আওয়াজ শুনেই বেরিয়ে আসেন মহল্লার অন্য বাসিন্দারা। তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। উদ্ধার-কাজে হাত লাগান। তার পরে দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ আসে। রাজা জানান, গলির রাস্তা এতটাই সরু যে ধ্বংসস্তূপ সরাতে পে-লোডার বা লরি ঢোকার সুযোগ ছিল না। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চাপা পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে সময় লাগে অনেকটাই।
স্থানীয়রা জানান, নির্মীয়মাণ বাড়িটার পাঁচতলা পর্যন্ত ঢালাই এবং সিঁড়ি গাঁথা হয়ে গিয়েছিল। তিনতলার অর্ধেক অংশে ইট গাঁথার কাজ হয় শনিবার। একতলা ও দোতলায় ইট গাঁথা আগেই শেষ হয়েছিল। মাস দেড়েক ধরে নির্মাণকাজ চলছিল।
বাড়ির বারান্দায় দাঁড়ালেই নির্মীয়মাণ পাঁচতলা বাড়িটা দেখতে পেতেন সনাতন বিশ্বাস। রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ রাতের খাওয়া সেরে বারান্দায় পায়চারি করছিলেন তিনি। সনাতনের কথায়, ‘পৌনে বারোটা নগাদ ঘরের লাইট নিভিয়ে ঘুমোতে যাই। বারোটা নাগাদ বিকট আওয়াজ শুনি। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি, লম্বা বাড়িটা নেই। বারান্দা থেকে আকাশ দেখা যাচ্ছে। দৌড়ে যাই ঘটনাস্থলে।’
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এ তল্লাটে বাড়ি তৈরি করার ক্ষেত্রে বেআইনিটাই আইন। তাঁদের অভিযোগ, এখানে একটা পাঁচতলা বাড়ি তৈরি হতে সময় লাগে মাত্রই তিন থেকে পাঁচ মাস। এই বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ করেন কিনা জানতে চাইলে, হাতজোড় করে বাসিন্দাদের একটাই বক্তব্য, ‘মাফ করবেন। এ সব এখানে উচ্চারণ করাও পাপ।’
