বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে সিঙ্গুর মামলার সাম্প্রতিক জরিমানা তত্ত্ব নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, আজও রাজ্য সরকার সিঙ্গুরের পাশে আছে। মঞ্চে কথা কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান,’সিঙ্গুরের আন্দোলন তো সেই কবেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তবু আজও ওদের অতিরিক্ত রেশনের চাল দেওয়া হয়। এমনকী এখনও মাসে ২০০০ টাকা করে দেওয়া হয় যাদের জমি নেওয়া হয়েছিল।’
রেশন দুর্নীতি প্রসঙ্গে বামেদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘৩৪ বছরে চাষীদের থেকে ধানই কিনত না বামেরা। আমরা এসে সব ব্যবস্থা করেছি। ১ কোটি রেশন কার্ড বাদ দিয়েছি, ওতেই ভুয়ো ভোট পড়ত। এই কাজ করতে আমার সময় গিয়েছে অনেক। এখন রেশন কার্ড ডিজিটালাইজ করে দিয়েছি।’
এখানেই শেষ নয়, জঙ্গলমহলের করুণ অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘বেলপাহাড়িতে গিয়ে দেখেছিলাম ওখানে কী অবস্থা। লুকিয়ে স্কুটারে গিয়েছিলাম। দেখি ওরা পিঁপড়ে সেদ্ধ করে খাচ্ছে। পিঁপড়ের কামড়ে গায়ে চাকা চাকা দাগ। বলে দিদি খাব কী! আমরা তো চালই পাই না। এই পিঁপড়ে শিকড় দিয়ে খাবার বানাই। এই ছিল অবস্থা। আমি এসে সব ব্যবস্থা করেছি। আমি জঙ্গলমহলকে বেশি বেশি করে চাল দিই। কোন লোকটা চাল পায় না? সমস্ত আদিবাসীরা চাল পায়। কোন লোকটা কোভিডে অনাহারে মারা গিয়েছে বলুন?’
শুধু বামদেরই নয়, বিজেপিকেও এদিন নাম না করে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমি একটু মুখ খুলি? কিন্তু আমি চাই না দেশের সম্মান নষ্ট হোক, তাই চুপ আছি। যারা আসল চোর, তারা এখন পুলিশের মুখে আটা ছুঁড়ছে। আজ এত বছরের সাংসদ হিসেবে ভাতা নিলে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা জমত। এক টাকাও নিইনি, কই এগুলো তো কেউ বলে না। আমরা কিছুই নিই না। তবু আমাদেই চোর বলা হচ্ছে।’
