Cartoonist Amal Chakraborty : চতুর্থীর দিন চরম দুঃসংবাদ, প্রয়াত কার্টুনিস্ট অমল চক্রবর্তী – cartoonist amal chakraborty passes away on choturthi


‘অমল আলোয়’-য় বাঙালির মুগ্ধতা ছিল-আছে-থাকবে। দেশ-দুনিয়ার রাজনৈতিক বিষয় তিনি তুলে ধরতেন তাঁর কার্টুনের মাধ্যমে। কিন্তু, পুজোর আগে চরম দুঃসংবাদ। প্রয়াত কার্টুনিস্ট অমল চক্রবর্তী। অ্যানাবেল করাচিরা যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন গত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তা লালন পালন করেছেন অমল চক্রবর্তী। তাঁর কার্টুনের ধার বহু মানুষকে ভাবিয়েছে। অমল চক্রবর্তীর চলে যাওয়ায় কার্যত শোকস্তব্ধ ভক্তরা।

তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তিও কমেছিল। কিন্তু, কার্টুনের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি অমল চক্রবর্তী। চোখে চশমা লাগিয়ে তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছেন। একাধিক বাংলা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

পরিবার সূত্রে খবর, কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। আচমকাই কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাঁকে তড়িঘড়ি আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চতুর্থীর দিন শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মূলত রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাকেই তিনি তাঁর কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরতেন। তাঁর কার্টুন ‘অমল আলোয়’ প্রকাশিত হত সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকায়। এছাড়াও তিনি অমৃতবাজার পত্রিকা, যুগান্তর এবং আনন্দবাজার পত্রিকায় কার্টুন এঁকেছেন।

পুজোর আগে অমল চক্রবর্তীর চলে যাওয়াটা মানতে পারছেন তাঁর শিল্প অনুরাগীরা। কার্টুনিস্ট উদয় দেব শোকপ্রকাশ করে বলেন, “এগিয়ে ভাবার মগজগুলোর একটাই সমস্যা যে তাঁদের ভাবনা চিন্তা ছুঁতে সমাজের ১০০ বছরের বেশি সময় লাগে। অমল চক্রবর্তী দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে কাজ করেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ৯০ বছরে পা দেন। সুস্থই ছিলেন। পায়ের একটি সমস্যা হয়। এরপরেই হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “বিছানায় শুয়ে শুয়েও তিনি মজা করতেন। আদ্যোপ্রান্তে একজন রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট হলে যা হয়।” ‘এসেছি পৃথিবীতে, যদি মরতেই হয় কার্টুনিস্ট হয়ে মরব’, এই মন্তব্যকে স্মরণ করছেন একাধিক মানুষ। তাঁর চলে যাওয়ায় একটি যুগের অবসান হল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

পকেট কার্টুনকে মানুষের কাছে নতুন ভাবে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি। বিশেষ করে গ্রামবাংলাকে। তাঁর শিল্প এবং সৃষ্টিতে বছরের পর বছর সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা এবং বাঙালি। নেটপাড়ায় শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর ভক্তরা। এক নেটিজেন লিখেছেন, “আজ একটা যুগের অবসান হল। বাংলা শিল্প জগতের অপূরণীয় এক ক্ষতি। শেষ প্রদীপটাও নিভে গেল।”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *