ভাইফোঁটা ২০২৩ : ভাইয়ের খামতি মেটাতে ২ সাফাইকর্মীকে ফোঁটা! চুঁচুড়ার ‘দিদি’-কে নিয়ে চর্চা – hooghly chinsurah woman celebrates bhai phonta with two municipal cleaning staff good news


প্রতিদিন তাঁর দুয়ার থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করেন যাঁরা, ভাইফোঁটার এই বিশেষ দিনে যমের দুয়ারে কাঁটা দিয়ে তাঁদের মঙ্গল কামনা করলেন বোন। এই বিশেষ দিনে ভাইফোঁটা পেয়ে খুশি ভাইরাও। এমন ঘটনা সত্যিই বিরল। সাফাইকর্মী ভাইদের প্রতি বোনের স্নেহের পরশে মুগ্ধ এলাকাবাসী।

ঠিক কী ঘটনা?

চুঁচুড়া রথতলা অঞ্চলের বাসিন্দা নৃত্যশিল্পী মৈত্রী দে সিংহের নিজের কোনও ভাই নেই। কোনওবারই ভাইফোঁটা দেওয়ার সুযোগ হয় না। ভাইফোঁটায় ফোঁটা দিতে পারেন না বলে এবারও মনে আক্ষেপ ছিল। সাফাই কর্মীদের ভাইফোঁটা দিয়ে সেই আক্ষেপই দূর করলেন মৈত্রী।

চুঁচুড়া পুরসভার সাফাই কর্মী আমজাদ শেখ ও মনোতোষ হরিজন। প্রতিদিন সকালে বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহ করেন। হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি মৈত্রীর। প্রত্যেকদিন তাঁর বাড়ি থেকেও আবর্জনা সংগ্রহ করতে আসেন এই দুই সাফাইকর্মী। বাঁশি বাজিয়ে দিদি বলে ডাক দেন কাক ভোরে। কর্মসূত্রে সারা বছরই বাড়ি বাড়ি যেতে হয় আমজাদ ও মনোতোষকে। তবে মৈত্রীর সঙ্গে ভাইবোনের সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে তাঁদের।

Bhai Phonta 2023: ভাইয়ের মঙ্গল চেয়ে যমের দুয়ারে কাঁটা! কীভাবে শুরু হল ভাই-বোনের এই উত্‍সব?
আমজাদ বা মনোতোষরাই সমাজকে আবর্জনামুক্ত রাখেন। সেই কারণে তাঁদেরকেই ভাই বলে মনে করেন ওই নৃত্যশিল্পী। শুক্রবার শঙ্খের ধ্বনির সঙ্গে দুই ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় চন্দনের ফোঁটা দিলেন মৈত্রী। ভাইদের নিজের হাতে মিষ্টি খাইয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রথমবার এমনভাবে ফোঁটা পেয়ে খুশি ভাইরাও। তাঁরা দিদির কুশল কামনা করেছেন।

কী বলছেন ভাই-বোনরা?

মৈত্রী বলেন, ‘সম্মান সকলের পাওয়া উচিত বলেই আমার মনে হয়। পেশার কারণে কখনও তাঁদের অসম্মান করা উচিত না। এই ভাইরা রয়েছেন বলেই আমাদের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে। আমার নিজের কোনও ভাই নেই। কোনওবার ভাইফোঁটা দেওয়ার সুযোগ হয় না। সেই কারণেই এবার ওঁদের ফোঁটা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মনোতোষ ও আমজাদ বলেন, ‘পুরসভায় সাফাইকর্মী কাজ করি আমরা। প্রত্যেকদিনই দিদির বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করতে আসি। দিদি যে ঘরে বসিয়ে এভাবে আমাদের ভাইফোঁটা দেবে, তা এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। আমাদেরকে এইভাবে সম্মান দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। দিদি খুব ভালো থাকুন, এটাই চাই। আমাদের অনেকই তাচ্ছিল্য করে, মানুষ বলেই হয়তো মনে করে না। সেখানে এই দিদি নিজে ডেকে আমাদের ফোঁটা দিলেন। খুবই খুশি তাই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *