দলবদলের জেরেই কি যুবককে গুলি করে খুন, তরজা নদিয়ায় – bjp worker lost life after seven phase of lok sabha election 2024 in krishnanagar


এই সময়, কৃষ্ণনগর: বাড়ি থেকে মাত্র তিনশো মিটার দূরে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। শনিবার রাতে এই ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা যুক্ত বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। মাস তিনেক আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে হাফিজুল শেখ (৩৫) লোকসভা ভোটে ব্যাপক খাটাখাটি করে। সেই কারণে তাঁকে ‘টার্গেট’ করে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়।দলের নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অর্জুন বিশ্বাসের সঙ্গে রবিবার সকালে নিহতের বাড়িতে যান তিনি। সেখানেই তিনি বলেন, ‘পূর্ব পরিকল্পনা করে দলের কর্মীকে খুন করা হয়েছে।’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘খুনের ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।’

কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (গ্রামীণ) উত্তম ঘোষ বলেন, ‘দুষ্কৃতী দলের নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোলের জেরে এই খুন। এ ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক যোগ মেলেনি। নাসিম মণ্ডল নামের এক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও তদন্ত হচ্ছে।’ নিহত হাফিজুলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার রাতে দেবগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের পচা চাঁদপুরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি চায়ের দোকানের সামনে ক্যারাম খেলছিলেন হাফিজুল। দুষ্কৃতীরা তাঁকে ঘিরে ধরে প্রথমে গুলি পরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করে বলে অভিযোগ। পুলিশ এলে মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান নিহতের পরিবার ও বিজেপি সমর্থকরা।

নিহতের আত্মীয় জয়নুদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘এ বারের ভোটের আগে আমার নেতৃত্বে গ্রামের একশো সত্তর জন সংখ্যালঘু পরিবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। আগে কেউ কেউ সিপিএম করত। আমিও ওই দলে ছিলাম। মাস তিনেক আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে আমরা বিজেপিতে যোগ দিই। সংখ্যালঘু হয়েও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে তৃণমূলের টার্গেট হই আমরা। ভোটে হাফিজুল ভালো খেটেছিল। তাই সুযোগ পেয়ে ওকে খুন করেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময়ে আমি অন্য জায়গায় ছিলাম। যেখানে হাফিজুল খুন হয়েছে সেটা ওঁর বাড়ি থেকে মাত্র তিনশো মিটার দূরে। শনিবার রাতে জাতীয় সড়কের অন্য দোকান বন্ধ ছিল। শুধু আমার এক দাদা সুকু শেখের চায়ের দোকান খোলা ছিল। সেই দোকানের সামনে ক্যারাম খেলছিল হাফিজুল। দশ বারো জনের একটি সশস্ত্র দুষ্কৃতী দল ওঁকে ঘিরে ধরে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্রের কোপও দেয়। দুষ্কৃতীদের দু’টি গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওর চোখের ওপর থেকে মাথার খুলি উড়ে যায়। সেই অংশ পাওয়া যায়নি।’

চায়ের দোকানদার ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুকু শেখ বলেন, ‘গত পঞ্চায়েতে সিপিএমের টিকিটে জিতেছিলাম। তবে দল বদলাইনি। কিন্তু পরিবার ঘনিষ্ঠ অনেকেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় আমিও টার্গেট হই। প্রথমে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে আমি কোনক্রমে পালিয়ে যাই। যাদের সঙ্গে হাফিজুল ক্যারাম খেলছিল তাদের ভয় দেখানো হলেও আঘাত করা হয়নি।’

নদিয়ায় খুন বিজেপি কর্মী, বিক্ষিপ্ত অশান্তি অন্য জেলায়

কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়ের প্রশ্ন, খুনের আগে গ্রামের একটি চায়ের দোকান ছাড়া অন্য দোকানগুলো কেন বন্ধ করতে বলা হয়েছিল? কারা সেই দোকানগুলো বন্ধ করতে হুমকি দিয়েছিল, জানা দরকার। এটা একদমই পরিকল্পিত খুন।’ বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস বলেন, ‘সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ গ্রামে আগে আমাদের দলের কোনও সদস্য ছিল না। কিন্তু ভোটের আগে এ গ্রামের বেশ কিছু মানুষ আমাদের দলে যোগ দিয়েছিলেন। তারই জেরে টার্গেট ছিল হাফিজুল। একদম ছক কষে ওকে খুন করা হয়েছে।’

কালীগঞ্জের বাসিন্দা ও সিপিএমের নদিয়া জেলা কমিটির সদস্য দেবাশিস আচার্য বলেন, ‘তৃণমূলই এখানে সন্ত্রাস ও খুনের রাজনীতি আমদানি করেছে।’ নিহত যুবক তাদের দলের কর্মী কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে দেবাশিস বলেন,‘গ্রামীণ রাজনীতিতে দেখা যায় একই ব্যক্তি এক এক সময় নিজেকেএক এক দলের কর্মী বলে দাবি করছেন। এখানেও সেরকম একটা ব্যাপার আছে। যে দলের কর্মী হোক, খুনের ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *