‘বিশ্বনাথবাবুকেই হেড স্যার পদে চাই’, পথ অবরোধ স্কুল পড়ুয়া ও অভিভাবকদের – school students done road block for their demand regarding head sir at east burdwan


কথায় বলে বাবা মায়ের পরেই শিক্ষকের স্থান। তিনি ছাত্রছাত্রীদের পাঠ দেন। শিক্ষাদানের মধ্যে দিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথ সুগম করেন। গুরুর কাছে শিষ্যের স্থান সন্তানসম। শিক্ষার আদান প্রদানের মধ্যে দিয়ে উভয়ের ভিতর তৈরি হয় এক আন্তরিক টান। আর সেই টানেই এবার শিক্ষকের জন্য পথ অবরোধ পড়ুয়াদের। সহকারি শিক্ষক বিশ্বনাথ রায়কেই করতে হবে স্কুলের হেড স্যার, এমনই দাবি নিয়ে পথ অবরোধ করলেন স্কুলের পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবক সহ গ্রামবাসীরা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে পূর্ব বর্ধমানের নিমতলা বাজার কালনা – কাটোয়া এসটিকে রোডের উপর চলে অবরোধ। এরপর নাদনঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে দেয়।স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে চাপাহাঁটি জিএসএফপি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিশ্বনাথ রায়। আর এই স্কুলে হেডমাস্টার হিসেবে অন্য আর একজনের নাম ঘোষণা হতেই, পড়ুয়া থেকে অভিভাবক, সকলেই প্রতিবাদ জানান। সোমবার সরাসরি পথ অবরোধ ও বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ওই স্কুলে শিক্ষকতা করছেন বিশ্বনাথ রায়। অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনিই প্রধান শিক্ষকের যোগ্য। তাই তাঁরা প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিশ্বনাথ রায়কেই চান। আর সেই দাবি নিয়েই পথ অবরোধ করেন তাঁরা। তবে ওই শিক্ষক জানান, পড়ুয়া ও অভিভাবকরা আবেগে এই ধরনের কাজ করে ফেলেছেন। রাস্তা অবরোধ করা ঠিক নয়।

বিশ্বনাথ রায় বলেন, ‘২৪ বছর ধরে এই স্কুলেই আছি। আমি কী করেছি জানি না…। আমাদের যে প্যানেল হয়েছে তা সরকারি নিয়ম অনুযায়িই হয়েছে। যে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আসছেন, তিনি আসবেন, যে কেউ আসবেন এতে কোনও অসুবিধা নেই। আমিও সুযোগ পেয়েছিলাম অন্য স্কুলে প্রধান শিক্ষক হয়ে যাওয়ার, কিন্তু যাইনি শুধুমাত্রে এদের ভালোবাসায়। এদের এতো ভালবাসা, কোনওদিন ভাবতে পারিনি। আমরা বলেছি পথ অবরোধ করলে অনেকের অসুবিধা হতে পারে। কিছুক্ষণ করার পর তাঁরা সরে গিয়েছেন।’

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, ‘অভিভাবকরা যে আন্দোলন করেছেন, সেটা ওঁদের আবেগ। আমার বারণ করতে পারিনি। বারণ করলেও তাঁদের রুখতে পারিনি। একজন আদর্শবান শিক্ষকের জীবনে এটা বড় পাওনা। সহকারি শিক্ষক হিসেবে ওই চেয়ারে বসার যোগ্যাতা ওঁরই আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও সেটাই চাই। দাদার নীচে কাজ করতে আমি সারাজীবন রাজি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *