Mid Day Meal Programme : মিড ডে মিলের সঙ্গে থাকছে ব্রেকফাস্টও! অভিনব উদ্যোগ বর্ধমানের স্কুলে – besides mid day meal programee bardhaman school teachers arranging breakfast for students


সকালে প্রাতরাশ। দুপুরে মিড ডে মিল। রাজ্যেরই এক স্কুলে চালু হচ্ছে এই অভিনব ব্যবস্থা। স্কুলের শিশুদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগের আয়োজন করা হতে চলেছে বর্ধমানের শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাইমারি বিদ্যালয়ে। স্কুলের উদ্যোগেই আয়োজিত এই নতুন পরিকল্পনার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘সকালের পুষ্টি, সকলের পুষ্টি’।

কী জানা যাচ্ছে?

স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, সকালে শিশুরা স্কুলে এলেই পাবে ব্রেকফাস্ট। তারপর বেলায় মিলবে মিড ডে মিলের খাবার। স্কুলের শিক্ষকদের উদ্যোগেই প্রতিদিন সকালে প্রাতরাশ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজ্যের মধ্যে এই প্রথম বর্ধমান শহরের শ্যামসায়র অঞ্চলের শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাইমারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্যোগে বুধবার থেকে চালু হতে চলেছে এই নয়া প্রয়াস।

কেন এমন উদ্যোগ?

জেলা তথা দেশের প্রাথমিক স্কুল স্তরে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ বলেই মনে করছেন স্কুল কর্তপক্ষ। বুধবার সরকারি আধিকারিকদের হাত ধরেই প্রকল্পের উদ্বোধণ হবে। ‘সকালের পুষ্টি, সকলের পুষ্টি’ নামে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে চলেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী ও শিক্ষিকা লাবন্য রায় ভাবনায়। তাঁদের এই অভিনব ভবনাকে সাধুবাদ জানিয়ে হাত বাড়িয়েছেন প্রধান শিক্ষকের বন্ধু ডঃ রাসবিহারী ধনী। এই তিনজনের আর্থিক সহায়তায় গড়ে উঠতে চলেছে প্রকল্প।

খরচ কী ভাবে হবে?

প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয়েছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই প্রকল্পে বছরে ৩ লাখ টাকা খরচ করা হবে। প্রত্যেক বছরের খরচের অর্ধেক খরচ করবেন শিক্ষিকা লাবণ্য রায় এবং বাকি অর্থ খরচ করবেন প্রধান শিক্ষক এবং বন্ধু রাসবিহারী ধনী।

কী বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ?

প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এই ভাবনার প্রধান কারণ হল তিনি দীঘদিন ধরে লক্ষ্য করছেন যে বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন কিছু না খেয়েই সকালে বিদ্যালয়ের আসে। বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল প্রকল্পটি শুরু হয় সকাল ১০ থেকে। তাই আগের দিন রাত থেকে পরের দিন পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা শিশুরা কিছু না খেয়েই থাকে।’ তিনি আরও জানান, যেসব বাচ্চারা টিফিন নিয়ে আসে তা যথেষ্ট অস্বাস্থ্যকর। তাই এই দুই ভাবনাকে মাথায় রেখে এই প্রকল্পটি শুরু করা হয়েছে।

কী বলছেন এগিয়ে আসা শিক্ষকরা?

শিক্ষিকা লাবণ্য রায় ও ডঃ রাসবিহারী ধনীর সাহায্য ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার কোনও সুযোগ ছিল না। যতদিন তাঁরা চাকরি করবেন ততদিন এই প্রকল্প সুন্দরভাবে চালনার আশ্বাস দেন। শিক্ষিকা লাবণ্য রায় জানিয়েছেন, সমাজের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ছোট থেকেই ছিল। তাঁর ইচ্ছা প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরীর হাত ধরেই পূরণ হচ্ছে বলে খুব খুশি তিনি।

Mid Day Meal Scheme : মিড ডে মিলের রিপোর্ট পেশে এগিয়ে বাংলা, কে কোথায় দাঁড়িয়ে?
তিনি বলেন, ‘স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিজের সন্তানসম বলে মনে করি, তাই এই উদ্যোগ।’ ডঃ রাসবিহারী ধনী জানিয়েছেন, সমাজে কিছু ভালো কাজ করার ইচ্ছা, তাই বন্ধুর এই প্রকল্পে সহায়তা করছি। শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাইমারি বিদ্যালয় একটি আদর্শ জায়গা। তাই বিদ্যালয়ের পূর্বের কিছু উদ্ভাবনী মূলক কাজ । স্কুলের দাবি, সরকারী বিদ্যালয়ে নিজেদের উদ্যোগে এই প্রাতরাশ প্রকল্পটি সম্ভবত ভারত বর্ষে প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে। তবে স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল পরিদর্শক অতনু হাজরা এই প্রকল্পের কাজে সহায়তা করছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *