কলকাতায় নির্বাচনী প্রচার সভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচার সভা করলেন তৃণমূল নেত্রী। এদিন সভা থেকে নিজের বাবা ও মায়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মমতা। বাবার একটা কথা রাখতে না পারার জন্য কার্যত আক্ষেপও ঝরে পড়ল তাঁর গলায়।এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাবার একটা কথা রাখতে পারিনি। বাবা ছোটবেলা থেকেই বলত, তুই অপ্রিয় সত্য কথা কম বল। কারণ এর জন্য অনেক অশান্তিও হয়েছে।’ এই প্রসঙ্গে অতীতের একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমি তখন খুবই ছোট। দোকানে বসেছিলেন এক ভদ্রলোক। একটা বাচ্চা পাড়া দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি দেখেননি, বিড়ি খাচ্ছিলেন, ছুড়ে দিয়েছেন। আর বাচ্চাটার গেঞ্জির পিছনটা পুড়ে গিয়েছে। এবার পাড়ায় বৈঠক বসেছে, কে পোড়াল? বিড়িটা কে ছুড়ল? কেউ ভয়ে বলে না। আমি বললাম আমি দেখেছি। গিয়ে বলে দিয়ে এলাম ওই ব্যক্তি বিড়িটা ছুড়েছেন। তখন বাবা বলছে, তুই কি আমার ঘরে আগুন লাগাবি? তুই আমায় পাড়ায় থাকতে দিবি না!’ মমতা সাফ কথা, ‘অপ্রিয় সত্য কথা আমি বলি। এটা থেকে কেউ আমায় আটকাতে পারবেন না।’
এদিন নাম না করে উত্তর কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়কেও নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এখানে একজন প্রার্থীকে দাঁড়ি করিয়েছে (বিজেপি)। আমি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। বলার প্রয়োজনও নেই। পালালেন কেন? আমাকেও তো রোজ চমকায়, ধমকায়, আমি তো পালাইনি। আমার পরিবারকেও কম বিরক্ত করেনি। আমার দলকেও রোজ বিরক্ত করে। এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও জেলে গিয়েছিলেন। কোনও প্রমাণ ছিল না। তিনি তো পার্টি ছেড়ে যাননি। মদন মিত্রকেও জেলে ঢুকিয়েছিল।’
এদিন নাম না করে উত্তর কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়কেও নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এখানে একজন প্রার্থীকে দাঁড়ি করিয়েছে (বিজেপি)। আমি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। বলার প্রয়োজনও নেই। পালালেন কেন? আমাকেও তো রোজ চমকায়, ধমকায়, আমি তো পালাইনি। আমার পরিবারকেও কম বিরক্ত করেনি। আমার দলকেও রোজ বিরক্ত করে। এই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও জেলে গিয়েছিলেন। কোনও প্রমাণ ছিল না। তিনি তো পার্টি ছেড়ে যাননি। মদন মিত্রকেও জেলে ঢুকিয়েছিল।’
নাম না করে তাপসকে কটাক্ষ করে মমতা আরও বলেন, আপনি ৩ বার জিতেছেন, তার অর্থ এটা নয় যে মানুষ আপনাকে ভোট দিয়েছে। মানুষ দলের প্রতীককে ভোট দিয়েছে, তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। আর একদিন সিবিআই গিয়েছে বলে ভয় পেয়ে গেলেন। এত ভয় পেয়ে গেলেন যে তাড়াতাড়ি বিজেপিতে চলে গেলেন। আমার কাছে খবর আছে যে এক বছর আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল। বিজেপি এমনটাই করে। আমাদের অনেক লোক আছে। এমন নেতা আমাদের দরকার নেই।’ উত্তর কলকাতার মানুষ তাপস রায়ের জামানত বাজেয়াপ্ত করবে বলেও দাবি করেন মমতা।