Bangladesh MP Case: শিলাস্তির আগে হানিট্র্যাপ চেলাসিয়া! এমপি-কে ফলো অহরহ? – police find another young woman name in bangladesh mp case


এই সময়: শিলাস্তি রহমান ওরফে সেলেনস্কি তো ছিলেনই, বাংলাদেশের সাংসদ খুনে আরও এক তরুণীর নাম সামনে এল, যাঁকে প্রথম হানিট্র্যাপ হিসেবে ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলেন মূল অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান শাহিন। ওই তরুণীর নাম চেলসিয়া চেরি। পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চেলসিয়াই গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শাহিনের সঙ্গে কলকাতায় এসেছিলেন খুনের ষড়যন্ত্রকে বাস্তব রূপ দিতে। কিন্তু সেই অ্যাসাইমেন্টের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি না-হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে যান।এর পর তাঁর বদলে কাজের বরাত দেওয়া হয় শাহিনের বান্ধবী শিলাস্তিকে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, সাংসদ খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সিয়াম হোসেন নেপালে পালিয়ে গেলেও তাঁকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। কী ভাবে সিয়ামকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কূটনৈতিকস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদতে বরিশালের বাসিন্দা হলেও সিয়াম সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিত।

Anwarul Azim Anar Case : সেপটিক ট্যাঙ্কেও দেহাংশের তল্লাশি, বাংলাদেশের সাংসদ খুনে নয়া তত্ত্ব

গত কয়েক বছর ধরে তিনি ঘনঘন ভারতে আসতেন। ইদানীং প্রচুর সম্পত্তিও করেছেন। সিয়ামকে গ্রেপ্তার করতে পারলে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে বলে পুলিশের অনুমান। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে, খুন করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারুলকে ফলো করছিলেন অভিযুক্তেরা। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মোট তিন বার কলকাতায় এসেছিলেন আওয়ামি লিগের সাংসদ। আর প্রতিবারই তিনি এখানে আসার আগে বা আসার দিনই আখতারুজ্জামান এবং আমানুল্লারা কলকাতায় যাতায়াত করেছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, সাংসদকে খুনের ছক কষে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর আখতারুজ্জামান প্রথমবারের জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন চেলসিয়া নামে ওই তরুণী। প্রায় একসপ্তাহ থাকার পরে কাজ না-হওয়ায় ২৬ তারিখ দু’জন বাংলাদেশে ফিরে যান। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আনোয়ারুল এ বছর প্রথম কলকাতা আসেন গত ১৯ জানুয়ারি। এর ঠিক একদিন আগে, অর্থাৎ ১৮ জানুয়ারি খুনের মূল চক্রী হিসেবে চিহ্নিত আখতারুজ্জামান শাহিন কলকাতায় হাজির হন শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্লাকে সঙ্গে নিয়ে।

এঁদের সঙ্গে কলকাতায় আসেন বর্তমানে ডিবি হেফাজতে থাকা শিলাস্তি রহমানও। পুলিশ জানতে পেরেছে, আনোয়ারুল ২৪ জানুয়ারি দেশে ফিরে যান। এর ছ’দিন পরে ৩০ জানুয়ারি শিলাস্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরেন আখতারুজ্জামান। চলতি বছরের ১৮ মার্চ দ্বিতীয়বারের জন্য কলকাতায় আসেন আনোয়ারুল। এর ঠিক দু’দিন আগে, ১৬ মার্চ কলকাতায় পৌঁছে যান আখতারুজ্জামান।

Anwarul Azim Anar Case : চলছিল ম্যান মার্কিং, আনোয়ারুলকে শ্যাডো করে ৩ বার কলকাতায় আসে আততায়ীরা
১৯ মার্চ আনোয়ারুল দেশে ফিরলে ওই দিন আখতারুজ্জামানও ফিরে যান। আবার ৬ মার্চ কলকাতায় আসা শিমুল ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্লাও অন্য বিমানে ওই দিন দেশে ফেরত যান। সব শেষে গত ১২ মে দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতায় আসেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম। পর দিন কলকাতার সঞ্জীবা গার্ডেন্সের একটি ফ্ল্যাটে শিলাস্তিকে হানিট্র্যাপ হিসেবে ব্যবহার করে তাঁকে খুন করা হয়।

পুলিশ জানতে পেরেছে, এই খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করতে ৩০ এপ্রিল আখতারুজ্জামান শাহিন, আমানুল্লা ও শিলাস্তি রহমান ঢাকা থেকে কলকাতায় নামেন। ১০ মে বাকি দু’জনকে ফ্ল্যাটে রেখে দেশে ফিরে যান শাহিন। পুলিশের বক্তব্য, আনোয়ারুলের বন্ধু আখতারুজ্জামান দেশে ফেরার আগে খুনের সব আয়োজন করে ফেলেন। ঘটনার অন্যতম চক্রী আমানুল্লার সঙ্গী মুস্তাফিজুর রহমান নামে ব্যক্তিকে তিনি কলকাতার ওই ফ্ল্যাটে রেখে আসেন।

মুস্তাফিজুরের পাসপোর্টের ছবি দিয়ে সঞ্জীবা গার্ডেন্সে ওই ফ্ল্যাটের মালিককে ৯ মে হোয়াটসঅ্যাপে আখতারুজ্জামান বার্তা পাঠান, ‘এই ব্যক্তি এখানে ২/৩ দিন থাকবেন। আমি আগামিকাল (১০ মে) চলে যাচ্ছি।’ তদন্তকারীরা জানান, এর আগে মুস্তাফিজুর এবং ফয়জ়ল ২ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় পৌঁছে যান। আনোয়ারুলকে খুনের পরে দেহাংশ সরিয়ে ফেলার পরে তাঁরা ১৯ মে দেশে ফিরে গেলে ২০ মে আখতারুজ্জামান ঢাকা থেকে ভিস্তারার ফ্লাইটে দিল্লি হয়ে কাঠমান্ডু চলে যান। সেখান থেকে তিনি দুবাই হয়ে আমেরিকা পৌঁছে যান। সিয়ামের মতো যাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য ইন্টারপোলের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *