Mahua Moitra : তাপস পাল থেকে মহুয়া মৈত্র! বিতর্কের শীর্ষে নদিয়ার লোকসভা কেন্দ্র, কী বলছে কৃষ্ণনগর? – mahua moitra expulsion from lok sabha krishnanagar constituency leaders gives mixed reaction


খ্যাতনামা ফুটবলার কল্যাণ চৌবেকে দিয়ে বাজিমাৎ করতে চেয়েছিল বিজেপি। সেন্টার পয়েন্ট থেকে গোল দিয়ে কৃষ্ণনগর আসনটি জিতে নিয়েছিলেন লোকসভার ‘প্রতিবাদী’ সাংসদ। ব্যবধান রেখেছিলেন প্রায় ৬০ হাজারের কাছে। সেই কেন্দ্র সাক্ষী থাকল বিজয়ী সাংসদকে লোকসভা থেকে বরখাস্ত করার। কেন্দ্রের সাংসদকে বরখাস্ত হতে দেখে কি বলছে নদিয়া?

পাশে আছে তৃণমূল

দীর্ঘ টালবাহানার পর শুক্রবার সংসদে বহিষ্কৃত কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এথিক্স কমিটির ঘোষণার পরেই স্বয়ং দলনেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মহুয়ার পাশে আছে বলে দাবি করেছেন। একই সাথে আগামী লোকসভা নির্বাচনেও তাঁকেই টিকিট দেওয়ার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশে আছে মহুয়া মৈত্রের সংসদীয় এলাকা কৃষ্ণনগরের আপামর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। ইতিমধ্যেই মহুয়া মৈত্রের বহিষ্কার নিয়ে জেলায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

কী মত বিজেপির?

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের গোটা পরিবার মহুয়া মৈত্রের পাশে থাকলেও সংসদের বহিষ্কার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিজেপি। নদিয়া উত্তর বিজেপির বিজেপি নেতা সৈকত সরকার বলেন, ‘অর্থ ও উপহারের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যেটা আমাদের ভাবতে একেবারেই অবাক লাগে।’ তাঁর কথায়, যে তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাংসদ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয়ে তাঁদের হয়ে প্রশ্ন করেছেন। অথচ সাংসদে যে কয়টি প্রশ্ন তিনি করেছেন তাতে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের জন্য একটি প্রশ্নও করেননি। যাঁরা তাঁকে জিতিয়ে সাংসদে পাঠিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা করেছেন। কৃষ্ণনগরের নাগরিকদের সুখ-দুঃখ বা অভাব অভিযোগের কথা তিনি সংসদে একটিবারের জন্যও তোলেন নি বিগত পাঁচ বছরে। তাই এথিক্স কমিটির সিদ্ধান্তে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয় কৃষ্ণনগরবাসী হিসেবে লজ্জিত।

একইভাবে মত পোষণ করেছেন নদিয়া উত্তর বিজেপির শিক্ষা সেলের সভাপতি অমিত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষ্ণনগর বাসী হিসেবে লজ্জিত যে কৃষ্ণনগর তৃণমূল কংগ্রেসের যে দুজন সংসদ পেয়েছে তারা দুজনেই কৃষ্ণনগরকে কলঙ্কিত করেছে।’ একজন প্রয়াত সংসদ তাপস পাল তিনি বেআইনি অর্থ লগ্ন সংস্থার সাথে জড়িয়ে জেল খেটে এসেছেন তার কাছ থেকে মানুষ কোনও পরিষেবা পায়নি। অন্যজন বর্তমান সাংসদ মহুয়া মৈত্র যিনি ব্যবসায়িকদের স্বার্থের জন্য ব্যবসায়িকদের প্রলোভনে পা দিয়ে তাদের সাথে প্রশ্ন করেছেন সংসদে। কৃষ্ণনগরবাসীর জন্য কোনও প্রশ্ন নয়। এটা আমাদের লজ্জা যে কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস যে দুজন সংসদ উপহার দিয়েছে, তারা দুজনেই কৃষ্ণনগরের মানসম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।

তৃণমূল কী বলছে?

যদিও বিরোধীদের আমল দিতে রাজি নন তৃণমূল কংগ্রেস। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবাশীষ রায় বলেন, ‘বিজেপি সরকার হিটলারী শাসন চালাচ্ছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছেন। মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে যেটা হল সেটা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরব হয়ে ভারতবর্ষের বিরোধী সাংসদের তালিকায় এক নম্বর মহুয়া মৈত্র।’ তাঁদের কথায়, তাঁদের শ্রেষ্ঠ অথবা সেরা সংসদের পুরস্কার না দিয়ে তাঁকে তিরস্কার করল এথিক্স নামক একটি কমিটি অর্থাৎ বিজেপি পরিচালিত এই এথিক্স কমিটি।

Mahua Moitra Salary Allowances : লক্ষাধিক টাকার বেতন-বিদেশ ভ্রমণ-বাংলো! কোন কোন পুরনো অভ্যাস ছাড়তে হবে মহুয়াকে?
সিপিএম কী বলছে?

অন্যদিকে মহুয়া মৈত্রের বহিষ্কারের বিষয় জেলা সিপিআইএম সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সুমিত বিশ্বাস জানান, মহুয়া মৈত্রের বহিষ্কারের বিষয়ে এটা স্পষ্ট ভারতবর্ষে নরেন্দ্র মোদী এবং আধুনিক বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারবে না। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর আগেও এথিক্স কমিটি ছিল। তখন তৃণমূল জোট সরকারের সময়ে বিজেপির দুজন সংসদের বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটি বসার সাহস বা সুযোগ পায়নি। মোটামুটি ভাবে মহুয়া মৈত্রের বহিষ্কারের পর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেল বিজেপির বিরুদ্ধে কিংবা মদি বা আদানিদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে তার পরিণাম হয়তো এটাই হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *