রোজ সকালে ধূলাগড়ে অফিসে যান নিউ টাউনের বাসিন্দা সুকুমার পাল। বাস কম থাকবে ধরে নিয়েই অন্যান্য দিনের থেকে আধ ঘণ্টা আগে বাস স্ট্যান্ডে চলে এসেছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরে তিনি বাস পান। যথারীতি অফিস পৌঁছতে দেরি হয় তাঁর। তিনি বলেন, ‘যাওয়ার সময়ে কোনও রকমে একটা বাস পেলাম। কিন্তু ফেরার সময়ে বাস পাব কি না জানি না।’
বাস মালিকদের সংগঠন থেকে জানানো হয়েছে, এই রুটের ৯০ শতাংশ বাসই ভোটের জন্য তুলে নেওয়া হয়েছে। সারা বাংলা বাস-মিনি বাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কলকাতার অধিকাংশই বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। সেই সংখ্যা গড়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ। ফলে রাস্তায় এখন ১৫ শতাংশ বাস চললেও সব রুটে সমান সংখ্যক বাস নেই।’
তিনি জানান, শুধু কলকাতা নয়, অধিকাংশ বাস রুট দুই ২৪ পরগনা এবং হাওড়া হুগলির সঙ্গে যুক্ত। দুই ২৪ পরগনাতেও ভোট। ফলে সেখানেও বাস তোলা হয়েছে। ব্যারাকপুর, বারাসত, সোনারপুর, আলিপুর, বারুইপুর, বেহালার বাসগুলিও কলকাতার লাইফলাইন। সেই জন্য কলকাতা প্রায় বাস শূন্য।
তবে কলকাতা পুলিশের জন্য বর্ধমান, পুরুলিয়া, তারকেশ্বর, আরামবাগ, আসানসোল, দুর্গাপুর থেকেও বাস আনা হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, মোট ১৮০০ বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। রাহুল জানান, সেই সংখ্যা শুধুমাত্র কলকাতার দুই কেন্দ্র এবং দমদমের জন্য হতে পারে। ৯টি কেন্দ্র ধরলে সেই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। সব থেকে বড় কথা, মহানগর লাগোয়া বাসগুলিও কলকাতার পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তার প্রভাব পড়েছে পরিবহণে।
সূত্রের খবর ৭২ নম্বর অর্থাৎ পার্ক সার্কাস-হাওড়া রুটের সব বাসই তুলে নেওয়া হয়েছে। বি-গার্ডেন-বারাসত রুটেরও অধিকাংশ বাসই তুলে নেওয়া হয়েছে। বিকেলের দিকে রাস্তায় কিছু বাস নামলেও তা ভোটকর্মীদের জন্যই রাস্তায় নেমেছিল। রাতের দিকে ফের বাস কমতে অফিস ফেরত মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এমন অবস্থায় অ্যাপক্যাবগুলিও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়। যে দূরত্বের জন্য সাধারণত ২৭০-২৮০ টাকা ভাড়া হয়, সেই দূরত্বের জন্য এদিন ৫০০-৫৫০ টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। তার জন্য রেল স্টেশন, বিমানবন্দরের যাত্রীদের প্রচুর টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে।