
এক সময়ের বাম ঘাঁটি যাদবপুর এখন তৃণমূলের দখলে। সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ে অনির্বাণের বিরুদ্ধে প্রার্থী তৃণমূলের সায়নী ঘোষ, বাম-কংগ্রেসের সৃজন ভট্টাচার্য। এই কেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারনা, যাদবপুরে লড়াইটা নাকি তৃণমূল বনাম বামের। সেখানে বিজেপি নেহাতই ‘তৃতীয় পক্ষ’। কিন্তু এই ন্যারেটিভকে বদলাতে মরিয়া যাদবপুরেরই বাসিন্দা অনির্বাণ।
পথ সভা, রোড শো, বাড়ি বাড়ি প্রচারে তাই বিন্দুমাত্র খামতি দিচ্ছেন না তিনি। বক্তব্যের মধ্যেও বার বার ঘুরে ফিরে আসছে তৃণমূল বিরোধিতা এবং সমান ভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে সিপিএম বিরোধিতাও। তাঁর কথায়, ‘ধানতলা, থেকে বানতলা, নন্দীগ্রামে কৃষকদের উপর গুলি চালানো হোক অথবা বিজন সেতুতে আনন্দমার্গিদের পুড়িয়ে হত্যা- সেই ভয়ানক সিপিএম নাকি এখন রুটি-রুজির কথা বলছে। দুর্নীতি, নারী নির্যাতন করে ছোট্ট ঘটনা, সাজানো ঘটনা বলা তৃণমূলও নাকি এই কেন্দ্রে ভোট চায়!’
সারা রাজ্যে বামেরা তৃণমূল সঙ্গে বিজেপির সেটিং নিয়ে প্রচারে ঝড় তোলে। আর এই কেন্দ্রে অনির্বাণকে দেখা যাচ্ছে উল্টো কথা বলতে। তাঁর দাবি, ‘এখানে বিজেপি করলে মারধর করা হচ্ছে। কার্যকর্তা, বুথের কর্মীদের ঘরছাড়া করা হচ্ছে। বিজেপির পোস্টার, ব্যানার, ফ্ল্যাগ সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ দিকে সিপিএম করলে কোনও মারধর নেই, কেউ ওদের পতাকা, ফেস্টুন খুলে দিচ্ছে না।’
তবু এই কেন্দ্রে তিনি আত্মপ্রচারের থেকে বেশি করে তুলে ধরছেন মোদীর গ্যারেন্টিকেই। প্রচারে বেরিয়ে তাঁর সাফ কথা, ‘যতই আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখো, আয়েগা তো মোদী হি! তাই দিল্লিতে মোদী সরকার যখন হচ্ছেই, তখন আপনারা তাঁর হাতই শক্ত করুন।’ কিন্তু শক্ত মাটিতে কি ফুটবে পদ্ম? উত্তর অবশ্য ৪ জুনেই।