods In Kolkata : কলকাতার এই জায়গায় তৈরি হচ্ছে প্রথম ফুড স্ট্রিট, কী কী খাবার পাবেন?
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক চাপে পড়ে তাঁদের মিষ্টি-হাব খুলতে হয়, কিন্তু প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রতিশ্রুতি মতো কোনও কাজ করেননি। এতে বারবার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে মিষ্টি হাবের ব্যবসায়ীদের। এরপর মিষ্টি হাব পুনরায় খোলার বিষয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়েও বিশেষ বৈঠক হয়। কিন্তু তাতেও কোনও ফল হয়নি। বন্ধ হয়ে পড়েই থাকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধন করা মিষ্টি হাব। এককথায় বলতে গেলে এই সময়ের মাঝে একাধিকবার চালু ও বন্ধ হয় মিষ্টি হাব।

এরপর ২০২২ সালে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়ে জেলা প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ফের মিষ্টি হাব খোলার পরিকল্পনা করে। সেই সময় কার্যত পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের চাপে পড়েই খোলা হয় দোকানগুলো। নির্দেশ না মানলে সেই দোকানগুলি অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। তারপরেই ২৫টির মধ্যে মাত্র ৫টি দোকান খুলে পুনরায় চালু হয় মিষ্টি হাব। যদিও আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।

‘বোঁদে গুজিয়া তৈরি করুন! ক্ষীরের গজাও চমৎকার খেতে’!


যা বলছে প্রশাসন…

তবে এবার তা আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে মহকুমা শাসক (উত্তর) তীর্থঙ্কর বিশ্বাস জানিয়েছেন, মিষ্টি হাব পুনরায় খোলার জন্য অগাস্ট মাসে টেন্ডার দেওয়ার জন্য একটি বৈঠক করা হয়। তবে প্রশাসনিকভাবে প্রক্রিয়া জারি থাকলেও বন্ধ হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত পুনরায় চালু করা যায়নি মিষ্টি হাব। আর যদি পুনরায় চালু হয়, তাহলেও কতোদিন খোলা থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে জেলাবাসীর মধ্যে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *