Lok Sabha Election 2024 : ১৫ বছর পরে লালগড়ে ভোট করালেন অনুজরা – anuj pandey and fullara mondal of lalgarh voted after 15 years on lok sabha election


অরূপকুমার পাল লালগড়: ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটের পরে এই প্রথম স্বমহিমায় সিপিএমের অনুজ পান্ডে, ফুল্লরা মণ্ডলরা। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে ফের লালগড়ে ভোটের ময়দানে তাঁরা। ২০১১ সালে নেতাই কাণ্ডে ৯ জন গ্রামবাসী খুন হওয়ার পরে এলাকা থেকে ফেরার হয়ে যান সিপিএমের নেতানেত্রীরা। সিআইডি তদন্তে নেমে অনুজ, ফুল্লরা-সহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।৯ বছর জেলবন্দি থাকার পরে গত বছর আদালতের নির্দেশে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন তাঁরা। কিছুদিন চুপ থেকে দলের মিটিং-মিছিলে যাওয়ার পরে শনিবার ১৫ বছর পরে ফের লোকসভা ভোটের ময়দানে দেখা গেল তাঁদের। শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে চক্কর কাটার পরে দুপুর পৌঁনে একটা নাগাদ অনুজের মোটরবাইক থামল লালগড়ে ধরমপুর পার্টি অফিসের সামনে।

পাশে আম গাছের ছায়ায় চেয়ারে বসে তিনি বললেন, ‘ধরমপুর অঞ্চলে ১৩টি বুথ রয়েছে। সবকটি বুথেই আমি ঘুরে এসেছি। এবার নদীর ওপারে বৈতায় যাব। ওখানে যেতেই হবে আমাকে।’ ভোট কেমন হচ্ছে? উত্তরে বললেন, ‘ভালোই হচ্ছে। ওরা অনেক কিছু করার প্ল্যান করেছিল। কিন্তু তেমন কিছু করতে পারেনি। সব বুথেই আমাদের এজেন্ট রয়েছে।’

কথা বলার ফাঁকে দলীয় এজেন্টদের রিলিভার দেওয়ার জন্য ভাই উজ্জ্বল পান্ডেকে নির্দেশ দিলেন অনুজ। কয়েকজন যুবক এসে গাছের তলায় থাকা মুড়ি ও ছোলা সিদ্ধ হাতে নিয়ে খেতে শুরু করলেন। উজ্জ্বল বলেন, ‘প্রায় ১২ কেজি ছোলা সিদ্ধ করা হয়েছে। আর মুড়ি তো রয়েছে। এটা জঙ্গলমহলের ভোটের রেওয়াজ।’ ভাঙা ধরমপুরের পার্টি অফিসটার দিকে তাকিয়ে কেমন যেন উদাস হয়ে গেলেন উজ্জ্বল।

কিছুটা দম নিয়ে বললেন, ‘আমাদের বয়সের ১০-১২ জনকে তো খুন করে দিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে এখনও। নতুন করে ছেলেপুলে নিয়ে ভোটের কাজ করছি। বিজেপি তো হরিণা বুথে টাকা দিয়ে এজেন্ট বসিয়েছে বলে শুনলাম।’ ঘড়ির কাঁটায় আড়াইটে। নেতাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যেতে দেখা গেল সিপিএমের নেত্রী ফুল্লরা মণ্ডলকে। নেতাই বুথে ১০৯১ জন ভোটার। সিপিএমের অসিত মণ্ডল, তৃণমূলের প্রদীপ জানা এবং বিজেপি কমল জানা বুথে এজেন্ট হয়ে বসেছেন। ততক্ষণে প্রায় সাড়ে সাতশো ভোট হয়ে গিয়েছে।

Jhargram Lok Sabha: একাধিক বুথে এজেন্টই নেই, ক্ষুব্ধ BJP প্রার্থী! ঝাড়গ্রামে শান্তির বার্তা কালীপদর

বুথের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ফুল্লরা। কেমন ভোট হচ্ছে? জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বললেন,‘আজ বুথের বাইরে কোথাও যাইনি। দেখি বিকেল দিকে ডাইনটিকরির দিকে ফোন করে খোঁজ নেব। তবে ভোট ভালোই হচ্ছে।’ বিজেপি দলের এজেন্ট কমল জানা বললেন, ‘আমাদের নেতাই বুথে কোনওদিন সমস্যা হয়নি। ভালোই ভোট হয়।’

তবে দিনের শেষে প্রশ্নটা উঠছেই সিপিএমের ঝাড়গ্রাম লোকসভার প্রার্থী সোনামণি টুডুর হয়ে কি ‘ভোট করাতে’ পারল সিপিএম? অনুজের সাফ জবাব, ‘আমরা জিতে গেলাম এটা বলব না। এটা ঠিক ভোট ভালো হয়েছে। মানুষ বুঝতে পেরেছে।’ সত্যিই কি মানুষ বুঝতে পেরেছে? উত্তরটা দিলেন তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলার সহ-সভাপতি প্রসূন ষড়ঙ্গী। তিনি বলেন, ‘অতীতকে স্মরণ করে বর্তমানকে দেখেই ভবিষ্যতের রায় দেন ভোটাররা। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *