বছর চারেক আগে উম্পুনেও বিপুল সংখ্যক গাছ হারিয়েছিল শহর। তবে আর এক ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব সে ভাবে পড়েনি কলকাতায়। কিন্তু রিমেলের কারণে যে গাছগুলি পড়েছে, তার অধিকাংশই ৩০ বছরের পুরনো। পক্ষীপ্রেমী অনন্ত চৌধুরীর বক্তব্য, ‘এই সময়েই পাখিদের বংশবৃদ্ধি হয়। কিন্তু এই ধরনের ঘূর্ণিঝড় পাখিদের একটা প্রজন্মকে শেষের দিকে ঠেলে দেয়।’
পেঁচা মূলত থাকে পুরনো বাড়ির ঘুলঘুলি কিংবা গাছের কোটরে। কিন্তু টিয়া, সানবার্ড, হাঁড়িচাচা, কাকের মতো পাখিরা গাছেই বাসা বাঁধে। কিন্তু যে ভাবে কয়েক বছর অন্তর ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে আর বড় গাছ ক্রমশ কমছে, তাতে এরা ঠিকানা হারিয়ে ফেলছে। পুরসভা সূত্রে খবর, উত্তরের তুলনায় দক্ষিণেই গাছ পড়েছে বেশি। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া গাছই পড়েছে সর্বাধিক।
সোমবার রাতের মধ্যেই সব গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের কর্তাদের। তাঁদের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এর মধ্যে যতগুলি গাছ সম্ভব প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু কেন ঝড় হলেই এত গাছ পড়ছে শহরে? পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, ‘কলকাতায় মূলত বেশিরভাগই দেবদারু, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া। এই গাছগুলির ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা কম। সে কারণেই এই পরিস্থিতি।’
উদ্ভিদবিজ্ঞানী আক্রামুল হক বলেন, ‘পুরসভার উচিত নিম, বট, অশ্বথ, বকুল, কদমের মতো গাছ লাগানো। এই গাছগুলির ঝড় প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনায় বেশি। তবে গাছ লাগালেই হবে না, রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।’ পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমারের দাবি, ‘উম্পুনর পর থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে শহরে গাছ লাগানো হচ্ছে।’
