Bengali Wedding,বিয়ের ভিডিয়োয় চুমু প্রকাশ্যে! নিউ নরমাল? – bengali wedding ceremony is the kiss now as normal analysis is here


জয় সাহা

সমুদ্র সৈকতে নীল জল আর সাদা বালির মেলামেশা। আকাশে ভাঙা মেঘের খেলা। এক যুবক দৌড়ে আসছেন, উলটো দিক থেকে ছুটে আসছেন এক যুবতীও। তাঁরা যখন একেবারে মুখোমুখি, দু’জনেই তখন একটু থমকে গেলেন দু’জনের দিকে চেয়ে, তার পর একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলেন। আর সব কিছু ভুলে গিয়ে চুমু খেতে শুরু করলেন। সেই মোমেন্ট ক্যাপচার করতে করতে ড্রোন ক্যামেরা উড়ে গেল আকাশপথে। টপ ভিউয়ে নীল সমুদ্র, সাদা বালি, ভাঙা মেঘ আর সিক্ত শরীরে চুমু খেতে থাকা দু’টো মানুষ ক্রমে মিলিয়ে গেলেন অনন্তের ল্যান্ডস্কেপে।

ওয়েব সিরিজ় বা সিনেমা অথবা মিউজি়ক ভিডিয়োর কোনও দৃশ্য দেখছেন ভেবে বিভ্রম হতেই পারে। কিন্তু এই ছবি সে রকম নয়। চরিত্র দু’জন কেউ অভিনেতা-অভিনেত্রী নন। সামনেই তাঁদের বিয়ে। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন সৌমিত্র দাস ও চন্দ্রাণী মণ্ডল। সৌমিত্র কাজ করেন একটি বহুজাতিক সংস্থায়।

চন্দ্রাণী পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী। যা দেখা গেল, সেটা সৌমিত্র আর চন্দ্রাণীর প্রিওয়েডিং ভিডিয়োর অংশ বিশেষ। নিজেদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওঁরা দু’জনই সেই ভিডিয়ো আপলোড করেছেন। বহু মানুষ তা দেখেছেন। বেশির ভাগই কমেন্ট বক্সে গিয়ে অ্যাপ্রিশিয়েটও করেছেন।

গত শতাব্দীর নয়েক দশকে সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী তাঁর একটি গানের ফাঁকে জুড়ে দিয়েছিলেন একটি লাইন, ‘প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ, ঘুষ খাওয়া কখনওই নয়!’ তারও এক দশক আগে, ১৯৮৫-তে অন-স্ক্রিন চুমু দেখিয়ে বঙ্গ সমাজে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়, তাঁর ‘ঘরে বাইরে’ ছবিতে। তার পর সময়, অবস্থা, দৃষ্টিকোণ অনেকটাই বদলেছে।

সিনেমা, থিয়েটার, সাহিত্য অথবা মিউজি়ক ভিডিয়োয় চুমু খাওয়া এখন খুবই নরমাল। কিন্তু বাঙালি বিয়ের আসরেও কি চুমুটা এখন ততটা নরমাল? নাকি নিউ নরমাল? বঙ্গদেশের কাপলদের অনেকেই প্রশ্নটা উসকে দিচ্ছেন। বেশ কয়েক বছর হলো বাঙালি বিয়ের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে প্রিওয়েডিং, ওয়েডিং, পোস্ট ওয়েডিং ফটোগ্রাফি বা ভিডিয়োগ্রাফি। বিয়ের আগে দু’জনের কিছু একান্ত আপন মুহূর্ত ক্যামেরা-বন্দি করে রাখার এই চল এখন সর্বজনগ্রাহ্য।

তাতে চুমু খাওয়া, এমনকী প্যাশনেটলি লিপ কিসিংয়েও অনেকের আর আপত্তি নেই। বিয়ের ভরা আসরে পর্যন্ত অনেকে জড়তা কাটিয়ে একে অন্যকে চুমু খাচ্ছেন। সৌমিত্র আর চন্দ্রাণী তাঁদের চুমু খাওয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিয়ো ভাগ করে নিয়েছেন বাড়ির বড়দের সঙ্গেও। দু’জনেই জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত এই ভিডিয়ো নিয়ে কেউ কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি, বড়রাও নাকি খুব স্পোর্টিংলি ব্যাপারটাকে নিয়েছেন।

সৌমিত্রর কথায়, ‘সিনেমাটোগ্রাফাররা আমাদের সমুদ্র সৈকতে নিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, তোমরা যাতে কমফর্টেবল তেমনটা করো, আমরা আমাদের মতো শুট করে নিচ্ছি। আর পাঁচটা আচরণের মতোই আমাদের চুমুটাও সাবলীল ভাবেই এসেছে।’ চন্দ্রানীর কথায়, ‘আমরা সাড়ে তিন বছর ধরে প্রেম করি। বাড়ির লোকজন সেটা জানত। আমাদের সম্পর্কের মতো চুমুটাকেও মা-বাবা কারও খুব অড বলে মনে হয়নি।’

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল-এর সামনে, ময়দানে, চিড়িয়াখানায়, প্রিন্সেপ ঘাটে, কলেজ স্ট্রিটের মতো লোকেশনে দাঁড়িয়ে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে চুমু খেয়ে মাস ছয়েক আগে বিয়ের ফটোশুট করেছিলেন অমর্ত্য এবং বৈশাখী দত্ত। তার পর এ বছরই অমর্ত্য আর বৈশাখী বিয়ে করেছেন। কিন্তু কলকাতা শহরের বিভিন্ন আইকনিক জায়গায় দাঁড়িয়ে চুমু খাওয়া কেন?

অমর্ত্যর কথায়, ‘এই শহরটা প্রেমের। এই শহরটা ভালোবাসার। ভালোবাসার শহরে প্রেমের উদযাপনটাই বড় ভাবে করতে চেয়েছিলাম।’ কমেন্ট বক্সে সেখানে বেশ কিছু বিরূপ মন্তব্য আসার পরেও সে সব ছবি সরাননি দু’জন। কারণ, নচিকেতার সেই গানের লাইনটা মনে করিয়ে দিয়ে বৈশাখীর বক্তব্য, ‘কিছু উদ্ভট মানুষের জন্য ওই ভিডিয়োটা সরাবই বা কেন?’

ওয়েডিং ফটোগ্রাফার অর্ঘ্যনীল ঘোষ, দেবাঙ্গন ভট্টাচার্যরা জানাচ্ছেন, এই ট্রেন্ড গত এক-দেড় বছরে বেশি। ক্লায়েন্টরা নিজেরাই চুমুর ছবি, ভিডিয়ো তুলে দিতে অনুরোধ করছেন। অর্ঘ্যনীল মনে করেন, এর পিছনে সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস, ভাইরাল হওয়ার সম্পর্ক নিবিড়। দেবাঙ্গনের মতে, ‘১০ জনের মধ্যে চার-পাঁচ জনই প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার ভিডিয়ো বা ছবি আপলোড করছেন সোশাল মিডিয়ায়।’

সেই গানের লেখক ও গায়ক নচিকেতা এ সব শুনে হাসছেন। তাঁর মনে হচ্ছে, তিনি সফল। নচিকেতার কথায়, ‘আসলে ওই গানটা চুমু খাওয়ার জন্য যতটা, তার চেয়েও বেশি লিখেছিলাম ঘুষ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এখন তো ঘুষটা দেখছি নরমাল। চুমুটা আজকাল আরও বেশি নরমাল। এটা দেখে ভালো লাগে।’

Scotch Price : নিখাদ উপভোগ! বং পেগে স্কচ অন দ্য রকস
২০১৪-র হোক কলরব আন্দোলন চলাকালীন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা যাদবপুর থানার সামনে দাঁড়িয়ে হোক চুম্বন আন্দোলন করেছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে বহু মানুষই কড়া সমালোচনা করেছিলেন পড়ুয়াদের। কিন্তু পড়ুয়াদের প্রশ্ন ছিল, প্রকাশ্যে চুমু খাওয়াটা কেন অন্যায় হবে? অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র যদিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘শুধু চুমু খাওয়ার ছবি বা ভিডিয়ো ভাইরাল হলেই হবে না। নিজে চুমু খেয়ে ভিডিয়ো দিয়ে ভাইরাল হলাম। আবার সেই আমিই অন্য কোনও মহিলার খোলামেলা পোশাক দেখে উল্টোপাল্টা কমেন্ট করলাম- এমন মনোভাব যেন না-হয়।’ শ্রীলেখার প্রস্তাব, প্রগতিশীল হতে গেলে সব দিক থেকেই যেন তা বজায় থাকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *