World Environment Day 2024: পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পলিব্যাগ, বোতলে তৈরি ইকো ব্রিকসে সাজল বাগান – durgapur pcbl garden arranged with eco bricks


ঞ্জয় দত্ত
খানে সেখানে ফেলা রাখা প্লাস্টিকের বোতল আর ক্যারিব্যাগের দূষণে জেরবার পরিবেশ। প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে নিরন্তর সচেতনতার বার্তা দেওয়া হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। বর্জ্যের পাহাড়ে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্লাস্টিকের বোতল আর ক্যারিব্যাগ। পরিবেশ বাঁচাতে এবার সেই প্লাস্টিককেই মূল উপকরণ করে তৈরি হয়েছে ইকো ব্রিকস। তার ব্যবহারে সেজে উঠছে দুর্গাপুরের পিসিবিএল (ফিলিপ্‌স ব্ল্যাক কার্বন) কারখানার বাগান। বাগান সাজানোর দায়িত্বে কাঁকসার আমলাজোড়া গ্রামের আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা ৯ খুদে। আনুষ্ঠানিক ভাবে এই বাগানের উদ্বোধন করা হবে আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে।ইকো ব্রিকস কী? পরিবেশবান্ধব এই নির্মাণসামগ্রী রাজ্যে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল কালিম্পংয়ে। ইকো ব্রিকস তৈরি করতে প্রয়োজন প্লাস্টিকের বোতল ও ফেলে দেওয়া ক্যারিব্যাগ। সংগ্রহের পর ভালো করে জলে ধুয়ে ক্যারিব্যাগগুলিকে টুকরো করে কেটে ঠেসে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় জলের বোতলে। এতটাই ঠেসে ঢোকানো হয় যে, ওই বোতলের উপর দাঁড়ালেও তা দুমড়ে যাবে না। একেবার ইটের মতো শক্ত থাকে। পলিব্যাগ ভর্তি এই প্লাস্টিকের বোতলই ইকো ব্রিকস।

দুর্গাপুরের বাসিন্দা অনামিকা ভট্টাচার্য দীর্ঘ দিন বাহরিনে ইকো ব্রিকস নিয়ে কাজ করেছেন। সম্প্রতি তিনি দুর্গাপুরের সংগঠন ছায়াসূর্য-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমলাজোড়া গ্রামের আদিবাসী কিশোর-কিশোরীদের ইকো ব্রিকস তৈরির পাঠ দিয়েছেন। এই সবুজ ইট দিয়ে কী ভাবে বাগান সাজানো যায় তাও তিনি তাদের শিখিয়েছেন হাতে-কলমে। ইকো ব্রিকস তৈরি ও তা দিয়ে বাগান সাজানোর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ওই সংগঠন। তা দেখে উৎসাহিত হয়ে কারখানার বাগান ইকো ব্রিকস দিয়ে সাজানোর প্রস্তাব দেন পিসিবিএল কর্তৃপক্ষ। আমলাজোড়া গ্রামের ৯ জন খুদেকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পিসিবিএল কারখানার বাগান সাজানোর কাজ শুরু করেন অনামিকা এবং ওই সংগঠনের সদস্যরা।

অনামিকা বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষার জন্য বিদেশের বহু জায়গায় ইকো ব্রিকসে কাজ হচ্ছে। এই দেশেও চালু হয়েছে। আমাদের রাজ্যে কালিম্পংয়ের পর দুর্গাপুরেই এর কাজ হচ্ছে।’ পিসিবিএলের মানব উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক কৌশিক মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও বোতল রং করে যে ভাবে বাগান সাজানো হয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। এরকম উদ্যোগ আরও নেওয়া প্রয়োজন। তাতে প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’

আমলাজোড়া গ্রামের আদিবাসী কিশোর-কিশোরীদের পড়াশোনার বাইরে নাচ-গান, আবৃত্তি শেখায় ছায়াসূর্য। সংগঠনের তরফে আশিস আকুড়ে বলেন, ‘একটি ৫০০ এমএলের প্লাস্টিক বোতলে প্রায় দু’বালতি ক্যারিব্যাগের টুকরো ভরা হয়েছে। এক লিটারের বোতলে আরও বেশি প্লাস্টিক লাগে। এই পদ্ধতিতে বাগান সাজালে দেখতেও সুন্দর লাগে ও পরিবেশ রক্ষা করা যায়।’ আমলাজোড়া গ্রামের খুদে বাসিন্দা পিউ বাদ্যকর ও শিল্পী টুডুর কথায়, ‘এত বড় কারখানার বাগান সাজিয়েছি আমরা। বেশ ভালো লাগছে। পরিবেশ বাঁচাতে এই ধরনের কাজ আরও করতে চাই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *