বোড় চাঁপাতলা যুব সম্প্রদায় পুজো
এবার প্রতিমায় চমক এনেছে বোড় চাঁপাতলা যুব সম্প্রদায় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি। ৬১ তম বর্ষে তাঁদের থিম ইতিহাসের ইতিকথা। মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরা হয়েছে চন্দননগরের নানান ইতিহাস। পর্তুগীজ, ডাচ, ডেনিস, ফরাসি থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশে এক সময় মিনি ইউরোপ ছিল গঙ্গার পশ্চিম পারে হুগলি জেলা। চন্দননগরেও বাণিজ্যর জন্য এসেছিল তারা। সেই সব ইতিহাসের কথাই তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে কাঠের প্রতিমা। মেহগনি গাছের গুঁড়িকে প্রায় নয় মাস ধরে কেটে কেটে নিখুঁত ভাবে তৈরি করা হয়েছে এই জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। যদিও পাশে সাবেকি প্রতিমাও গড়া হয়েছে। কাঠের প্রতিমা চন্দননগরে প্রথম বলে দাবী পুজো উদ্যোক্তাদের।পুজো শেষে মেহগনি প্রতিমা সংরক্ষণ করা হবে বলে জানান তাঁরা।
ভদ্রেশ্বর বাবুর বাজারের পুজো
এবারের জগদ্ধাত্রী পুজো এ বছর ৫০ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এ বছরে তাদের থিম ‘ঘুমোরের ঘটা’। রাজস্থানী নৃত্যের উপরে এই মণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। রাজস্থানের বাড়ি বা হাভেলিকে মণ্ডপে দেখানো হয়েছে। রাজস্থানী নৃত্যের ভঙ্গিকে মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজস্থানের আবহকে তুলে ধরার জন্য রাজস্থানী ঘরনার গান ও বাজানো হচ্ছে মণ্ডপে। উদ্যোক্তাদের দাবি, লোকনৃত্য আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই লোকনৃত্যকে তুলে ধরার জন্য আমাদের এই ভাবনা। রাজস্থানী লোকনৃত্য সারা ভারতে চতুর্থ স্থান লাভ করে। তাই এ বছর সেই শিল্পকেই তুলে ধরা হয়েছে আমাদের মণ্ডপে। তবে প্রতিমায় কোনওরকম পরিবর্তন আনা হয়নি। সবেকি প্রতিমাতেই আমরা বিশ্বাস করি।
চন্দননগর বোরপঞ্চানন তলার পুজো
এ বছর ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে। এ বছরে তাঁদের থিম আস্তিক। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে উপরে রয়েছে উইন্ড চ্যান্ট।যা একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। মণ্ডপে প্রবেশের পরেই দেখা যাবে চারটি পুরুষ ও চারটি নারী মূর্তি। প্রায় এক হাজার প্রদীপ ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপে। যা তাদের সত্তাকে তুলে ধরছে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
আস্তিক মানে নাস্তিকের বিপরীত অর্থাৎ আগেকার দিনে বাড়ির মা-বোনেরা পূজার্চনা করলেই বাড়ির কাঁসার জিনিসপত্র বের করতেন ধুয়ে তুলতেন তার মানেই পূজো বা কোন আধ্যাত্মিক বিষয় আসতে চলেছে সেই কারণেই এইসব মূর্তিকে কাঁসার জিনিস দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপ জুড়ে ব্যবহার করা হয়েছে প্রদীপ যা পুজোর আরো একটি সামগ্রী। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে সাবেকি প্রতিমা।