গতকাল সন্ধ্যের পর থেকেই দুর্যোগের ঘনঘটা শুরু হয়ে যায় রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে। মমতা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ছয়টা থেকে আজ, সোমবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তিনি বিপর্যয় মোকাবিলার কাজের তদারকি করেছেন। উপকূলবর্তী এলাকার বিপর্যয় মোকাবিলার কাজ থেকে শুরু করে ত্রাণ বন্টনের কাজ খতিয়ে দেখেছেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক রাজ্য। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে রয়েছি আমরা। সেই কারণেই প্রতিবছরই তাই আমাদের নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। এবারো সাইক্লোন ‘রিমেল’এর প্রভাবে আমাদের রাজ্যে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সবার উপরে মানুষের জীবন। রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতায় এবার জীবনহানি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। নিহতদের পরিবারবর্গকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।’
মমতা এদিনের সভা থেকে জানান, আগামী ১ জুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এই বৈঠকে তিনি যেতে পারছেন না। বাংলায় এখনও একাধিক আসনে নির্বাচন বাকি রয়েছে। নির্বাচন সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছেন না। পাশাপাশি, নির্বাচনের শেষলগ্নের মাঝেই বাংলায় এত বড়ো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে গিয়েছে। মমতা বলেন, ‘একদিকে বিপর্যয়ের জন্য ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থা করা, আরেকদিকে নির্বাচন। আমাদের সবটাই করতে হচ্ছে। কিন্তু আমার কাছে অগ্রাধিকার হল ত্রাণের ব্যবস্থা করা।’
উত্তর কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচার করেন তিনি। অবাঙালি ভোটারদের পাশে থাকার বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের সময় বিজেপি প্রচার করলেও সারা বছর অবাঙালি ভোটারদের ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে জীবনযাপনের সমস্ত ক্ষেত্রে সরকার পাশে থাকে, আগামী দিনেও পাশে থাকবে। ফলত, ভোটের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে থাকার বার্তা এদিনের মঞ্চ থেকে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
