DYFI West Bengal : শূন্য তবু শূন্য নয়! বামেদের ব্রিগেড ভর্তি করতে ১৫০০০ গাড়ি বুকড – left front west bengal booked 15000 car for the brigade in kolkata


রাজ্য বিধানসভায় খাতায়কলমে তাঁরা শূন্য। কিন্তু ব্রিগেডে সেই শূন্যের শক্তি দেখাতে বিপুল সংখ্যায় ছোট গাড়ি, টেম্পো, মিনিডোর, পিকআপ ভ্যান, বাস, মিনিবাস বুক করেছে সিপিএমের যুব ব্রিগেড। ২০২১-এর ভোটে বিধানসভায় শূন্য হয়ে যাওয়ার পরে আগামী ৭ জানুয়ারি প্রথম ব্রিগেড সমাবেশ করতে চলেছে বামেরা।

সেখানে বড় জমায়েতের লক্ষ্যে সমর্থকদের আনতে যে ছোট-বড় গাড়ি ভাড়া করা হচ্ছে, সারা রাজ্যে সেই সংখ্যাটা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বের দাবি। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের দূরবর্তী প্রান্তের কর্মী-সমর্থকরা কয়েক হাজার ট্রেনের টিকিটও কেটে ফেলেছেন ইতিমধ্যে। ট্রেনের পাশাপাশি সড়ক পথেও লক্ষাধিক কর্মী-সমর্থককে আনতেই বড় সংখ্যায় বাস-টেম্পো বুক করেছে বামেরা।

ডিওয়াইএফআই-র ‘ইনসাফ যাত্রা’র শেষে যুব সংগঠনের ব্যানারে এই ব্রিগেড হতে চললেও ময়দান ভরাতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে চলেছে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই প্রথম বামেরা ব্রিগেড করতে চলেছে, যখন বিধানসভায় তাদের একজনও প্রতিনিধি নেই। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে বামেদের সবচেয়ে দুর্দিনে ডিওয়াইএফআই-র ব্যানারে ব্রিগেড করতে চলেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, দেবজ্যোতি সাহা, হিমঘ্নরাজ ভট্টাচার্যরা। বামেরা এই ব্রিগেড ভরাতে পারবে কি না—রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে এই প্রশ্ন যে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা সিপিএম নেতৃত্বও ভালোভাবে জানেন।

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফের যৌথ ব্রিগেড সমাবেশ হয়েছিল। সেখানে কংগ্রেস সমর্থক ছাড়াও পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির অনুগামীরা ভিড় করে ব্রিগেডের একাংশ ভরিয়ে দিয়েছিলেন। এবার একক শক্তিকে ব্রিগেড ভরাতে অতীতের মতোই প্রত্যেক জেলাকে নির্দিষ্ট সংখ্যায় সমর্থক আনার টার্গেট বেঁধে দিয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শমীক লাহিড়ির কথায়, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকেই অন্তত ২৫-৩০ হাজার মানুষ ব্রিগেডে যাবেন। সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ এই সমাবেশে যোগ দিয়ে ব্রিগেড ভরিয়ে দেবেন।’

৭ জানুয়ারির ব্রিগেড সমাবেশের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছে। ব্রিগেডে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া নিয়ে জট যে রয়েছে, শনিবার হুগলির হরিপালে দলীয় কর্মসূচিতে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথায় তার ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও ডিওয়াইএফআই-র রাজ্য সভাপতি দেবজ্যোতি সাহার সাফ কথা, ‘ব্রিগেডে আসতে ইতিমধ্যে অনেক যানবাহন বুক করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে যাঁরা আসবেন, তাঁরা ট্রেনের টিকিট কেটে নিয়েছেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে যে ভাবে পারবেন, এই ব্রিগেডে আসবেন।’

DYFI Insaaf Yatra : ইনসাফ যাত্রা ঘিরে স্বপ্ন দেখছে সিপিএম
উত্তরবঙ্গ ও দূরবর্তী জেলা থেকে যাঁরা ব্রিগেডে আসেন, তাঁরা সাধারণত সমাবেশের আগের দিন কলকাতায় পৌঁছন। অতীতে ময়দানের একাংশে যেখানে একদা বইমেলা হতো, সেখানে বাম নেতৃত্ব দূরের জেলার কর্মী-সমর্থকদের অস্থায়ী প্যান্ডেলে রাখার বন্দোবস্ত করতেন। সিপিএমের কলকাতা জেলা নেতৃত্বের কাঁধেই এই দায়িত্ব থাকে।

সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের কথায়, ‘কত কর্মী-সমর্থক সমাবেশের আগের দিনে চলে আসবেন, আনুমানিক সেই সংখ্যা যুব নেতৃত্ব আমাদের জানাবেন। ওঁরাই পরিকল্পনা করবেন। সেই অনুযায়ী বন্দোবস্ত করা হবে।’ ডিওয়াইএফআই-র ব্যানারে এবার ব্রিগেড সমাবেশ হওয়ায় বক্তা তালিকায় শুধু যুব নেতৃত্ব থাকবেন, নাকি সেলিম-সহ প্রাক্তন যুব নেতৃত্বও ভাষণ দেবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

তবে সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি-র যুব নেতৃত্বকেও এই সমাবেশে আমন্ত্রণ করবে ডিওয়াইএফআই। নাগরিক সমাজের বিশিষ্টদেরও আমন্ত্রণ করা হবে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *