সিবিআই সূত্রে খবর, গত নভেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুই তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই। সেই সময় বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ উঠে আসে সিবিআই আধিকারিকদের হাতে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি এই দুই তৃণমূল কাউন্সিলরের কোনও যোগসূত্র ছিল কিনা সে ব্যাপারেই জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এদিন দুজনকে ডেকে পাঠায় সিবিআই।
এদিন সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ জানান, তাঁকে আগামী ৩১ জানুয়ারি, বুধবার ফের ডাকা হয়েছে। এদিন যেরকম তিনি সিবিআইয়ের ডাকে হাজিরা দিয়েছেন, আগামী দিনেও তিনি হাজিরা দেবেন বলে জানান দেবরাজ। অন্যদিকে, দেবরাজ্যের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে বের হন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। যদিও, তাঁকে আর তলব করা হয়নি। বাপ্পাদিত্য বেরিয়ে জানান, তাঁকেও যদি আগামী দিনে ডাকা হয়, তিনিও তদন্তে সহযোগিতা করবেন।
এদিন জেরা মেটার পর দেবরাজ বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে ওঁরা কিছু নথি পেয়েছিল। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডাকা হয়েছিল। এছাড়াও আরও কিছু নথি চাওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ তারিখ সেই কারণে আমাকে আবার ডাকা হয়েছে।’ অন্যদিকে, বাপ্পাদিত্য বলেন, ‘ আমাকে একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। আমি সেগুলির উত্তর দিয়েছি। আমার বাড়ি থেকে যে নথি পাওয়া গিয়েছিল, তার সঙ্গে ৮০ শতাংশ নিয়োগ দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই। বেশিরভাগ ছিল অনেক ব্যক্তির বায়োডাটা এবং কিছু আয়কর দফতরের কাগজ।’ তিনি জানান, কিছু অ্যাডমিট কার্ড পাওয়া গিয়েছিল, তারা ভিত্তিতে কেউ চাকরি পাননি।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামীর দুটি বাড়িতে এর আগে তল্লাশি চালানো হয়। অন্যদিকে, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ট বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত বাড়িতেও এর আগে তদন্ত চালানো হয়েছিল। কিছু মিসিং লিংক খুঁজে পাওয়ার জন্যেই তদন্তকারী আধিকারিকরা ফের বুধবার নোটিশ পাঠায় দুজনকে। বুধবারের নোটিশে বৃহস্পতিবার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল।
