Cyclone Remal Effect,রিমেলের ধাক্কায় বিপর্যয় মনেও, রোগী বাড়ার আশঙ্কায় ডাক্তাররা – west bengal doctors are afraid increase number of patients due to cyclone remal


২০০৯-এ আয়লা আর ২০২০-তে উম্পুন। প্রথমটি সিভিয়ার এবং পরেরটি সুপার সাইক্লোন ছিল। দু’বারই দেখা গিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়ের ধাক্কায় বাড়ি-ঘর তো বটেই, বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে অনেকের মনের গভীরেও। ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগ মিশ্রিত অনুভূতির টানা প্রভাবে রক্তক্ষরণ শুরু হতে দেরি হয়নি তাঁদের অন্তরমহলে।দু’বারই দেখা গিয়েছিল, ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকাগুলি থেকে আসা মানসিক রোগীর সংখ্যা আচমকা অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল মনোরোগের ক্লিনিকে। ২০২৪-এর রিমেলের পরেও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি (আইওপি), কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ কিংবা আরজি করের মতো বড় সরকারি হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোমবার রাতে রিমেলের তাণ্ডবের পর ফের দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর থেকে মনোরোগীর সংখ্যা সপ্তাখানেকের মাথায় বাড়তে চলেছে।

পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি), অ্যাংজাইটি, প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যা অনিবার্য। বস্তুত, রিমেল আসছে শুনে আয়লা ও উম্পুনে বিধ্বস্ত এলাকার পুরোনো মনোরোগীদের ‘ফ্ল্যাশ ব্যাক’-এর কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ফের অবনতি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের পুরনো স্মৃতি চাগাড় দিয়েছে ঝড়ের আগেই।

অনেক মনো-চিকিৎসক তাই প্রমাদ গুনছেন, ‘ফ্ল্যাশ-ব্যাক’ মনোরোগী ও নতুন রোগীদের নিয়ে লম্বা হবে তালিকা। ইতিমধ্যে আসতে শুরু করেছে পুরনো রোগীদের ফোন। তাঁদের বড় অংশেরই মারাত্মক প্যানিক অ্যাটাকের পাশাপাশি অবনতি হয়েছে অবসাদের। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এঁদের অনেকেই আর পাঁচ জনের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন ২০০৯ কিংবা ২০২০-র মে মাস পর্যন্ত। মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ ধ্বংসলীলা এমন তাণ্ডব চালিয়েছিল তাঁদের মনোজগতে, যে তাঁরা মনোরোগী হয়ে যান।

আয়লার সময়ে আইওপি-তে কর্মরত ছিলেন মনোরোগের শিক্ষক-চিকিৎসক প্রদীপ সাহা। তিনি বলেন, ‘আয়লার পর মনোরোগীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সর্বস্ব খুইয়ে তাঁরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। আবার অনেকে ছিলেন, যাঁরা প্রকৃতির তাণ্ডব আর উন্মত্ততা দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারেননি। মনে আছে, বিপর্যয়ের দু’বছর পর পর্যন্ত নতুন নতুন রোগী আসতেই থাকতেন আউটডোরে।’

উম্পুনের সময়ে আইওপি-র অধিকর্তা পদে ছিলেন প্রদীপবাবু। তিনি বলেন, ‘আয়লার পরে উম্পুনের সময়েও দেখেছিলাম, দুই ২৪ পরগনা থেকে রোগীর সংখ্যা মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে।’ ওই হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সুজিত সরখেল মনে করছেন, এ বারও আগের দু’বারের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।

তাঁর কথায়, ‘বাইপোলার ডিজ়অর্ডার কিংবা অবসাদের মতো মুড ডিজ়অর্ডারের অসুখ মেন্টাল স্ট্রেসের কারণে আচমকা বেড়ে যায়। রয়েছে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজ়অর্ডারও। চোখের সামনে বড় বিপর্যয় দেখাটা বিরাট মেন্টাল ট্রমা। তা সারাতে চিকিৎসা জরুরি।’ যদিও মেডিক্যালের মনোরোগ বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক সৈকত বৈদ্য মনে করেন, ‘রিমেলের ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি যেহেতু আয়লা বা উম্পুনের চেয়ে কম বলেই মনে হচ্ছে এখনও পর্যন্ত, তাই গত দু’বারের মতো রোগীর ঢল নামবে না হয়তো। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়-উপদ্রুত এলাকা থেকে মনোরোগীর সংখ্যা বাড়বেই।’

সাইক্লোন রিমেলের প্রভাবে তীব্র জলোচ্ছ্বাস দিঘায়, দেখুন ভিডিয়ো

সৈকতের মতে, পিটিএসডি, প্যানিক অ্যাটাকের চেয়েও ওই সব এলাকার মানুষ বেশি ভুগবেন অ্যাকিউট স্ট্রেস রিয়্যাকশন কিংবা ওভারহোয়েলমিং অ্যাংজ়াইটির মতো সমস্যায়। আরজি করের মনোরোগ বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক রাজর্ষি নিয়োগী জানাচ্ছেন, সাইক্লোনের বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কায় সাধারণত প্যানিক অ্যাটাক দেখা যায় তাৎক্ষণিক ভাবে। সেটা বোঝা যায় দিন সাতেকের মাথায়।

হতে পারে অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডারও। রোগটা যদি বাড়াবাড়ি করে, তা সাধারণত মাসখানেকের মধ্যেই বোঝা যায়। তিনি বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আবার ৭-৩০ দিনের মধ্যে মনোরোগ থাবা বসায় না। অনেকের মনের মধ্যে বাইপোলার ডিজ়অর্ডার, স্কিৎজ়োফ্রেনিয়ার মতো অনেক অসুখের বীজ থাকে। তাঁদের ক্ষেত্রে আয়লা-উম্পুন-রিমেলের মতো বিপর্যয় ‘ট্রিগার’ হিসেবে কাজ করে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *