kolkata Coal Mine : ফের খুলল কলকাতার কয়লাখনি! – kolkata coal mine reopened today


কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯৮৩ থেকে ২০২৩ — টানা ৪০ বছর নির্বিবাদে চলার পর কয়েকদিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল কলকাতার একমাত্র কয়লা খনিটা। বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজ়িয়মের (বিআইটিএম) এই কয়লা খনির আধুনিকীকরণের প্রয়োজন আবশ্যিক হয়ে পড়েছিল বলে মনে করেন বিআইটিএম কর্তৃপক্ষ। সেই কারণেই কয়েক মাস বন্ধ ছিল এই খনি।

শেষ পর্যন্ত আজ, বুধবার স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহীদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে খনিটা। কয়লাখনির মধ্যে কেমন পরিবেশে কাজ করেন শ্রমিকরা? ভূগর্ভে জমে থাকা কয়লার স্তর হাতুড়ির ঘায়ে ভেঙে ফেলার পর কী ভাবেই বা সেগুলো মাটির উপরে তুলে আনা হয়? জমে থাকা কয়লার স্তর ভেঙে নেওয়ার পরেও খনিতে ধস নামে না কেন?

কোন প্রযুক্তিতে মাটির বেশ কয়েক মিটার গভীরেও পাতলা হয়ে আসা দেওয়ালের ভেঙে পড়া আটকানো যায়? খনির গহ্বরে কি কোনও বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছে? নামলেই বিপদ? খনিতে না নেমে সেটা বোঝাই বা যায় কী করে? আগ্রহীদের মনে কয়লা খনি নিয়ে এমন হাজারো প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু পশ্চিম বর্ধমানের খনিগুলোয় নেমে হাতে-কলমে সেই আগ্রহ মেটানোর উপায় নেই।

তবে বিআইটিএম-এর নকল কয়লা খনি মনে জমে থাকা হরেক প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি। শুধু প্রশ্নের উত্তর নয়, কয়লা খনির মধ্যের পরিবেশ সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা দেয়। সংস্থার পক্ষ থেকে অদিতি ঘোষ বলছেন, ‘১৯৮৩-তে এই মক-আপ কোল মাইন তৈরি হয়েছিল। শুরু থেকেই এই গ্যালারি অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু এর পরিমার্জন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। গত চার দশকে খনির কাজে নানা ধরনের আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। কাজেই সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে আমাদের খনিতেই সেই সব যন্ত্র বসানোর দরকার ছিল। সেটাই করা হলো।’

Coal Mine Accident: ফের খোলা মুখ কয়লা খনিতে পাথর চাপা পড়ে মৃত্যু কিশোরের, দায় নিয়ে তুমুল তরজা
বিআইটিএম জানাচ্ছে, গত কয়েক মাস ধরে এখানকার মক-আপ কোল মাইনে টেলিস্কোপিক কনভার্জেন্স ইন্ডিকেটর, সাসপেনশন কনভার্জেন্স ইন্ডিকেটর, অ্যাঙ্করেজ টেস্টিং মেশিন, হাইড্রলিক টেস্টিং মেশিনের মতো যন্ত্র বসানো হয়েছে। খনির স্বাস্থ্য কেমন, মেঝে কোথাও বসে যাচ্ছে কি না, দেওয়াল কতটা চাপ রাখতে পারবে—সে সব বুঝতে আধুনিক মাইনিংয়ে এই সব যন্ত্রই ব্যবহার করা হয়।

বিআইটিএম কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে পুজোর সময় প্রতি বছরই যাঁরা কলকাতায় ঠাকুর দেখতে আসেন, তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। এই ধরনের জায়গার মধ্যে বিআইটিএম-ও পড়ে। পুজোর ছুটিতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ট্রিপ বন্ধ থাকলেও বিদেশি পর্যটকের ভিড় আর ফ্যামিলি ট্রিপ থামে না। কাজেই মক-আপ কোল মাইনের নতুন চেহারা সামনে আনার এটাই আদর্শ সময়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *