রেশন দুর্নীতি মামলা : বাকিবুরের বাড়িতেই অস্থায়ী ‘খাদ্যদফতর’ – ed claimed food department was established in bakibur rahaman house arrest in the ration corruption case


এই সময়: রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত মিল মালিক বাকিবুর রহমানের বাড়িতেই ছোটখাট একটি ‘খাদ্য দফতর’ গড়ে তোলা হয়েছিল বলে দাবি ইডির। অভিযুক্তের বাড়ি এবং সংস্থায় তল্লাশি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত যে বিপুল পরিমাণ সরকারি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার পরে তেমনটাই মনে করছেন ইডি আধিকারিকেরা। এই দুর্নীতির ঘটনায় বাকিবুরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতর করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কী ভাবে এই দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছিল, সে বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ পেতে মরিয়া তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া স্ট্যাম্পগুলিকে খুটিয়ে পরীক্ষা করে ইডি মনে করছে, খাদ্য দফতরের মাথায় বসে থাকা কর্তা-ব্যক্তিরাই শুধু দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন, বাকিবুরের ঘনিষ্ঠ জেলাস্তরের সরকারি আধিকারিকেরাও এতে জড়িত থাকতে পারেন। তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাকিবুরের স্ট্যাপ কেলেঙ্কারি

রাজ্য পুলিশের এফআইআরের সূত্রে এবং আয়কর বিভাগের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরে এনপিজি রাইস মিল প্রাইভেট লিমিটেড-এর মালিক বাকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় ইডি। ১৪ অক্টোবর ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের আগে তাঁর বাগুইআটিতে বাড়ি এবং সংস্থায় ম্যারাথন তল্লাশি চালান গোয়েন্দারা। সেখানেই দুর্নীতির নথি পান তদন্তকারীরা

তাঁদের হাত আসে ১০৯টি সরকারি স্ট্যাম্প এবং সিল। জানা গিয়েছে, ওই স্ট্যাম্পগুলি খাদ্য দপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের সরকারি আধিকারিকদের নামে রয়েছে। যেমন, ওয়েস্ট বেঙ্গল এসেনশিয়াল কমোডিটিস সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেড (ডব্লুবিইসিএসসি)-এর চিফ ইন্সপেক্টর, ডিসি (এফ অ্যান্ড এস) উত্তর ২৪ পরগনা, ব্লক এক্সটেনশন অফিসার অ্যান্ড ইন্সপেক্টর অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটিস (হেডকোয়াটার), নর্থ ২৪ পরগনা রেঞ্জ এবং পার্চেজ় অফিসার ডিসি (এফ অ্যান্ড এস), ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কোঅপারেটিভ মার্কেটিং, ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার, সাব-ইনস্পেক্টর (এফ অ্যান্ড এস) নর্থ ২৪ পরগনা।

এই পদে থাকা ব্যক্তিদের সূত্রেই কি সরকারি স্ট্যাম্প সরাসরি বাকিবুরের কাছে চলে আসত কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর চলছে। ইডি সূত্রে দাবি, বারাসতের খাদ্যদফতরের প্রায় সমস্ত সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে বাকিবুরের যোগ ছিল। তা হয়েছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই। অভিযোগ, পরে নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও নিজের প্রভাব খাটাতেন তিনি। এমনকী, মন্ত্রীর কনভয়েও কখনও কখনও বাকিবুরের গাড়িকে যেতে দেখা যেত বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
Ration Corruption Case : বাকিবুরের সংস্থায় গরমিল পায় আয়কর দফতরও, কী ভাবে চলত রেশন দুর্নীতি?
কোম্পানির নাম বদলে বাজিমাত

ছিল বেড়াল, হলো রুমাল। বিষয়টা যেন এ রকমই। অর্থাৎ, আগে কোম্পানির নাম ছিল অন্য, তা বদল করে নতুন দাম দেওয়া হয়েছিল। ইডি আদালতে নথি পেশ করে দাবি করেছে, মূলত তিনটি কোম্পানির আড়ালে খাদ্য দুর্নীতির টাকা পাচার হয়েছে। পরে বিভিন্ন রুটে তা পৌঁছে যেত মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে। ওই তিনটি কোম্পানি হল–শ্রী হনুমান রিয়েলকন প্রাইভেট লিমিটেড, গ্রেসিয়াস ইনোভেটিভ প্রাইভেট লিমিটেড এবং গ্রেসিয়াস ক্রিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড।

শেষের দু’টি কোম্পানির আগের নাম ছিল যথাক্রমে সারদা ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেড এবং সারদা আর্টস প্রাইভেট লিমিটেড। ইডির অভিযোগ, এরমধ্যে দুটি সংস্থার দেখভালের দায়িত্ব ছিল মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহায়ক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কী কারণে দু’টি কোম্পানির নাম বদল করা হয়েছিল, সে বিষয়ে জ্যোতিপ্রিয়, তাঁর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক অভিজিৎ দাস এবং বর্তমান আপ্ত সহায়ক অমিত দে-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করার কাজ চলছে।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আদালতে ইডি দাবি করেছে, অভিজিতের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মেরুন ডায়েরির পাতায় উল্লেখ রয়েছে, কী ভাবে নগদ টাকা নিয়েছেন ‘বালুদা’ (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ডাক নাম) এবং তা ওই তিন কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এসব বিষয় নিয়ে জানতে অভিজিৎকে ফের তলব করা হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *