২১ জানুয়ারি সকালে বর্ধমানের বাড়ি থেকে মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হন স্বস্তিক সমাদ্দার নামে ওই আইনজীবী। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সেনগুপ্তর এজলাসে পরিবারের আইনজীবী কল্লোল বসু বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর দিনই বর্ধমান থানায় পরিবার নিখোঁজ ডায়েরি করতে গিয়েছিল।
কিন্তু থানা জানায়, অভিযোগ জানানোর ফর্ম নেই। অভিযোগ নেওয়া হয়নি। পরের দিন অভিযোগ নিলেও তদন্ত কিছু হয়নি। ২৯ জানুয়ারি প্রথমে স্বস্তিকের মোটরবাইকটি উদ্ধার হয়। পরে বর্ধমান বাইপাসে একটি নির্মীয়মাণ আবাসন থেকে দেহ উদ্ধার হয়। মুখ, হাতে অ্যাসিডে পোড়ানোর চিহ্ন। দেহে পশুর নখের আঁচড়। তদন্তে বরাবর উদাসীনই থেকেছে পুলিশ।
রাজ্যকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ময়নাতদন্তের ভিডিয়ো রেকর্ডিং কেন করা হয়নি? এমন একটা ক্ষতবিক্ষত দেহ যেখানে পাওয়া গেল, সেখানে এটা করা হলো না কেন? উদ্ধার হওয়া মোটরবাইক থেকে ফিঙ্গার প্রিন্টের নমুনা নেওয়া হয়েছিল কিনা, আদালতের এই প্রশ্নেরও জবাব দিতে পারেনি পুলিশ।
রাজ্যের বক্তব্য, ওই আইনজীবী নেশা করতেন। তাঁর এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্ভবত বাইকে বসে থাকা অবস্থায় তাঁকে কেউ ঠেলে ফেলে দিয়েছে। বিচারপতির বক্তব্য, এটা তো ধৃত অভিযুক্তের বক্তব্য। পুলিশ সেটাকেই কী করে সত্যি বলে ধরে নিচ্ছে! ভিসেরা রিপোর্ট কোথায়?
মৃতের মোবাইল ফোন, হাতের স্মার্ট ঘড়ির কোনও পরীক্ষা হয়েছে? নিখোঁজ থাকাকালীন মোবাইলের টাওয়ার লোকেশনের রিপোর্ট কোথায়? তদন্ত নিয়ে আদালতের একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় পুলিশকে লিখিত ভাবে এই সব প্রশ্নের জবাব দিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
