Calcutta High Court : প্যানেলে বাদ, তবু সরকারি মামলা লড়েছেন আইনজীবী – excluded from the panel lawyer fought the government case


এই সময়: সরকারি প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন কয়েক মাস আগেই। অথচ সেই আইনজীবীই বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে নথি নিয়ে সরকারের হয়ে হাইকোর্টে মামলায় দাঁড়াচ্ছেন! হাতেনাতে এমন প্রমাণ পেয়ে হতবাক বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি সব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। এমন আইনজীবীদের একটা চক্র কাজ করছে বলেও নিশ্চিত আদালত।

মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চ এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসক, রাজ্যের লিগাল রিমেমব্রান্সার-সহ বহু অফিসারকে তলব করেছিল। বুধবার দীর্ঘ শুনানিতে রাজ্যের তরফে ব্যবস্থার আশ্বাস ও বর্ষীয়ান আইনজীবীদের অনুরোধের পর কোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেও আর কোনও পদক্ষেপ করেনি।

Fire Brigade Recruitment : দমকলে নিয়োগে গলদ! ২৫ ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ হাইকোর্টের
সরকারি কাজে জমি অধিগ্রহণের জন্যে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিয়ে মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে এসেছে রাজ্য। সেই মামলাতেই এ দিন আদালতে হাজির সরকারি অফিসারদের বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কী করে একজন আইনজীবী ১১ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন, যিনি প্যানেলেই নেই? তাঁকে কি মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল?

রাজ্যের কৌঁসুলির প্রতি আদালতের বক্তব্য, এটা ওপেন ফ্রড। এটা কী করে জাস্টিফাই করবেন? তার মানে জুডিসিয়াল অফিসার ফ্রডে অভিযুক্ত। এঁদের সবার পুলিশি হেফাজতে জেরা হওয়া উচিত। এটা কোর্টের সঙ্গে প্রতারণা। অভিযুক্ত আইনজীবীকে আদালতের হুঁশিয়ারি, আপনার এই কাজের জন্যে দু’জন বিচারবিভাগীয় অফিসারের চাকরির ভবিষ্যতও অনিশ্চিত।

ধর্মতলা থেকে সরবে বাসস্ট্যান্ড! হাইকোর্টে ‘প্ল্যানিং রিপোর্ট’ রাজ্যের
রাজ্যের কৌঁসুলি বলেন, এলআর বিভাগ বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেছে এই ভাবে মামলা দায়ের না-করতে, সব আইনজীবীদের মধ্যে প্রচারের জন্যেও। তিনি এক সিনিয়র আইনজীবীর নাম জানিয়ে বলেন, দপ্তর থেকে তিনি সরকারি প্যানেলে আছেন ধরে নিয়ে তাঁকে মামলা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তিনিই জুনিয়র আইনজীবীকে সই করতে বলেন।

এর পরে রাজ্য আদালতকে আশ্বস্ত করে, রাজ্য ব্যাবস্থা নেবে ওই আইনজীবী-সহ যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে। বিতর্কিত সব মামলা তুলে নিয়ে নতুন করে মামলা করারও অনুমতি চাওয়া হয় সরকারের তরফে। বিচারপতি বসাক বলেন, এটা নতুন নয়, এর আগে এমন বেশ কিছু মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যেখানে এমন বেআইনি যোগ আছে বলে এখন বোঝা যাচ্ছে। জাতীয় সড়কের জমি অধিগ্রহণ মামলায় এমন ঘটেছে।

Calcutta High Court : পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভাগ্য কোনদিকে? হাইকোর্টের বড় ঘোষণা ২১ সেপ্টেম্বর
এখন মনে হচ্ছে সেই জেলাশাসকের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা উচিত। অন্তত ৩১টি মামলা এখানেই আছে, তার বাইরে সিঙ্গল বেঞ্চে এমন কত মামলা আছে! মঙ্গলবার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, এই চক্রে নিশ্চিত ভাবে আর্থিক লেনদেনও যুক্ত। না হলে কেনই বা কেউ এমন বেআইনি কাজ করবেন!



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *