SFI West Bengal State Secretary : ‘গীতা-চণ্ডী পাঠের বদলে রাজ্যে সহজপাঠ বেশি প্রয়োজন’, গোল সেট করলেন SFI-এর নয়া রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন – sfi west bengal leader debanjan dey tells about their upcoming goal for student movement


দেশ রক্ষার লড়াই! দেশের সংবিধান রক্ষার লড়াই। ধর্মান্ধতার ঠুলি সরিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে গোটা ছাত্র সমাজকে। তাঁদের পাশে সর্বতভাবে থাকবে SFI। ছাত্র সংগঠননের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজ্য SFI-এর ‘রেজোলিউশন লিস্ট’ কেমন হবে? এই সময় ডিজিটালকে জানালেন নতুন রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে।

SFI -এর একান্ত কর্তব্যের মধ্যে শুরুতেই রয়েছে রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়। দেবাঞ্জনের কথায়, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানোটা আমাদের আশু কর্তব্য। রাজ্য সরকারকে সেই বিষয়ে চাপ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাবে SFI। তিনি বলেন, ‘গুন্ডারাজ, দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে কলেজকে বাঁচাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রয়োজন। সেটা এঁরা করতে চাইছে না দীর্ঘদিন ধরে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন করানোর জন্য আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।’

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ছিছিক্কার রয়েছে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। একদিকে, লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের ধারা মুখ থুবড়ে পড়েছে রাজ্যে বলে দাবি করে আসছেন বিরোধীরা। অচলায়তনের বাধা কাটিয়ে ‘আলোর পথযাত্রী’ হওয়ার রাস্তা খুঁজছেন চাকরি প্রার্থীরা। চলছে দিনের পর দিন অনশন। সেই আন্দোলনে কাঁধ মিলিয়েছে SFI। দেবাঞ্জনের দাবি, আগামী দিনেও ‘কাজের দাবি’ আরও জোরদার করবে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন।

তাঁর বক্তব্য, ‘বর্তমান রাজ্য সরকারের আগাগোড়া দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনের টাকায় তাঁদের নেতারা সম্পদশালী হয়ে চলেছেন। আর অসহায় ছেলেমেয়েগুলো রাস্তায় বসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।’ আন্দোলনরত চাকরি প্রার্থীদের পাশে শুরু থেকেই ছিল SFI, আগামী দিনেও তাঁদের দাবিতে গোটা রাজ্য জুড়ে সরব হবেন তাঁরা বলে দাবি দেবাঞ্জনের।

তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা একই ধারায় সমোচ্চারিত হয়েছে দেবাঞ্জনের গলায়। তরুণ নেতার কথায়, ‘একদিকে বিজেপি ব্যস্ত রাম মন্দির নিয়ে, অন্যদিকে তৃণমূল দেখাতে চাইছে কত বড় জগন্নাথ মন্দির করতে পারেন তাঁরা। একজন গীতা পাঠের কথা বলছেন, অন্যরা তার পালটা চণ্ডীপাঠের কথা বলছেন। আমাদের বক্তব্য, গীতা-চণ্ডী পাঠের অপেক্ষা রাজ্যে সহজপাঠ অধিক প্রয়োজন।’ শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে ‘জলাঞ্জলি’ দেওয়া হচ্ছে, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে যেভাবে নষ্ট করা হচ্ছে, সেই ‘কম্পিটিটিভ কমিউনালিজম’-এর বিরুদ্ধেই আমাদের পথে নামার কর্মসূচি চলবে।

‘লড়াইটা ন্যায় অন্যায়ের হলে কংগ্রেস একদিকে, তৃণমূল অন্যদিকে!’ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য সেলিমের
‘তরুণ বিগ্রেড’ তকমাকে টিকিয়ে রাখতে এসএফআইয়ের রাজ্য সম্মেলন রাজ্য সম্পাদক, সভাপতি, রাজ্য কমিটির মুখপাত্র হিসেবে নতুন মুখ তুলে এনেছে সিপিএম। তবে দেবাঞ্জনের কথায়, ‘আমাদের সিপিএমের ছাত্র সংগঠন বলাটায় একটা আপত্তি আছে। SFI-এর একটা স্বতন্ত্রতা আছে। সেটা পাথেয় করে আমরা এগিয়ে চলি।’ সার্বিকভাবে সিপিএমের ভাবাবেগকে SFI সমর্থন এবং সহযোগিতা করে। যদিও, লোকসভা নির্বাচনের আগে ছাত্র সংগঠনের এই ‘নতুন টিম’কে জনসংযোগের কাজে লাগাতে পিছপা হবে না সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিমরা। যে কোনও নির্বাচনে ছাত্র সমাজের বড় ভূমিকা থাকে। সেক্ষেত্রে আগামী লোকসভা নির্বাচনের মুখে ‘সংবিধান রক্ষা’র লড়াইকে মুখ্য হিসেবে দেখতে চাইছেন নতুন রাজ্য সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, ‘দেশের সংবিধানকে বঙ্গোপসাগরের জলে ফেলে দিতে চাইছে বিজেপি। তাকে সাহায্য করছে এ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস।’ সেখানে গোটা দেশ জুড়েই এই সংবিধান রক্ষার লড়াইয়ের বার্তাই ছাত্র সমাজের কাছে তুলে ধরা হবে সাধারণ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটের কথা মাথায় রেখে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *