ED Raid In West Bengal : গোলকধাঁধা পেরিয়ে হুগলির সন্দীপের বাড়িতে ED, নথির খোঁজে তল্লাশি, জিজ্ঞাসাবাদ মা-স্ত্রীকেও – enforcement directorate raid in hooghly chandannagar sandip sadhukhan house in mgnrega scam


হুগলিতে অভিযান ইডির। এদিন সন্দীপ সাধুখাঁ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালান ইডি কর্তারা। বেলা ১২ টায় সন্দীপ সাধুখাঁর বাড়ি খুঁজে পান ইডি আধিকারিকরা। সন্দীপের স্ত্রী মৌসুমীর কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে তাঁকে ফোন করেন এক ইডি কর্তা। সন্দীপ তখন তার বর্তমান কর্মস্থল খানাকুলের জগতপুর -১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে ছিলেন। তিনি দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন। প্রায় চারটে কুড়ি নাগাদ বাড়িতে পৌঁছন তিনি। সন্দীপ পৌঁছনোর আগে তাঁর স্ত্রী ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ইডি। নথির খোঁজে তল্লাশি চালান হয়। একইসঙ্গে সন্দীপ সাধুখাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা।

কেন অভিযান সন্দীপ সাধুখাঁর বাড়িতে ইডি?
জানা গেছে ২০১৮ সালের পর থেকে ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতি নিয়ে কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হয় রাজ্যের বিভিন্ন থানায়। তার মধ্যে হুগলির ধনেখালি থানাতে একটি অভিযোগ দায়ের হয়। সেই এফআইআর এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ইসিআইআর করে তদন্তে নামে ইডি। ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ এর আগে অনেকবার উঠলেও এই প্রথম তার তদন্তে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই মত এদিন ৪ জেলার ৬ জায়াগয় তল্লাশি চালায় ইডি।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ১০০ দিনের কাজ খতিয়ে দেখতে একাধিকবার বিভিন্ন জেলায় ঘুরে যায়। তারপরেই হুগলিতে প্রায় ২ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে। কোথাও কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়া, ভুয়ো জব কার্ড দেখিয়ে টাকা তোলা, কোথাও আবার ভুয়ো বিল তৈরি করে টাকা তছরুপের অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোথাও ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে খাতায়-কলমে বাঁধ বা রাস্তার নির্মাণ হয়েছে, অথচ বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই, এমনও অভিযোগ পাওয়া যায়।১০০ দিনের কাজের দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন নির্মাণ সহায়করা। আর তাঁরা আবার পঞ্চায়েত কর্মীও। তাই এই দুর্নীতির তদন্তে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইডি। ধনেখালির বেলমুড়ি পঞ্চায়েতে এই ধরণের একটি অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় ওই পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক ছিলেন সন্দীপ সাধুখাঁ। তৎকালীন সময়ে ধনেখালি থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে FIR হয়, ও পরে ECIR করে তদন্তে নামে ইডি। আজ চন্দননগরে হরিদ্রাডাঙ্গায় সেই সন্দীপ সাধুখাঁর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।সন্দীপ সাধুখাঁর বাবা অমল সাধুখাঁ ২০০৮ সালে প্রয়াত। তিনি পূর্ব রেলের প্রাক্তন কর্মী ছিলেন। অবসরের পর তিনি বাড়িতে একটি তেল মিল খুলেছিলেন । যদিও সন্দীপ চাকরি পাওয়ার পর সেই তেলমিল বন্ধ হয়ে যায়। সন্দীপের প্রতিবেশীদের বক্তব্য, তাঁরা নির্বিবাদী লোক পাড়ার সকলের সঙ্গে সদ্ভাব রয়েছে। তার বাড়িতে ইডি হানা দেওয়ায় অবাক প্রতিবেশীরাও।সন্দীপের কাকা বিমান সাধুখাঁ বলেন, ‘ভাইপো এমন কিছু কাজ করতে পারে বলে আমার মনে হয় না। ইডি তার বাড়িতে এসেছে বলে আমি এলাম। বাড়িতে তার স্ত্রী ও মা রয়েছেন। আধিকারিকরা আমার সামনেই তাদের বাড়িতে তল্লাশি করে। যদিও তারা কিছু পায়নি।’ অন্যদিকে বেলমুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান অসিত মুদি বলেন, ‘যে সময়কার ঘটনা তখন আমি প্রধান ছিলাম না। কী হয়েছে বলতে পারবো না। তবে ইডি যদি তদন্তে আসে, আমরা তাদের সাহায্য করব।’ প্রসঙ্গত, এদিন সন্দীপ সাধুখাঁর বাড়িতে যেত েগিয়ে প্রথণে অন্য এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চলে যান ইডি কর্তারা।

প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিষয়ে

প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রীতম বন্দ্যোপাধ্যায়

গত কয়েক বছর যাবত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত প্রীতম। টেলিভিশন হোক বা ডিজিটাল মিডিয়া, সমস্ত মাধ্যমেই তিনি সাবলীল। নিউজ ডেস্ক ছাড়াও রয়েছে ফিল্ড রিপোর্টিং এবং ক্যামেরার সামনে ও পিছনে কাজের বিচিত্র অভিজ্ঞতা। বর্তমানে যুক্ত এই সময় ডিজিটাল-এর আঞ্চলিক সংবাদ ডেস্কে। রাজনীতি ছাড়াও খবরের বিভিন্ন আঙ্গিকে তাঁর যাতায়াত রয়েছে। অবসরে বাংলা লোক সংগীত পরিবেশনা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো, বাইক রাইডিং, জঙ্গল সাফারি ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস-এর প্রতি রয়েছে প্রীতমের বিশেষ আগ্রহ।… Read More
West bengal newsসম্পর্কে আরও বিস্তারিত ও নতুন খবর জানতে ক্লিক করুন। সব ধরনের ব্রেকিং, আপডেট এবং বিশ্লেষণ সবার প্রথম বাংলায় পড়তে ক্লিক করুন Bengali Newsএই সময় ডিজিটাল



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *