Food Fair 2023 : মেলায় হিট বন্দিদের হাতে তৈরি বিরিয়ানি – burdwan utsav maidan food fair hit prisoners biryani stall


এই সময়, বর্ধমান: বিভিন্ন ঘরানার এ টু জ়েড খাবারের স্টল নিয়ে বর্ধমানের উৎসব ময়দানে চলছে খাদ্যমেলা ‘খাদ্যান্বেষণ-২০২৩’। বর্ধমান তো বটেই, খাবারের স্টল দিয়েছে কলকাতা, হুগলির প্রথম সারির রেস্তরাঁগুলিও। এমন ৬০টি বিভিন্ন খাবারের স্টলে প্রতিদিনই ভিড় হচ্ছে। তারই মধ্যে সকলের নজর কেড়েছে মেলার পিছনের দিকে এককোণে থাকা ৪২ নম্বর স্টল ‘উদয়ন’।

বিরিয়ানি, চিকেন চাপ মিলছে ‘উদয়ন’-এর স্টলে। বিক্রি করছেন জনা চারেক ব্যক্তি। সকলের পরনে সাদা শার্ট বা টি-শার্ট ও সাদা ট্রাউজ়ার। আর তাঁদের আশপাশে রয়েছেন কয়েকজন পুলিশকর্মী। খাবার বিক্রেতা ওই ব্যক্তিদের স্টল চালাতে সাহায্যও করছেন তাঁরা। অনেকেই বিভিন্ন স্টল ঘুরে এসে দাঁড়িয়ে পড়ছেন ৪২ নম্বর স্টলে।

সেখানে থাকা একটি ব্যানার দেখে খাবারও কিনছেন তাঁরা। ব্যানারে লেখা— ‘বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার আবাসিকদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী চালিত নিজস্ব ক্যান্টিন’। যাঁরা রেঁধে বিক্রি করছেন তাঁরা প্রত্যেকেই বর্ধমানের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী। স্টলে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহায্য করছেন সংশোধনাগারের সাব জেলার সত্যদীপ রায়-সহ আরও অনেকে।

‘উদয়ন’-এর পাশেই রয়েছে একটি নামী রেস্তরাঁর স্টল। দু’টি স্টলেই চিকেন বিরিয়ানির দাম ১২০ টাকা। তবে চিকেন চাপ ১৫ টাকা বেশি দামে বিকোচ্ছে ওই নামী রেস্তোরাঁর স্টলে। খাবারের মান? ‘উদয়ন’-এ খাবার নিতে আসা শাঁখারিপুকুরের অলোক সাহা বলেন, ‘গত ২৫ তারিখ মেলার শুরুর দিনে এখান থেকে ৫ প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়েছিলাম। তার দু’দিন পরে আবারও নিয়েছি। সত্যি বলতে বন্দিদের হাতে তৈরি খাবার বলে নয়, খাবারের মানটা সত্যিই ভালো।’

ওই স্টল থেকে খাবার কিনে সমীর মুখোপাধ্যায় নামে আর একজন বললেন, ‘বন্দিদের হাতে তৈরি এই বিরিয়ানিতে তাঁদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরার একটা অন্য স্বাদ আছে।’ জানা গিয়েছে, বর্তমানে মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি নবীনচন্দ্র সাহা বর্ধমান রেঞ্জের ডিআইজি থাকাকালীন এই উদ্যোগটি নিয়েছিলেন।

Burdwan Railway Station : প্ল্যাটফর্মে অবৈধ হকার নিয়ে রেল-বিজেপি দ্বন্দ্ব
তিনি বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এবার মালদা ও মুর্শিদাবাদ থেকে ৫ জনকে বর্ধমান সংশোধনাগারে পাঠিয়েছি। ওঁরা মূলত রসগোল্লা, গোলাপজামের মতো মিষ্টি তৈরি করছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এই উদ্যোগ রাজ্যের বেশ কয়েকটি সংশোধনাগের নিয়েছি। সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা তাঁদের মেয়াদ শেষ হলে সমাজে বেরিয়ে যাতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।’

রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরির বক্তব্য, ‘আইনে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের প্রতিভা যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য এ ভাবেই আমরা তাঁদের নানা ভাবে কাজে লাগাই। মেলার স্টল থেকে যা লাভ হবে সেই অর্থ জমা পড়বে বন্দিদের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাকাউন্টে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *