Birbhum TMC : কেষ্ট যুগ পুরোটাই অতীত? নাম বাদ পড়তেই ‘ফিসফিস’ জেলা তৃণমূলে – anubrata mondal dismissed from birbhum district president creates buzz in trinamool congress


বীরভূমের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ‘কেষ্ট’ নামটি কি চিরদিনের জন্য বিলীন হতে চলেছে? সোমবার মধ্যাহ্নে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি তালিকা প্রকাশের পর সেই গুঞ্জন জেলার ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে। জেলা সভাপতি পদটির পাশে গতবারেও ‘অনুব্রত মণ্ডল’ নামটি জ্বলজ্বল করতে দেখা গিয়েছে। এবার সেই জায়গায় লেখা হয়েছে ‘কোর কমিটি টু কমিটি’। সরল পাটিগণিতের হিসেব বলছে, অনুব্রত মণ্ডল আর তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি নন।

নাম কাটল অনুব্রত’র

আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে কী ‘কালিমালিপ্ত’ নামগুলি ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলেছে তৃণমূল? দলে প্যারালাল ‘পলিটিক্যাল লাইন’ তৈরি হচ্ছে? কী বলছে জেলা তৃণমূল? বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, ‘কোর কমিটির দায়িত্ব আরও বেশি করে দেওয়া হল। জেলা সভাপতির দায়িত্ব এখন থেকে কোর কমিটিই সামলাবে।’

দলের অন্দরে গুঞ্জন

জেলা সভাপতি পদে নতুন কাউকে জায়গা দেওয়ার ব্যাপারে দল কি এখনই ঝুঁকি নিতে চাইছে না? তাতে সংগঠনের অন্দরে হীতে বিপরীত হবে? জেলার এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, ‘শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছে, এখনই কাউকে বসানোর প্রয়োজন নেই। নতুন কাউকে আনলে সমস্যা বাড়তে পারে। দলের একাংশের মধ্যে আজও‌ অনুব্রত মণ্ডলের ভালো প্রভাব আছে সে কথা তো ঠিক। সেই কারণেই যাতে লোকসভার আগে ঝামেলা না বাড়ে তাই বোধহয় এমন সিদ্ধান্ত।’

কেষ্ট দা’কে বাদ দিয়ে কিছু নয়

নির্বাচন করানো থেকে সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি সব জায়গাতেই ২০১০ সালে একহাতে দায়িত্ব সামলেছেন সবার ‘কেষ্ট দা’। বলা যেতে পারে, তাঁর কথাতেই বাঘে গোরুতে একঘাটে জল খেতো বীরভূমে। তাঁর জেল যাত্রার পরেও জেলা সভাপতি পদের পাশ থেকে অনুব্রত মণ্ডলের নাম সরে যায়নি। কিন্তু, নির্বাচনের মুখেই বিরোধীদের প্রচারের অস্ত্র ভোঁতা করতেই এই পদক্ষেপ এরকমটাই মনে করছে জেলা তৃণমূল। ‘গোরু চুরি কাণ্ডে অভিযুক্ত নেতা দলের মাথায়’ – বিজেপির এই প্রচার প্রভাব ফেলতে পারে জনসাধারণের মনে। তাই ‘দুষটু গোরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো’ বলে মনে করছে দলের একাংশ। তবে কেষ্ট দা’কে একেবারে মুছে ফেলতে রাজি নয় জেলার নেতৃত্বরা। আহ্বায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলছেন, ‘তিনি তো আমাদের মধ্যেই আছেন। আজ এক দেড় বছর হতে চলল, তিনি তো আমাদের বাইরে নেই। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিশ্চয়ই কিছু চিন্তাভাবনা আছে।’

Trinamool Congress : বিতর্কের মধ্যে মহুয়ার পদপ্রাপ্তি, অনুব্রতর আসন ফাঁকাই! তৃণমূল স্তর ঢেলে সাজাল শাসকদল
এ বছরেও জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন হয়েছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। দলের নির্দেশ মেনেই কোর কমিটি জেলার দায়িত্ব সামলে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে লোকসভার মহারণের আগে জেলা তৃণমূল কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ হয়েই কোর কমিটি দিয়ে কাজ চালাবে, এমনটা পরিষ্কার বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলে।

কী বলছে বিজেপি?

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যটন যাঁর হাতেই যাক, দলে ‘একনায়কতন্ত্রের’ প্রভাবকেই কার্যত সিলমোহর দিল বলেই মন্তব্য বিজেপি নেতৃত্বের। বীরভূম জেলার সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘ তৃণমূল কংগ্রেস তো তৃণমূল কংগ্রেসেই আছে। আমাদের কথাকেই ওঁরা প্রমাণ করেছে। যে দলে একটাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট।’ তবে এখন, জেলা সভাপতি পদ থেকে বাদ দিলে অনুব্রত মণ্ডল অনেক কিছু ফাঁস করে দেন কিনা সেটাই দেখার বলে দাবি বিজেপির।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *