Kali Puja 2023 : দেবীর আদেশে বন্ধ নরবলি, মা ভালোবাসেন সন্দেশ! হুগলির কালী মন্দিরে ছত্রছত্রে রহস্য – hooghly pandua simligarh maa kali temple has a long history of five hundred years


প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো হুগলি জেলার পান্ডুয়ার সিমলাগড়ের দক্ষিণা কালী মন্দির। স্থানীয়দের মধ্যে কথিত রয়েছে, আফগান শাসক শেরশাহের জিটি রোড তৈরির আগে শুরু হয় এই পুজো। সেই সময় ওই এলাকায় ছিল শ্মশান। গোটা এলাকা জঙ্গলে ভরা। ছিল না কোনও জনবসতি। সাধারণ মানুষ ওই এলাকায় যেতে ভয় পেতেন। ডাকাতের উৎপাতে হাড়হিম হয়ে যেতে এলাকাবাসীর।

যদিও কালের নিয়মে পাল্টেছে সব। মন্দিরও বেড়েছে পরিসরে এবং বহরে। তালপাতায় ঘেরা মন্দির পাকা ও স্থায়ী হয়েছে। মৃন্ময়ী মূর্তি পরিবর্তিত হয়ে কষ্টি পাথরের মূর্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই মন্দিরে প্রতিদিনই চলে মায়ের নিত্য সেবা। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন এখানে পুজো দিতে। কালীপুজোর দিন বিশেষ পুজো পাঠের ব্যবস্থা করা হয়। মনস্কামনা পূরণের জন্য অনেকেই মন্দির সংলগ্ন একটি গাছে ইটের টুকরো বেঁধে দিয়ে যান। ১০৮ রকমের ভোগ নিবেদন করা হয় মাকে। বলি চালু থাকলেও কালীপুজোর বিশেষ দিনে মায়ের ভোগে মাছ নিবেদন করা হয়।

মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে ইতিহাস, লোকশ্রুতি

এই পুজো নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু লোকশ্রুতিও। স্থানীয়রা জানিয়েছে, আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে ওই এলাকার এক পুকুর পাড়ে তালপাতার ছাউনি দিয়ে ঘর বেঁধেছিলেন এক কাপালিক। পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে ওই কাপালিক মা কালীর সাধনা করতেন। লোকমুখে শোনা যায়, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে ডাকাতরা ঘন জঙ্গলে এসে নরবলি দিত সিমলাগড়ের দক্ষিণা কালীর সামনে। স্থানীয়দের কারও দাবি, এক সময় রঘু ডাকাতও এই কালী মন্দিরে এসে সাধনা করেছেন।

Kali Puja 2023 : বাঁশির সুরে আরাধনা, বাঙালির প্রিয় মাছ দিয়ে দেবীকে ভোগ! ‘সবুজকালী’-র পিছনে কোন গল্প?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্য চলাচলের জন্য এই রাস্তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। তখনই স্থানীয় মানুষ ভয় কাটিয়ে ওই মন্দিরে পুজো দিতে শুরু করেন। এরপরে কালী মন্দিরের উপরে মানুষের বিশ্বাস ক্রমশ বাড়তে থাকে। লক্ষণ ভট্টাচার্যর পরিবারের আদি পুরুষের আমল থেকেই এই কালীপুজো শুরু হয়েছিল। এই কালী মন্দিরে দেবী কালিকা পূজিতা হন দক্ষিণা কালী রূপে। এই কালীমূর্তি ডাকাতকালী নামেও পরিচিত ছিল।

কালীমন্দিরে দেওয়া হত নরবলি

স্থানীয় স্তরে কথিত রয়েছে, ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্য নটবর ভট্টাচার্য মা কালীর পুজো করতে গিয়ে দেখেন মন্দিরের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে নরমুণ্ড। তিনি পুজো না করে ফিরে আসেন। প্রায় চার দিন পর দেবী নটবরের স্বপ্নে এসে বলেন. ‘আমি উপোস করে রয়েছি, আমার পুজো হয়নি। তুই কি চাস?’ নটবর দেবীকে জানিয়েছিলেন, তিনি চান এই মন্দিরে নরবলি বন্ধ হোক। দেবীর নির্দেশে সেই থেকে বন্ধ নরবলি। তবে এখনও সিমলাগড়ের দক্ষিণা কালী মন্দিরে ছাগ বলির প্রথা চালু রয়েছে।

মন্দিরের পুরোহিত দীপক কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘কত বছর আগে পুজো শুরু হয়েছিল, তা ওভাবে বলা কঠিন। এখানকার মা খুব জাগ্রত। কালী পুজোর দিন বিভিন্ন রকম ফল দিয়ে মাকে পুজো দেওয়া হয়। তবে মা সন্দেশ খেতে খুব ভালোবাসেন। তাই পুজোতে সন্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া মায়ের ভোগে পোনা মাছ দেওয়া হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *