Rajeev Kumar IPS : খাদিম কর্তা অপহরণকাণ্ড থেকে মাওবাদী দমন! রাজীব কুমারের সিভিতে রয়েছে কী কী? – rajeev kumar ips new director general of west bengal police biography details


রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ইতিহাসে দুঁদে পুলিশ অফিসারদের তালিকায় অবশ্যই নাম থাকে রাজীব কুমারের। কলকাতা পুলিশ, সিআইডি থেকে চিট ফান্ড কেস হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা, সব মিলিয়ে বহু উত্থান পতন গিয়েছে এই পুলিশ কর্তার জীবনে। দেখে নেওয়া যাক, সাফল্যমণ্ডিত ততোধিক বিতর্কিত এই পুলিশ কর্তার ক্যারিয়ার গ্রাফ।

ইতিহাসের শুরু কোথায়?

উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাজীব কুমার রুরকি থেকে কম্পিউটর সায়েন্সে বি-টেক। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষ তিনি বলেই পুলিশ মহলে শোনা যায়। ১৯৮৯ সালে তিনি আইপিএস হন। ২০১৬ সালে তিনি কলকাতা পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। সুরজিৎ কর পুরকায়স্থর জায়গায় তাঁকে কলকাতা পুলিশ প্রশাসন সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এর আগে বীরভূমের এসপি, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের স্পেশাল এসপি, কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার, এসটিএফের জয়েন্ট কমিশনার, সিআইডি-র ডিআইজি ইত্যাদি পদে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর অপারেশন

যদিও, কলকাতা পুলিশ কমিশনার হওয়ার আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনার এবং কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের চিফ ছিলেন তিনি। ২০১২ সালে রাজীব কুমারকে নবগঠিত বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে কাজের নিরিখে একের পর এক সাফল্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুডবুকে নিয়ে আসে। এর মধ্যে অন্যতম হল মাওবাদী দমন। রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুসারে রাজ্য পুলিশের গোপন অভিযান মূলক একাধিক অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাজীব কুমার। রাজ্য পুলিশে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অপারেশন এবং ইনভেস্টিগেশন প্রক্রিয়ার অন্যতম পুরোধা ছিলেন এই রাজীব কুমার।

কর্মব্যস্ততার মাঝে রাজীব কুমার

কর্মব্যস্ততার মাঝে রাজীব কুমার

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের দায়িত্বে থাকাকালীন সন্ত্রাসবাদী পাকড়াও, জাল নোট বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত অভিযান, আমোরিকান সেন্টারে ২০০২ সালের হামলা এবং ২০০১ সালে খাদিম কর্তা অপহরণ মামলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। সাফল্যের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে তাঁর। এরপরেই রাজ্যে মাওবাদী দমনের অপারেশনে দারুণ সাফল্য নিয়ে আসে তাঁর বিশেষ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর অপারেশন। দিল্লি ও মুম্বই পুলিশের এসটিএফের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ অপারেশনের ক্ষেত্রে সাফল্য নিয়ে আসে।

খাদিম কর্তা অপহরণ থেকে সারদা

একের পর এক সাফল্যের খতিয়ান দেখার পর তাঁকে ২০১৬ সালে কলকাতা পুলিশের কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ঠিক আগেই ২০১৩ সালে সারদা চিট ফান্ড সংক্রান্ত মামলায় স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের মাথায় বসানো হয় তাঁকে। রাজীব ও তাঁর টিম সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন ও তাঁর দুই সহযোগীকে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করে।

Kunal Ghosh On Rajeev Kumar : ‘কারও নির্দেশে আমার মতো নির্দোষের জীবন নষ্ট করবেন না’, রাজীব কামব্যাকে বিস্ফোরক কুণাল
শেষমেষ এই সারদা চিট ফান্ড সংক্রান্ত মামলাই তাঁর সাফল্যমণ্ডিত পুলিশ জীবনে বিতর্ক ডেকে আনে। সিবিআই এই তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে মামলার একাধিক নথি, তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজীব কুয়েমের বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। এরপর সিবিআই তাঁকে জেরা করতে চাইলেও প্রায় ২০ দিন ধরে তাঁর অন্তর্ধান রাজ্য রাজনীতির আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল। এই বিতর্ক মেটার পরবর্তীকালে তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। তবে পুলিশি কর্মকাণ্ডের থেকে কিছুটা অন্তরালে ছিলেন তিনি। ফের রাজ্য রাজনীতিতে সামনে চলে এল একদা বহুলচর্চিত রাজীব কুমারের নাম।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *