ICDS Centres : ৪ বছর ধরে বারান্দায় অঙ্গনওয়াড়ি – anganwadi center conducting classes in balcony for 4 years in howrah shyampur


এই সময়, শ্যামপুর: উম্পুনের ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র! আর তার মাসুল দিচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চারা। মাথার উপর ছাদ নেই, তাই বারান্দায় বসেই চলছে পড়াশোনা। খাওয়া দাওয়াও সেখানে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বারবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে, কিন্তু কাজ হয়নি। স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।

হাওড়া গ্রামীণের শ্যামপুর-১ ব্লকের কমলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোটরা পশ্চিম ও নুনেবাড় উত্তর মিলিয়ে দু’টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। শ্যামপুর-১ ব্লকের কোটরা জুনিয়র হাইস্কুলের জমিতে একটি অ্যাজবেস্টার্সের ঘরে চলত কেন্দ্র দু’টি। দু’টি সেন্টার মিলিয়ে প্রায় দেড়শো পড়ুয়া। উম্পুন ঝড়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অ্যাসবেস্টার্সের চাল উড়ে যায়।

ঠাঁই হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় জোড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। শেষে জুনিয়র হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের স্কুলের বারান্দায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই থেকেই দালানে বসেই খুদে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন চলছে। এখন একটু ঠান্ডা পড়ায় খানিক বাঁচোয়া। কারণ বারান্দায় কোনও পাখা নেই, তাই প্রচণ্ড গরমে কাহিল হয়ে পড়ে বাচ্চারা।

গরমের সময় বাচ্চাদের মায়েরা হাত পাখা নিয়ে এসে বাতাস করেন। চার বছর ধরে এ ভাবেই চলছে। কোনও বদল আসেনি। চার বছর আগে মাথার উপর শেড, সিলিং ফ্যান সব কিছুই ছিল বলে জানিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণি শ্যামলী রায়। তিনি বলেন, ‘বারান্দায় যেখানে বাচ্চারা বসে সেখানে বৃষ্টি হলেই জল পড়ে। তাই মেঝেতে গামলা বসিয়ে রাখতে হয়।’

শ্যামলী জানালেন, ব্লক প্রশাসন ও বিধায়ককে এ নিয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কোনও সুরাহা মেলেনি। অথচ চার বছর কেটে গিয়েছে। এই কষ্টের মধ্যেই বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতে হয়। পাশে রান্নাঘরের হালও খারাপ ছিল। সেটা নিজেরা পয়সা খরচ করে মেরামত করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবক পম্পা মাইতি বলেন, ‘গরম ও বর্ষাকালে সবচেয়ে অসুবিধা। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই। তাই বেহাল অবস্থা দেখেও বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠাতে হয়।’
Howrah School : ইংরেজি মাধ্যম নয়, একগুচ্ছ সুবিধা সরকারি স্কুলে! ফ্লেক্স টাঙিয়ে বিজ্ঞাপন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
আর এক অভিভাবক সুপ্রিয়া মাল বলেন, ‘আর একটি সমস্যাও রয়েছে। যেহেতু জুনিয়র হাইস্কুলের বারান্দায় এখন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলে, তাই সকালে তাড়াতাড়ি ক্লাস শেষ করতে হয়। কারণ জুনিয়র হাইস্কুলের পঠনপাঠনের সময় হয়ে যায়।’ এ প্রসঙ্গে কমলপুর গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান শেখ আলি আসগার বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের এতদিন কেউ জানায়নি‌।’

তবে খুব শিগগিরই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটিকে সারানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অভিভাবকদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি করে দিক।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *