Gopalnagar Police Station,রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়তেই বেরিয়ে এল প্রেমিকার দেহ – gopalnagar police recovered decomposed woman body


এই সময়, গোপালনগর: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে প্রেমিকাকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দেওয়ার পাঁচ মাস পর উদ্ধার হলো এক মহিলার পচাগলা দেহ। এই ঘটনায় মঙ্গলবারই ওই মহিলার প্রাক্তন প্রেমিক বাকিবিল্লা মণ্ডল এবং তার দিদি তারাবানু মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছিল গোপালনগর থানার পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে জেরা করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাদুড়িয়া ঈশ্বরীগাছায় তারাবানুর শ্বশুরবাড়ির রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে বাকিবিল্লার প্রাক্তন প্রেমিকা রহিমা খাতুনের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

দেহ ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে খুনে আর কেউ যুক্ত ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছে গোপালনগর থানার পুলিশ। নিহত রহিমার বাড়ি গোপালনগর থানার নাতিডাঙা গ্রামে। প্রতিবেশী বাকিবিল্লার সঙ্গে রহিমার প্রেমের সম্পর্কে অমত ছিল পরিবারের। এই নিয়ে দুই পরিবারের অশান্তিও ছিল।

বিষয়টি গড়িয়েছিল গ্রাম্য সালিশি সভায়। পরে গোপালনগরের সাতবেড়িয়া গ্রামের সেলিম মণ্ডলের সঙ্গে রহিমার বিয়ে হয়। রহিমার একটি মেয়েও আছে। এর পর বাকিবিল্লাও বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের পরেও রহিমা এবং বাকিবিল্লা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বজায় রাখে। বছর দুয়েক আগে রহিমা সাত বছরের মেয়েকে বাপের বাড়িতে রেখে বাকিবিল্লার সঙ্গে মুম্বইয়ে চলে যান। বাকিবিল্লার দিদি তারাবানুর শ্বশুরবাড়ি বাদুড়িয়া থানার ঈশ্বরীগাছা গ্রামে। কিন্তু তারাবানু স্বামী জিয়ারুল ইসলামের সঙ্গে থাকত মুম্বইয়ে।

জেরায় পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, মুম্বইয়ে থাকাকালীন তারাবানুর স্বামী জিয়ারুলের সঙ্গেও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রহিমা। বিষয়টি জানতে পেরে আপত্তি তোলে তারাবানু। এই নিয়ে তারাবানুর দাম্পত্য জীবনেও অশান্তি শুরু হয়। তারাবানু এবং বাকিবিল্লার সংসারে অশান্তির কেন্দ্রে থাকায় জোড়া আক্রোশ গিয়ে পড়ে রহিমার উপর। ভাই-বোন দু’জন মিলেই রহিমাকে খুনের প্লট তৈরি করে।

রহিমার খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ গিয়ে পড়ে বাকিবিল্লার উপরেই। গোপালনগর থানায় মিসিং ডায়েরিও করে রহিমার পরিবার। পরে তাঁরা জানতে পারেন বাকিবিল্লার সঙ্গে মুম্বইয়ে আছেন রহিমা। সেখান থেকেই মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন রহিমা। কিন্তু গোল বাধে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ওই সময় থেকেই রহিমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে মেয়ে এবং পরিবারের।

গত বছর ৬ সেপ্টেম্বর বাকিবিল্লা, তারাবানু-সহ আমির হোসেন এবং নুরবানু মণ্ডলের বিরুদ্ধে গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রহিমার মা কাবেরা খাতুন মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, বাকিবুল্লা প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে রহিমাকে ফুসলে মুম্বই নিয়ে গেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করলেও তাদের খোঁজ পাচ্ছিল না পুলিশ। শেষে মঙ্গলবার গোপালনগর থেকেই বাকিবিল্লা এবং তারাবানুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে দিনই ধৃতদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

বন্ধুকে খুনের সপ্তাহখানেক আগে প্লট সাজায় চার কিশোর
পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, মাস ছয় আগে তারাবানু মুম্বই থেকে রহিমাকে নিয়ে আসে ঈশ্বরীগাছা গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে। সেখানেই প্রথমে রহিমাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পরে রান্নাঘরের মাটির নীচে পুঁতে ফেলা হয় দেহ। তারাবানু এবং বাকিবিল্লার স্বীকারোক্তির পর বৃহস্পতিবার দু’জনকে নিয়েই গোপালনগর থানার পুলিশ পৌঁছয় তারাবানুর শ্বশুরবাড়িতে। সেখানে বাদুড়িয়া থানার পুলিশও ছিল।

পুলিশের সঙ্গেই হাজির ছিলেন বাদুড়িয়া ব্লকের বিডিও। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই এ দিন তারাবানুর বয়ান অনুযায়ী রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে রহিমার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি চাউর হতেই বাকিবিল্লাদের গোপালনগরের বাড়িতে চড়াও হন উত্তেজিত প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

রহিমার দাদা নাসিরউদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘বাকিবিল্লা ফুসলে রহিমাকে মুম্বই নিয়ে গিয়েছিল। ওরা মহিলা পাচারে যুক্ত।’ প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করার অভিযোগও করেছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *