Nadia News Today : মহুয়ার গড় করিমপুরে সমবায় ভোটে উড়ে গেল তৃণমূল, ‘জোট’ বেঁধে জয় বিরোধীদের – tmc loses co operative election in krishnanagar karimpur


বিজেপিকে সঙ্গী করে বোর্ড দখল বাম-কংগ্রেসের। লোকসভা ভোটের আগে নতুন এই সমীকরণকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৃষ্ণনগরে। নদিয়ার কিশোরপুর কৃষি সমবায় উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের পরিচালন কমিটি নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা ৪৯। বাম, বিজেপি ও কংগ্রেস যৌথভাবে সমস্ত আসনে প্রার্থী দিলেও তৃণমূল তা পারেনি। ২টি আসন বাদে সমস্ত আসনে প্রার্থী দিতে সক্ষম হয় তৃণমূল।

কৃষ্ণনগর লোকসভার অন্তর্গত করিমপুর ২ নম্বর ব্লকের নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে এই সমবায় সমিতিতে ভোটারের সংখ্যা ১,২১৯। এবারের সমবায় সমিতির নির্বাচন প্রথম থেকেই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। রবিবারের নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেল ৪৯টি আসনের মধ্যে বাম-বিজেপি-কংগ্রেস জোট জয় লাভ করেছে ৩৭টি আসনে। উলটো দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে ১২টি আসন। মোট প্রদত্ত ভোটের নিরিখে ৬৮ শতাংশ ভোট যায় জোটের দখলে। আর শাসকদলের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ ভোটার।

যদিও বিজেপি অবশ্য সরাসরি এটিকে জোট বলে মানতে নারাজ। বিজেপি সমর্থিত বিদ্যান মণ্ডল নামে এক সদস্য বলেন, ‘৪৯টি আসনে ভোট হয়েছে, আমরা ৩৭টি পেয়েছি, সিপিএম কংগ্রেস জোট হয়েছে, আমি বিজেপির সদস্য, আমি ৭৬টি ভোট পেয়েছি, খুবই ভাল লাগছে, মানুষকে যতটা সুবিধা দেওয়া যায়, তা দেব।’

নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, ‘তৃণমূল বিরোধী শক্তি একত্রিত হয়ে ভোটে লড়েছে। রাজ্যে বামেদের অস্তিত্ব নেই, তাই জোটের কোনও প্রশ্নই আসে না।’ সিপিএম নদিয়া জেলা কমিটির সম্পাদক সমীর দে বলেন, ‘বামেরা একক ক্ষমতায় যতগুলি আসনে পেরেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। আমরা বেশ কয়েকটা আসন জিতেছি।’ এদিকে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, ‘বাম – কংগ্রেস যৌথভাবে বিজেপিকে সঙ্গে নিয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছিল, স্বভাবতই ককটেল জোটের থেকে কিছু আসন কম আমরা পেয়েছি। মানুষ যা বোঝার বুঝে নিয়েছে, লোকসভায় এর উত্তর দেবে।’

প্রসঙ্গত, সমবায় নির্বাচনে এর আগেও রাজ্যে বিরোধীরা একজোট তৃণমূলকে পরাজিত করার নজির রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বাম, বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। পালটা আবার অনেক জায়গায় সরাসরি জোটের কথা স্বীকারও করেনি বিরোধীরা। কোথাও আবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মানুষের জোট’ হয়েছে বলে দাবি করতে শোনা যায় বিরোধীদের।

উল্লেখ্য, এই সমবায় সমিতিটি জঙ্গিপুর লোকসভার আওতায় পড়লেও, করিমপুর তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার অধীনস্থ। বর্তমানে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া মৈত্র। আর প্রথম থেকেই করিমপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন মহুয়া। সেক্ষেত্রে তাঁর গড়ে তৃণমূলের এই হার খুব স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে শাসকদলের কপালে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *