প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে ‘রাজা হিন্দুস্থানি’ সিনেমার গানের দু’কলি গেয়েও শোনান তিনি। পরক্ষণেই মহিলা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হারের পরে আপনারা গাইবেন, অতিথি তুম কব যাওগে।’ এ দিন পুরো ফিল্মি মেজাজে ছিলেন দিলীপ।
অবশ্য সোমবার একই রকম মেজাজে দেখা যায় মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জুন মালিয়াকে। মঙ্গলবার খড়্গপুরে প্রচারে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে গান গাইতে দেখা যায় তাঁকে। ‘সাজন চলে শ্বশুরাল’ সিনেমার গানের অনুকরণে এ দিন পথসভায় মাইক হাতে নিয়ে তিনি গেয়ে ওঠেন, ‘মোদীজি তুম তো ধোকেবাজ হো, ওয়াদা করকে ভুল যাতে হো, রোজ রোজ মোদীজি ঝুট বোলোগে, জনতা রুঠ জায়েঙ্গি তো হাত মলোগে।’
এর পরে তিনি বলেন, ‘মোদী সরকার কথা দেন, তারপর সব ভুলে যান। তাই এই গান।’ মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিজেপি ভোট চাইতে এলে এই গান শোনাবেন।’ এই গানের জন্য তৃণমূল প্রার্থী জুন মালিয়া অবশ্য কৃতিত্ব দিয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবকে। তিনি বলেন, ‘লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী একটি সভায় এই গান গেয়েছিলেন। সেই গানটি আমার মনে লেগেছিল।’ তেমন সুর থাক বা না থাক, তাঁর গলায় গানটি শুনে এ দিন হাততালিতে ভরিয়ে দেন দলের উপস্থিত কর্মী-সমর্থকেরা।
স্লোগানের যেমন পাল্টা স্লোগান, তেমনই গানের পাল্টা গানও দেখা গিয়েছে এবারের ভোটবাজারে। জুন মালিয়ার গানের পর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পলও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে গান গেয়েছেন। সুর না থাকলেও নচিকেতার নীলাঞ্জনা গানের প্যারোডি শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
বর্ধমান পূর্বের বিজেপি প্রার্থী অসীম সরকার প্রতিদ্বন্দ্বী শর্মিলা সরকারকে খোঁচা দিয়ে গান বেঁধেছিলেন কিছু দিন আগে। এমনিই কীর্তনিয়া তিনি, তাই প্রায়শই কীর্তনের সুরেই চলে তাঁর প্রচার। আবার দিন দশেক আগে শুভেন্দু অধিকারীকে শোনা গেল মঞ্চে ‘সংকোচের বিহ্বলতা’ গাইতে। হাততালি দিয়ে জনতাও জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আমোদ পেয়েছেন।