‘সাকো চো’ ফেটে গেলে ডুয়ার্স পর্যন্ত অংশ ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। কারণ হড়পা বানের কারণে আচমকা জলস্ফীতি হলে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতেও তার প্রভাব পড়বে। সেই নদীগুলির বিপদসীমা ছাপিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নিয়ে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। পর্যটকদের মধ্যেই পুজোর আগে এই নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সাউথ লোনক হ্রদ বিপর্যয়ে এখনও অবধি সিকিম ও বাংলার ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিপর্যয়ে হাজার হাজার কোটির সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং গোলে। সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জলের চাপে যে কোনও মুহূর্তে ফেটে যেতে পারে ‘সাকো চো’ হ্রদ। সেই কারণে হ্রদ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে লাচেন উপত্যকার থাঙ্গু, চেলা ও ইয়াংথং গ্রামগুলির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাপ আবহাওয়ার কারণে লাচেনে আটকে থাকা পর্যটকদের এখনও উদ্ধার করা যায়নি। এই অবস্থার মধ্যে বাংলার পূর্ত দফতরের কর্তাদের আশঙ্কা তিস্তার জল নামলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সিংহভাগ অংশ ভেঙে পড়বে।
প্রত্যেকবার পুজোয় অনেক পর্যটক উত্তরবঙ্গে বেড়াতে যান। ডুয়ার্সের জঙ্গল তাঁদের কাছে অন্যতম সেরা গন্তব্য। ইতিমধ্যে পর্যটকদের বুকিং হয়ে গিয়েছে। তার আগে এই খবর পর্যটকদের মনের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। আদৌ ডুয়ার্স যাওয়া নিরাপদ কি না, বুঝে উঠতে পারছেন না পর্যটকরা।
রূপসা চক্রবর্তী নামে তথ্য প্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত এক পর্যটক বলেন, ‘সিকিমের পরিস্থিতি দেখে মনে ভয় ধরে গিয়েছে। তারপর এই খবর শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই মনে ভয় ধরবে। কারণ পুজোয় ডুয়ার্সে ঘুরতে যাব বলে ভেবেছিলাম। এখন এই খবর শোনার পর আদৌ যাওয়া হবে কি না জানি না। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষমতা কারও নেই।’
ফলো করুন এই সময় ডিজিটাল : https://whatsapp.com/channel/0029Va9zh58Gk1Fko2WtDl1A