সকালের দিকে কোনওমতে চোখ খোলেন তাঁরা। সেই সময়ই দেখতে পান, মোবাইল ফোন-টাকা গায়েব। মহঃ ওলিউল্লা উঠে শৌচালয়ে যান কোনওমতে। কিন্তু, মাদকের প্রভাবে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। ফাটে মাথাও। এরপর তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয় হাসপাতালেই। মাদকের প্রভাব এতটাই যে উঠে দাঁড়াতে পারছেন তাঁরা কেউই। অনেক সময় অসংলগ্নভাবে কথা বলছিলেন তাঁরা।
মহঃ ওলিউল্লা বলেন, ‘আমি রোজা করি। গত রাতে একজন বলল একটু জুস খান। খাওয়ার পর আর হুঁশ ছিল না। সকালে উঠে মুখ ধুতে গিয়ে পরে যাই। সেই সময় গোটা গা হাত পা টলমল করছিল। আচমকাই শক্তি হারিয়ে পড়ে যাই। হাসপাতালে অনেক ধরনের মানুষ আসেন। কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবা দরকার।’
এই ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও রোগীর পরিজনদের একাংশের দাবি, এর আগেও সেখানে কেপমারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এভাবে জুস খাইয়ে কেপমারি করার ঘটনা প্রথমবার বলেই দাবি অনেকেরই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা থাকলেও অ্যানেক্স বিল্ডিং নতুন হওয়ায় সেখানে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়নি। হাসপাতালে প্রবেশদ্বারেও নেই কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তারক্ষী। রোগীদের পরিজন, যাঁরা রাতে থাকেন, তাঁদের বার বার বলা হয় অপরিচিত কারও থেকে কোনও খাবার দাবার না নিতে।
কিন্তু, অনেক সময় খেজুরে আলাপ জমিয়ে কাজ হাসিল করে নেন পকেটমাররা। আর তাঁদের মিষ্টি কথায় ভুলে অনেকেই খাবার খেয়ে নেন। আর এরপরেই ঘটে যায় বিপত্তি। এখনও থানায় বিষয়টি নিয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
