Jagadhatri Puja 2023 Date : মানবিক সত্তাকে গিলছে যন্ত্রদানব! সভ্যতার অগ্রগতি নিয়ে অপূর্ব বার্তা জগদ্ধাত্রীর মণ্ডপসজ্জায় – chandannagar jagadhatri puja 2023 date and time theme details of mankundu natun para puja


স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ! কবি বিষ্ণুপদ দে-র বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের উপর নির্ভর করে থিম এবার জগদ্ধাত্রী পুজোয়। যন্ত্রের কবলে পড়ে মানুষ হচ্ছে যান্ত্রিক। তাই বালি মাটি দিয়ে অপরূপ দর্শনের মণ্ডপ নির্মাণ করে চমক দিল চন্দননগরের মানকুন্ডু নতুন পাড়ায়।

জগদ্ধাত্রী পুজোয় মাতোয়ারা সকলে

চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই নতুন নতুন চমক। এবারও তার অন্যথা হয়নি। জগদ্ধাত্রী পুজোয় মেতে উঠেছে গোটা চন্দননগর সহ রাজ্যের মানুষ। ঐতিহ্য, সাবেকিয়ানার সংমিশ্রণে দর্শনার্থীদের চমক দিতে প্রস্তুত সকল পুজো উদ্যোক্তারা। নবকলেবরে সেজে উঠেছে পুজো মণ্ডপ গুলি। গোটা চন্দননগর জুড়েই সাজ সাজ রব। থিমের ছোঁয়া থাকলেও এই পুজোর শেষ কথা বলে ঐতিহ্যই। তবুও পুজো কমিটিগুলি একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে হরেক রকমের বৈচিত্র থিমের আয়োজন করে প্রত্যেক বছরই, এবারও তার ব্যাতিক্রম নেই।

মানকুন্ডু নতুনপাড়া বালি ও মাটি দিয়ে মণ্ডপ নির্মাণ করে সকলকে চমক দিয়েছে। প্রতি বছরই তাঁদের থিমে থাকে নতুনত্ব। ৪৯ বছরে থিম ভাবনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘স্মৃতি সত্তা ও ভবিষ্যৎ’। কবি বিষ্ণুপদ দে-এর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই মণ্ডপ নির্মাণ করেছেন উদ্যোক্তারা। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাবনা এই মণ্ডপে।

কী জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা?

তাঁরা মনে করেন, আগামী দিনে সবটাই স্মৃতি হতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্ম বই খাতা নিয়ে আর স্কুলে যাবে না। অনেকেই এখন অনলাইনের মাধ্যমে পড়াশোনা করছে। ফলে যন্ত্রের কবলে পড়ে মানুষ যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। তাই এই অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার লড়াই করে যাচ্ছি আমরা। এটা যেন সত্যিকারের স্মৃতি না হয়ে যায়। অপরিকল্পিত নগরায়ন এর ফলে পূর্ণিমার চাঁদকে দেখতে গেলে আমাদেরকে টেলিভিশনের তারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই মা হৈমন্তীকার কাছে আমাদের প্রার্থনা সত্তা টিকে থাকুক যন্ত্রের কবলে পড়ে যেন যান্ত্রিক না হয়ে যায় বলে জানান পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী।

Jagadhatri Puja Chandannagar: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জগদ্ধাত্রী পুজো শুরুর গল্প থেকে অঙ্গদানে সচেতনতা প্রসার, চন্দননগরে লেজার শোয়ে চমক
মণ্ডপ শিল্পী কী জানাচ্ছেন?

মণ্ডপ শিল্পী রঙ্গজৎ রায় জানান, রাস্তার মোড়ে অথবা মিউজিয়ামের দেওয়ালে স্ট্যাচু দেখতে পাওয়া যায়। ১০০ বছর আগে যেগুলি ঘটে গিয়েছে সেগুলি বর্তমান সময়ে স্ট্যাচু হয়ে গিয়েছে। বর্তমান সময়ে আমরা দেখতে পাব বাচ্চাদের বইপড়া, খেলাধুলা, স্কুলে যাওয়া সবটাই দিন দিন উঠে যাচ্ছে। আমরা এমন এক সভ্যতা তৈরি করছি যেটা শুধুমাত্র ঘিঞ্জি শহর। সেখানে কোনও গাছপালার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেটাকেই আমরা তুলে ধরছি। শৈশবের ব্যাডমিন্টন, লাফ দড়ি সহ বিভিন্ন খেলাধূলাকে স্ট্যাচু আকারে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। মণ্ডপে ব্যবহার করা হয়েছে বালি ও মাটি যা তৈরি করতে সময় লেগেছে তিন মাস।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *