Cyclone Remal In Kolkta,শহরে গাছ পড়ল ৩৫০, ঘর ভাঙল অসংখ্য পাখির – more than 350 trees fell in kolkata city due to cyclone remal


এই সময়: উত্তরে সুভাষ সরোবর থেকে দক্ষিণে রবীন্দ্র সরোবর ঠিকানা ছিল অসংখ্য টিয়া, ময়না, বেনেবৌ, পেঁচা, কাঠঠোকরা-সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। ওই দুই উদ্যান ছাড়াও শহরের বহু গাছে বাসা ছিল ওদের। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রিমেলের কারণে মুহূর্তে ঠিকানাহীন হয়েছে অজস্র পাখি। ওই দুই সরোবর ছাড়াও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত মিলিয়ে ৬ ফুটের বেশি উচ্চতার গাছ পড়েছে ৩৫০টি।ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে পাখিদের আস্তানা। গাছ পড়ে যাওয়ার পর ওই পাখিরা কোথায় আশ্রয় নেবে, সেটাই ভাবাচ্ছে পক্ষীপ্রেমীদের। পাখিদের আশ্রয় হারানোর পাশাপাশি ঝড়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে একাধিক গাছ পড়ার ফলে শহরে বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়বে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিজ্ঞানীদের। তাঁদের আর্জি, ঝড়ে যে গাছগুলি উপরে পড়েছে, সেগুলি যথাসম্ভব প্রতিস্থাপন করা হোক।

বছর চারেক আগে উম্পুনেও বিপুল সংখ্যক গাছ হারিয়েছিল শহর। তবে আর এক ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব সে ভাবে পড়েনি কলকাতায়। কিন্তু রিমেলের কারণে যে গাছগুলি পড়েছে, তার অধিকাংশই ৩০ বছরের পুরনো। পক্ষীপ্রেমী অনন্ত চৌধুরীর বক্তব্য, ‘এই সময়েই পাখিদের বংশবৃদ্ধি হয়। কিন্তু এই ধরনের ঘূর্ণিঝড় পাখিদের একটা প্রজন্মকে শেষের দিকে ঠেলে দেয়।’

পেঁচা মূলত থাকে পুরনো বাড়ির ঘুলঘুলি কিংবা গাছের কোটরে। কিন্তু টিয়া, সানবার্ড, হাঁড়িচাচা, কাকের মতো পাখিরা গাছেই বাসা বাঁধে। কিন্তু যে ভাবে কয়েক বছর অন্তর ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে আর বড় গাছ ক্রমশ কমছে, তাতে এরা ঠিকানা হারিয়ে ফেলছে। পুরসভা সূত্রে খবর, উত্তরের তুলনায় দক্ষিণেই গাছ পড়েছে বেশি। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া গাছই পড়েছে সর্বাধিক।

সোমবার রাতের মধ্যেই সব গাছ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের কর্তাদের। তাঁদের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এর মধ্যে যতগুলি গাছ সম্ভব প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু কেন ঝড় হলেই এত গাছ পড়ছে শহরে? পরিবেশবিজ্ঞানী স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, ‘কলকাতায় মূলত বেশিরভাগই দেবদারু, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া। এই গাছগুলির ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা কম। সে কারণেই এই পরিস্থিতি।’

রিমেল-দুর্যোগে কলকাতায় মৃত্যু, বিভিন্ন জেলায় ভেঙে পড়ল একের পর এক গাছ

উদ্ভিদবিজ্ঞানী আক্রামুল হক বলেন, ‘পুরসভার উচিত নিম, বট, অশ্বথ, বকুল, কদমের মতো গাছ লাগানো। এই গাছগুলির ঝড় প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনায় বেশি। তবে গাছ লাগালেই হবে না, রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।’ পুরসভার মেয়র পারিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমারের দাবি, ‘উম্পুনর পর থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে শহরে গাছ লাগানো হচ্ছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *