Kali Puja 2023 : কালীপুজোর পরদিন মন্দিরের দালানে বসে কবিগানের আসর – kabigan session is held on the temple after day of kali puja in medinipur


এই সময়, মেদিনীপুর: এখানে সময় যেন থমকে আছে! আজও কালীপুজোর আগের দিন যখন ঘটে জল ভরতে যাওয়া হয় পুকুরে, তখন শোভাযাত্রার সামনে-পিছনে জ্বালানো হয় আটটি মশাল। আর কালীপুজোর পর দিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত মন্দিরের দালানে হয় কবিগানের লড়াই। বিকেলে গোরুর গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে হয় প্রতিমার ভাসান। মেদিনীপুর শহরের লছি পোদ্দার কালীপুজোর এটাই ঐতিহ্য।

দুর্যোগ, ঝড়, বৃষ্টি যা-ই হোক না কেন, নিয়মের নড়চড় হয় না কখনও। পুজোর সময় বাড়ির পুরুষরা লাল ধূতি, লাল ওড়না, বিবাহিত মহিলারা লালপাড় শাড়ি, এবং অবিবাহিত মেয়েরা সবুজ পাড় শাড়ি পরেন। এটাই পরিবারের রীতি। তাছাড়া, পূর্বপুরুষদের প্রচলন করা কবিগানের লড়াই আজও গুরুত্ব পায় এই পরিবারে। লছি পোদ্দার কালী মন্দিরে কবিগান শোনার জন্যে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ছুটে আসেন এখানে।

শ্রোতাদের ভিড়ে গমগম করতে থাকে মন্দির দালান। স্থানীয় বাসিন্দা জগবন্ধু পাল, অজিত বেরা বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখনও লোকজন আসেন কবিগান শোনার জন্য।’ মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরে শুরু হওয়া দে পরিবারের পুজো বর্তমানে লছি পোদ্দার কালীপুজো নামে পরিচিত। বর্তমানে কর্মসূত্রে পরিবারের সকলে থাকেন মেদিনীপুরের বাইরে। অনেকে থাকেন দেশের বাইরেও। তবে কালীপুজোর আগে প্রায় সকলেই হাজির হয়ে যান মেদিনীপুরের বাড়িতে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেদিনীপুরের হবিবপুর এলাকায় এই দে পরিবারের অনেক জমি এবং বড় বড় ধানের গোলা ছিল। এই গোলার মালিকদেরই বলা হতো পোদ্দার। এই পরিবারের সদস্য লছমি নারায়ণ দে স্বপ্নাদেশ পেয়ে ৪০০ বছর আগে এই কালীপুজো শুরু করেছিলেন। লছমি পোদ্দার থেকেই সংক্ষেপে লছি পোদ্দার। আর এই বাড়ির পুজো পরিচিত হয় লছি পোদ্দার পুজো নামে।

Kali Puja: শেয়ালের ডাক শোনার পরই শুরু হয় পুজো, শোল-বোয়ালে মা কালীকে ভোগ দেন বামাক্ষ্যাপার বংশধররা
পরিবারে ছয় সেবায়েত বর্তমানে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ‘পুরানো রীতি মেনে এখনও আমাদের প্রতিমা তৈরি শুরু হয় বিজয়া দশমীর দিন। কালীপুজোর দিন দুপুরে হয় মায়ের চক্ষুদান। পুজোর দিনরাতে এখনও ঘট ডোবাতে যাওয়া হয় ৮টি মশাল জ্বেলে। মন্দিরে বিদ্যুতের আলো থাকলেও পুজোর সময় সব আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। তেল দেওয়া প্রদীপের ঝাড় এবং মোমবাতির ঝাড় জ্বেলেই চলে পুজোর মূল পর্ব। মায়ের গয়না পরানো, মায়ের চুল লাগানো ইত্যাদি করেন বাড়ির পুরুষরা। পুজোর সময় মহিলা ও পুরুষদের নির্দিষ্ট পোশাক পরেই হাজির হতে হয় মন্দিরে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *