Kolkata Police,ডুয়ার্স কলিং! আপনার পোস্টই সিঁদ কাটার কল – cyber experts are saying not to upload travel pictures on social media instantly


চিত্রদীপ চক্রবর্তী
পুজোর ছুটিতে সপরিবারে বেড়াতে যাচ্ছেন, ভালো খবর। কিন্তু আনন্দের আতিশয্যে সেই খবর পাঁচ কান করার কোনও প্রয়োজন নেই। বাক্সপ্যাঁটরা বেঁধে সোশ্যাল মিডিয়ায় অফ টু গোয়া, কিংবা ডুয়ার্স কলিং লিখে প্রোফাইলে পোস্ট করাও আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিকে এভাবেই সতর্ক করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, ‘বাইরে ঘুরতে গিয়ে সেখানকার ছবি পোস্ট কিংবা লাইভ করাটাও বুদ্ধিমানের মতো কাজ নয়। কারণ, একদল সাইবার মাফিয়া বসে রয়েছে আপনার এই ভুলগুলির ফায়দা তুলতে।’

মনে হতেই পারে, নিজের খুশি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করায় সমস্যা হবে কেন? এই প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাইবার বিশারদরা। তাঁদের যুক্তি, ‘আপনি পরিবারের সকলকে নিয়ে বেশ কিছুদিনের জন্য বাইরে থাকছেন, এটা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জেনে গেলে নিজেদের অস্ত্র প্রয়োগ করবে প্রতারকেরা। বিভিন্ন ভাবে সিঁদ কাটবে তারা।’

সেটা কেমন? ধরা যাক, আপনি রাজ্যের কোনও পাহাড়ি এলাকা অথবা ভিন রাজ্যে রিল্যাক্স মুডে রয়েছেন। জমিয়ে ছুটি উপভোগ করছেন, সেই তথ্য জানিয়েও দিয়েছেন নিজের স্ট্যাটাসে। আর সেখান থেকে আপনার ছবি নিয়ে সাইবার মাফিয়া ক্লোন করেছেন আপনার প্রোফাইল। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধু বানিয়ে নিয়েছেন অলরেডি আপনার বন্ধুবৃত্তে থাকা আরও কয়েকজনকে।

এরপর দেরি না করে মেসেঞ্জারে তাঁদের পাঠিয়ে দিয়েছেন বার্তা, ‘বাইরে এসে সমস্যায় পড়েছি। কিছু টাকা প্রয়োজন। আপাতত হাজার পনেরো টাকা নীচে দেওয়া নম্বরে পেটিএম অথবা গুগল পে করে দিলে উপকার হয়। ফিরে গিয়ে দ্রুত টাকাটা ফেরত দিয়ে দেব।’

Credit Card Frauds : ব্যাঙ্ক থেকে টাকা গায়েবের দিন শেষ! ক্রেডিট কার্ড প্রতারণায় খোয়া অর্থ ফেরত পেলেন মহিলা
এতেই হয়ে যাবে কাজ। দশ জনও যদি এই অনুরোধে সাড়া দেন, তা হলেই দেড় লক্ষ কামাতে খুব একটা পরিশ্রম করতে হবে না ঠগেদের। এটাই অবশ্য একমাত্র বিপদ নয়। কল স্পুফিং (কেউ অন্য নম্বর থেকে কল করলেও যেখানে আপনার নম্বর দেখাবে)-এর মাধ্যমে আপনার কোনও পরিচিতকে ফোন করে একই কায়দায় টাকা চাওয়া হতে পারে।

সম্প্রতি গোয়া পুলিশ এমন একটি চক্রের হদিশ পেয়েছে, যাঁরা একই সঙ্গে সাইবার প্রতারণা করে এবং বিভিন্ন শহরে ঘুরে ঘুরে ফাঁকা বাড়িতে চুরির অপারেশনও চালায়।

এই দলের মোডাস অপারেন্ডি কী?

চক্রের ধৃত সদস্যরা পুলিশকে জানিয়েছে, এই দলের প্রত্যেক সদস্যের নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে৷ বিভিন্ন শহরের কয়েক হাজার বাসিন্দা এদের ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছেন৷ এই বিরাট চেনের মাধ্যমেই সারা বছর ধরে অপরাধীরা জানতে পারে কোন শহরের কে, কোন জায়গায় গিয়েছেন৷ এরপর শুরু হয় আসল খেল।

ধরা যাক, এই দলটি যাদবপুরের কোনও পরিবারের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার হদিশ পেয়েছে পাবলিক করে রাখা সোশ্যাল প্রোফাইলে৷ এ ক্ষেত্রে তারা বাড়ির কোনও সদস্যের প্রোফাইলে গিয়ে দেখবে, সেখানে ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে কি না৷ যদি দেওয়া থাকে, তবে ফোনে কোনও সংস্থার নাম করে বলা হবে, আপনার নামে একটি চিঠি এসেছে৷ সেটি পৌঁছতে যেতে হবে, ঠিকানাটা বলুন৷ বেড়ানোর মুডে থাকা বাড়ির লোকেরা কোনও রকম প্রশ্ন না করে নিজেদের ঠিকানা বলে দেবেন সহজে৷ এর পর কাছাকাছি কোনও শহরের দল পৌঁছে যাবে নির্দিষ্ট ঠিকানায়৷ রেইকির পরে মসৃণ অপারেশন করে শহর ছেড়ে গা ঢাকা দেবে অন্য কোথাও।

Tech Tips : অনলাইন ফ্রডের ফাঁদে পড়েছেন? খোয়া গিয়েছে টাকা? সরকারি পোর্টালে অভিযোগ জানাবার সহজ উপায় জানুন
পুলিশ জানতে পেরেছে, ফোন নম্বর ফেসবুকে না পেলে ওই পরিবারের কোনও সদস্যের ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা কাউকে বার্তা পাঠায় প্রতারকেরা, ‘ওরা বাইরে গিয়েছেন৷ কিন্তু আমার প্রয়োজন, তাই ওদের ঠিকানা বা নম্বর দিলে খুশি হব৷’ এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি কেউ তা সন্দেহের চোখে দেখেন না৷ ফলে খুব সহজেই পাওয়া যায় বাড়ির হদিশ৷

সাইবার বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘ঘুরতে যাবেন অবশ্যই। তবে সামান্য কয়েকটি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তাহলে আর বেড়ানোর আনন্দ মাটি হবে না।’ কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, পুজোতে বেশিদিনের জন্য বেড়াতে গেলে স্থানীয় থানাতে জানাতে পারেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *