Jyotipriya Mallick News: বাকিবুরের থেকে কেন ৯ কোটির ঋণ নেন বালু? তদন্ত শুরু ইডির – jyotipriya mallick take 9 crore rupee loan from ration scam accused businessman bakibur rahaman


এই সময়: তাঁকে ‘সাহেব’ সম্বোধন করে পরিচারক রামস্বরূপ শর্মা যা বললেন, তাতে অস্বস্তি বাড়ল রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। শনিবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র জেরা শেষে মন্ত্রীর পরিচারক রামস্বরূপ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, ‘সাহেবের (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক) নাম করে অপরিচিত ব্যক্তিরা সাদা কাগজে সই করিয়ে নিয়েছিলেন। উল্টোডাঙায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে সই করতে হয়েছিল। সাহেবের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাটও কিনেছিলাম।’

ইডির অভিযোগ, ধৃত ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান এবং জ্যোতিপ্রিয়র যোগসাজশেই রামস্বরূপকে একটি কোম্পানির ডিরেক্টর করা হয়েছিল। পরে তিনি কৃষি দপ্তরের অস্থায়ী পদে কাজও পান। এমনকী, তাঁর একটি ফ্ল্যাটও রয়েছে। মন্ত্রী পরিচারকের হঠাৎ এই আর্থিক উত্থানের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছেন ইডি আধিকারিকেরা। শনিবার বাকিবুরকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে পেশ করে ইডি দাবি করেছে, মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে সুদ ছাড়াও ৯ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। সেই টাকা এখনও শোধ করেননি তিনি। এই তথ্য জানার পরে ইডি খতিয়ে দেখতে চাইছে– এই বিপুল টাকা সুদ ছাড়াই ঋণ হিসেবে কেন মন্ত্রীকে দিয়েছিলেন বাকিবুর, কোনও ব্যাঙ্ক বা সংস্থা থেকে কেন ঋণ নেননি জ্যোতিপ্রিয়?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে এবং আরও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে এদিন বাকিবুরকে জেলে গিয়ে জেরার আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা। তাতে সায়ও দিয়েছে আদালত। রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রয়েছেন। এই ঋণের প্রসঙ্গ নিয়েও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রের খবর।

শুক্রবারের পরে শনিবারও ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন মন্ত্রীর পরিচারক তথা কৃষি দপ্তরের অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মী রামস্বরূপ শর্মা। ইডি-র অফিস থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, ‘কাগজে সই করেছিলাম। যাঁরা সই করাতে এসেছিলেন, তাঁদের চিনিও না। সাহেবের নাম করে বলেছিলেন, আমি সই করে দিয়েছিলাম। এটা অনেক বছর আগের কথা।’ তবে কী ভাবে তিনি ডিরেক্টর হয়েছিলেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই পরিচারক বলেন, ‘কোম্পানির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে আমার একটি ফ্ল্যাট আছে কেষ্টপুরে। লকডাউনের আগে সাহেবের থেকে ঋণ নিয়ে ওই ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। তার মধ্যে ৫ লাখ টাকা শোধও করে দিয়েছি।’ কলেজ স্ট্রিটে এক সময়ে সেলুনের দোকান ছিল রামস্বরূপের। ওই এলাকায় মন্ত্রীর পৈতৃক বাড়িতে যাতায়াতের সূত্রেই জ্যোতিপ্রিয় সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর।

West Bengal Ration Scam: খোলা বাজারে প্যাকেটে রেশনের আটাই? নদিয়ায় কালোবাজারির ভয়াবহ অভিযোগ

এদিকে, শনিবার দুপুরে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেল হেফাজত থেকে ধৃত বাকিবুরকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে ইডি। সওয়াল-জবাবের সময়ে ইডি দাবি করে, বিনা সুদে জ্যোতিপ্রিয়কে ঋণ দিয়েছিল বাকিবুর। তদন্তকারীরা মনে করছেন, রেশন দুর্নীতির টাকা ঘুরপথে ঋণ হিসেবেই মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। পরে তাঁর স্ত্রী এবং কন্যার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে চলে যায়। এদিন আদালতে ইডি আরও দাবি করে, রেশনের চালের টাকা নয়ছয় করেছেন বাকিবুর। সেই কাজ করার জন্য ভুয়ো কৃষকদের নামে ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্টও খুলেছিলেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *