কেন্দ্রে ‘ইন্ডিয়া’ জোট সরকার গড়লে তৃণমূল বাইরে থেকে সমর্থন দেবে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করার পরেই অধীর তৃণমূল নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। মমতা তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন। যদিও তারপরেও অধীরের এই তীব্র মমতা-বিরোধিতায় সায় দেননি খাড়গে। শনিবার তিনি স্পষ্ট বলে দেন, হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ত সবাইকেই মানতে হবে। না-মানলে দল ছেড়ে চলে যেতে হবে।
যদিও খাড়গের সমালোচনার মুখে পিছু না হঠে অধীরও পাল্টা সরব হন। এই পরিস্থিতিতে রবিবার বিধানভবনে কংগ্রেসের হোর্ডিংয়ে খাড়গের ছবিতে কালি লেপে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সেই কালি মুছেও দেওয়া হয়। এই বিষয়ে সোমবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল রিপোর্ট তলব করেছেন। এআইসিসি থেকে এই ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতিও দেওয়া হয়।
বেণুগোপাল বলেছেন, ‘কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতির বিরুদ্ধে দলের কয়েক জন অফিস বেয়ারার ও কর্মী অবাঞ্ছিত মন্তব্য করেছেন। এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। একদল দুষ্কৃতী প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে হোর্ডিং ভাঙচুর করেছে। এই ধরনের দল বিরোধী কার্যকলাপকে আমরা লঘু করে দেখছি না। কংগ্রেস এই বিরোধিতা ও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবে না।’
এআইসিসি-র তরফে বাংলার ইনচার্জ গুলাম মিরকে দ্রুত এই ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। খাড়গের ছবিতে কালি দেওয়া নিয়ে রবিবার এন্টালি থানায় কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেণুগোপালের বিবৃতিতে কংগ্রেসের কিছু কর্মীকেই দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে।
যদিও অধীরের বক্তব্য, ‘সর্বস্তরের কংগ্রেস কর্মীদের আমি জানি, তাঁরা কখনও শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে নেতৃত্বের অপমান করতে পারেন না। খাড়গেজি আমাদের সভাপতি। তাঁকে আমরা অবমাননা করতে পারি না। হতে পারে, ঘোলা জলে মাছ ধরার জন্য, বিভ্রান্তি ছাড়ানোর জন্য, বিজেপি-তৃণমূলের কোনও চক্রান্ত থাকতে পারে।’
