বাড়িতে উদ্ধার কঙ্কাল
২০১৫ সালের ১০ জুন, কলকাতার জুন রবিনসন স্ট্রিটের একটি বাড়ির শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয় এক ব্যক্তির অগ্নিদগ্ধ দেহ। একইসঙ্গে একটি নরকঙ্কাল এবং ২টি সারমেয়র কঙ্কালও উদ্ধার করে পুলিশ। নরকঙ্কালটির গায়ে ঢাকা দেওয়া ছিল কম্বল। একইসঙ্গে সেটির গায়ে তখনও পরানো ছিল শীতের পোশাক। পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় প্রচুর শুকনো ফল, পচা পাস্তা, পিৎজা ও ভাত। ঘরে ঢুকে এই দৃশ্য দেখে প্রথমে একপ্রকার হকচিয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। ঘটনাস্থল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক ব্যক্তিকেও, নাম পার্থ দে। পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ব্যক্তি তাঁর বাবা এবং ওই নরকঙ্কালটি তাঁর দিদির। আর যে সারমেয় দু’টির কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলিও ছিল তাঁর দিদির।
রাতারাতি শিরোনামে রবিনসন স্ট্রিট
শহর কলকাতার বুকে এমন ঘটনা, রাতারাতি উঠে আসে খবরের শিরোনামে। জোরকদমে তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে একদিকে যেমন তদন্তকারীদে মধ্যে প্রচুর প্রশ্ন দাঁনা বাঁধতে থাকে, তেমনই কৌতুহল তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মধ্যে। তদন্তে পুলিশ যতই এগিয়েছে, ততই উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানতে পারে, পার্থর বাবা ছিলেন অরিন্দম দে এবং দিদি ছিলেন দেবযানী দে। পুলিশের কাছে একসময় পার্থ জানান, ২০১৪ সালের অগাস্ট মাসে দেবযানীর দু’টি পোষ্যের মৃত্যু হয়। পোষ্যদের হারানোর শোক গ্রাস করে দেবযানীকে। পোষ্যদের দেহও রাখা হয় বাড়িতেই। শোকে একসময় খাওয়াদাওয়া কার্যত ছেড়েই দেন দেবযানী। সেই বছর ডিসেম্বরেই দেবযানীর মৃত্যু হয় বলেও পুলিশকে জানিয়েছিলেন পার্থ। পোষ্যগুলির সঙ্গে দেবযানীর দেহও আগলে রাখেন পার্থ ও তাঁর বাবা। এককথায় মৃতদেহের সঙ্গেই মাসের পর মাস থাকতে শুরু করেন তাঁরা। এমনকী মৃত্যুর পরেও নিয়ম করে খেতে দিতেন দেবযানীকে।
পাভলভে চিকিৎসা হয় পার্থর
এরপর ২০১৫ সালের জুন মাসে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয় পার্থর বাবা অরিন্দম দে-এর। শৌচালয় থেকে তাঁর অঘ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা গয়, যাতে লেখা ছিল, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করছি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ঈশ্বর পার্থর ভাল করুন। পার্থ ভাল থেকো। – ভালবাসা বাবা।’ পুলিশ পার্থকে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ করে বুঝতে পারে, মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এরপরেই পাভলভ হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয় পার্থর। মাস কয়েক চিকিৎসার পর পাভলভ থেকে ছুটি হয় তাঁর।
পার্থর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার
পাভলভ থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’-র একটি হোমে থাকতে শুরু করেন পার্থ দে। পরবর্তী সময় খিদিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে উঠে আসেন তিনি। রবিনসন স্ট্রিটের বাড়ি বিক্রির টাকায় ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল বলেই জানা গিয়েছিল সেই সময়। এক পরিচারককে নিয়ে সেখানেই থাকা শুরু করেন পার্থ। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই ফ্ল্যাটের শৌচালয় থেকেই পার্থর অগ্নিদগ্ধ দেহও উদ্ধার হয়। পার্থর মৃত্যুর সঙ্গেই রবিনসন স্ট্রিটকাণ্ডের যবনিকা পতন হলেও, সেই ঘটনার কিছু রহস্য আজও রয়ে গিয়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।
ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘রবিনসন স্ট্রিট হরর স্টোরি’
এবার সেই রহস্যে মোড়া রবিনসন স্ট্রিটের ঘটনাই ফুটে উঠতে চলেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। শুক্রবার মুক্ত পেতে চলেছে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের ডকুমেন্টরি সিরিজ ‘রবিনসন স্ট্রিট হরর স্টোরি’, যা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন, রহস্য রোমাঞ্চ ও হরর সিরিজ প্রেমীরা।
