কী জানা যাচ্ছে?
মিউজিক থেরাপি আজ জেলা সদর বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অন্যতম মেডিসিন। যা এবার শুরু হল মেডিসিন ওয়ার্ডে। এর ফলে রোগীর মানসিকতা অনেক দিক থেকেই পরিবর্তন হচ্ছে, রোগী দ্রুত সুস্থও হচ্ছে। আগামী দিনে গোটা হাসপাতালেই এর প্রয়োগ চালু হবে বলেই জানালেন চিকিৎসকরা।
কী ভাবে হচ্ছে ট্রিটমেন্ট?
গানের সুরেই মিলছে রোগমুক্তি! অবাক লাগলেও এখন এমনটাই হচ্ছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে। ওয়ার্ডে রাখা সাউন্ড সিস্টেম থেকে ভেসে আসছে বিভিন্ন ধরনের গানের সুর। আর সেই সুরেই সুস্থ হচ্ছেন রোগীরা। এই পদ্ধতিতে ব্যাপক সাড়া মেলায় এবার পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডেও চালু করা হয়েছে মিউজিক থেরাপি। কয়েক মাস আগেই শিশুদের ওয়ার্ডে এবং প্রসূতি বিভাগে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয়েছিল মিউজিক থেরাপি। মূল রোগের পাশাপাশি রোগীকে মানসিক ভাবে সুস্থ করার কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে এই বিশেষ পদ্ধতি।
ব্যবহার হচ্ছে রবীন্দ্র সঙ্গীত
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এখন চলছে এই মিউজিক থেরাপি। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাজতে শোনা যাচ্ছে রবীন্দ্র সংগীত বিভিন্ন ধরনের ইন্সট্রুমেন্টাল মিউজিক। আর সেই গানের সুরে গলা মেলাচ্ছেন চিকিৎসাধীন রোগীরা। শুধু রোগীরাই নন, চিকিৎসক নার্সরাও গানের সুরে গলা মিলিয়ে মনকে সতেজ রাখছেন।
হাসপাতালের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, বর্তমানে বারাসাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মহিলা ও পুরুষদের দুটি মেডিসিন ওয়ার্ড, একটি শিশু বিভাগ ও একটি প্রসূতি বিভাগে বসানো হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। আর তাতেই সারাদিন বাজছে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি, শিশুদের গান ও বিভিন্ন মিউজিক। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মানসিক বিকাশ ঘটছে বলে মনে করছে হাসপাতাল সুপার সুব্রত মণ্ডল। শুধু গান শুনেই অনেক অসুস্থ মানুষ মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং সেই কারণেই রোগমুক্তির জন্য মিউজিকথেরাপির প্রচলন হয়েছে বলেই জানান সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডল। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি এবার বাংলাতেও সেই পদ্ধতি শুরু হয়েছে জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
কী বললেন হাসপাতাল সুপার?
হাসপাতাল সুপার ডা: সুব্রত মণ্ডল জানান, হাসপাতালের মোট চারটি ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি মিউজিক সিস্টেম বসানো হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা মানসিকভাবে ঠিক থাকছেন, তেমনই নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও উৎসাহ পাচ্ছেন কাজে। হাসপাতালে ভর্তি থাকলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, খিটখিট হয়ে যায়। সেই জায়গা থেকে মিউজিক থেরাপির ফলে অনেকটাই সুফল মিলছে। প্রায় ছশোর মত রোগী এই মিউজিক থেরাপির আওতায় আছেন বলেও জানা গিয়েছে। শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায়, খুশি হচ্ছেন রোগীর পরিবার পরিজনেরাও।